
মুজিবের দেশ হিসেবে বিশ্বে বাংলাদেশ পরিচিত হয়েছিল উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানকে (বর্তমানে বাংলাদেশ) বহির্বিশ্ব সাহায্য করেছিল শেখ মুজিবুর রহমানের জন্য। তখন বাংলাদেশকে যারা চিনতো না তারা মুজিবের দেশ হিসেবে চিনতো৷ পাকিস্তানি সেনা শাসকরা বলেছিল মুজিব ইজ দ্যা গ্রেটার। অন্য কারো কথাতো বলে নাই। তখন সারাবিশ্বময় বাংলাদেশকে যারা চিনত না তখন বাংলাদেশের কথা বল্লে তারা বলতো ও মুজিবের দেশ। অর্থাৎ বাংলাদেশ পরিচিতি পেয়েছিল মুজিবের দেশ হিসেবেই। আর বাঙালি পরিচিতি পেয়েছি মুজিবের লোক হিসেবে। তার নামেই যুদ্ধটি পরিচালিত হয়। যুদ্ধের সময় আমাদের প্রথম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হল। সেটাকে বলা হলো মুজিবনগর সরকার। যে জায়গাটিতে তৈরি হলো তার নাম দেওয়া হলো মুজিবনগর। মুজিবের নামে পুরো যুদ্ধটি পরিচালিত হলো। এবং সারাবিশ্ব যে সহায়তা করলো সেটা মুজিবের নামেই করলো।
বুধবার (২৪ আগষ্ট) দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র: পেছন ফিরে দেখা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর কাছে ক্ষমতা কোন আকর্ষণীয় বিষয় ছিল না। হ্যা তবে ক্ষমতায় যেতে হবে মানুষের অধিকারের জন্য। যেমনটি তার কন্যা ও বলেন, আমার ক্ষমতায় যেতে হবে কারণ আমি মানুষের জন্য এই কাজটি করতে চাই। আর মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে চাই। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে তার ক্ষমতার প্রতি কোনদিন কোন মৌহছিল না এবং সমস্ত কাজই তার মানুষকে নিয়ে। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে নিজের মধ্যে ধারণ করে সবার মধ্যে সেটি ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি মানুষের বাইরে আর কিছু ভাবতেন না। স্বাধীনতা অর্জনের জন্য মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে এই চেতনা বঙ্গবন্ধু সবসময় লালন করতেন।
ডা. দীপু মনি বলেন, ‘মানুষকে সম্পৃক্ত করা বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে আজকে আমাদের খুবই সহজ। আজকে আমাদের ইন্টারনেট আছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আছে আজকে পদ্মা সেতু হয়ে গেছে। এখন এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়া খুব সহজ হয়ে গেছে। আজকে বাংলাদেশে প্রত্যন্ত অঞ্চল বলে তেমন কিছু নেই। এমন কোন জায়গা নেই যেখানে সাত আট ঘণ্টার মধ্যে যাওয়া যায় না। এমনকি একেবারে চর অঞ্চল এবং আমার নিজের নির্বাচনী এলাকা পদ্মা মেঘনার চর অঞ্চল অনেক আছে অনেক মানুষ সেখানে বসবাস করে। সে অঞ্চলেও এখন নদীর নিচ দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে এটা অবিশ্বাস্য। এইযে সারাদেশ সংযুক্ত হয়ে গেছে।’
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশ জনসংখ্যার দিক দিয়ে অনেক বড় কিন্তু ভৌগলিক দিক থেকে খুবই ছোট। সেই দেশটিকে আরো ছোট করে নিয়ে আসা কিন্তু আগে এই অবস্থা ছিল না। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার আগেও ছিল না। আর বঙ্গবন্ধু যে সময়ে রাজনীতি করেছিল সে সময় তো ছিলই না কিন্তু সেই সময়ে কি করে বঙ্গবন্ধু সারাদেশে মানুষের সাথে এমনভাবে সম্পৃক্ততা তৈরি করেছিলেন। সময়ের হিসেবে সেটি খুব সাংঘাতিক বর্ণনা ২৩ বছরের। সেই সময়ের মধ্যে তিনি আবার ১৪ বছর কারাগারে কাটিয়েছেন। তাহলে এই যে নয় দশ বছরের সময় তার মধ্যে তিনি বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে গিয়েছেন। আপনি বাংলাদেশ এমনকোন অঞ্চল খুঁজে পাবেন না যেখানে বঙ্গবন্ধু অন্তত একবার যায়নি। এইযে সারা দেশকে সম্পৃক্ত করা মানুষকে সংগ্রামের জন্য সম্পৃক্ত করা মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা।’
দীপু মনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু এক সময় বলেছিলেন সারাদেশে সব বাতি লাগিয়ে এসেছি একটা সুইচ টিপবো সারাদেশে একসঙ্গে বাতি জ্বলে উঠবে। ঠিক ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তাই হয়েছিল। তিনি কোনোদিন কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নেননি মানুষের কল্যাণের চিন্তা করতেন সবসময়। একাত্তরে যখন এদেশের গণমানুষের ওপর আক্রমণ করে পাকিস্তানিরা তখনই বঙ্গবন্ধু সবাইকে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য লড়াইয়ে নামার আহবান জানান। যাতে সাড়া দিয়েই সাধারণ মানুষ নিজের জীবন বাজি রেখেই যুদ্ধে নামে এবং স্বাধীনতা ছিনিয়ে নিয়ে আসেন।’
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সপ্তম নৌবহর পাঠিয়ে ছিলো আমাদের স্বাধীনতাকে প্রতিহত করার জন্য কিন্তু সেই সময়ে তাদের জনগন ও বহু জন প্রতিনিধি আমাদের পক্ষে ছিলো। যদিও তাদের সরকার আমাদের বিপক্ষে ছিলো। আমরা সেই সময়ে সারা বিশ্বের মানবিকতার সমর্থন পেয়েছিলাম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শৈশবকাল থেকেই বাঙালি জাতির স্বাধিকারের বিষয়ে সজাগ ছিলেন। মেহনতী মানুষের কল্যাণে নিজের জীবনকে উজাড় করে দিয়েছিলেন। স্বাধীনতা পরবর্তীতে বাঙালি জাতির ভাগ্য পরিবর্তন ও দেশকে গড়ার কাজে বঙ্গবন্ধু নিজেকে সম্পূর্ণরূপে আত্মনিয়োগ করেছিলেন।’
উপাচার্য আরো বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যাকা- বিশ্বব্যাপী নিন্দিত। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডে পিছনে ছিলো সুদীর্ঘ ষড়যন্ত্র। শুধুমাত্র সরাসরি হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের শাস্তির কার্যকর করলেই চলবে না। হত্যাকান্ডের সময় সহযোগীরা কোথায় ছিলো, পিছনের কুশীলব কারা ছিল এসকল তথ্য অনুসন্ধান করতে হবে। এছাড়া বঙ্গবন্ধু সপরিবারে হত্যাকান্ডের পর কারা কারা প্রতিরোধ ও প্রতিবাদ করেছিলো, তাদেরকেও সম্মানীত করতে হবে।’
বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাকে ইতিহাসের নৃশংস হত্যাকা উল্লেখ করে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সপরিবারের হত্যাকা কোনো আকস্মিক হত্যাকা নয়। এই বিষয়ে আরো তথ্য অনুসন্ধান করার প্রয়োজন রয়েছে। মূলত সদ্য স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশকে পিছিয়ে দেওয়ার জন্যই এই জঘন্য হত্যাকা সংঘটিত হয়েছিলো।’
এসময় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, সাংবাদিক প্রতিনিধিবৃন্দ ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জবি সংবাদদাতা 







































