
নেত্রকোনায় পুলিশ ও বিএনপির নেতা-কর্মীরদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর)সকাল ১০টার দিকে শহরের ছোটবাজার এলাকায় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে।এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে আসছিলেন। এ সময় শহরের প্রধান সড়কে সহস্রাধিক নেতা-কর্মী জড়ো হওয়ায় যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ নেতা-কর্মীদের রাস্তা থেকে সরে যেতে বলে কিন্তু উত্তেজিত নেতা-কর্মীরা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে মিছিল করতে থাকেন। পরে পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটা করলে বিএনপির নেতা-কর্মীরা পুলিশের দিকে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করেন। এতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ ফকরুজ্জামান জুয়েল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মুরশেদা খাতুনসহ অন্তত ১৫ পুলিশ সদস্য আহত হন।
এ সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে আহত হন জেলা যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সুজন চৌধুরী, নেত্রকোনা সরকারি কলেজ শাখার ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান, পৌর ছাত্রদলের সহসভাপতি বাপ্পী, প্রান্ত পাঠান, যুবদল নেতা ফারুক আবদুল খালেকসহ বিএনপির ২০ নেতা-কর্মী। আহত ব্যক্তিদের নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালসহ স্থানীয় বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
নেত্রকোনা জেলা বিএনপির যুগ্ম–আহ্বায়ক এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলাকালে পুলিশ এসে লাঠিপেটা করে আমাদের ওপর হামলা চালায়। পরে রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। এতে আমাদের ২০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।’
নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফকরুজ্জামান জুয়েল বলেন, ‘বিএনপির দলীয় কার্যালয়টি শহরের প্রধান সড়কের পাশে। সেখানে সহস্রাধিক নেতা-কর্মী রাস্তা বন্ধ করে সমাবেশ করছিলেন। পুলিশ তাঁদের রাস্তা বন্ধ না করে রাস্তার পাশে কর্মসূচি পালন করতে বলায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা পুলিশের ওপর প্লাস্টিকের চেয়ার, ইটপাটকেল ছোড়েন। এতে তিনিসহ ১৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
শফিকুল আলম সজীব, জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোনা 







































