
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। পূর্বঘটনার জেরে গত ২ আগস্ট ক্যাম্পাসে দফায় দফায় এই সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় ক্ষতিপুরণ, দোষীদের শাস্তির দাবি এবং নিরাপত্তা চেয়ে শনিবার (০৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী খন্দকার তাসওয়ার হোসেন। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এদিকে একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘রাত ২ টার দিকে অর্তিকত হামলার’ অভিযোগে এর সুষ্ঠু বিচার চেয়ে প্রক্টর বরাবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছে জহুরুল ইসলাম রিংকু। সে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
অভিযোগপত্রে শিক্ষার্থী খন্দকার তাসওয়ার হোসেন বলেন, গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর রুমে ফেরার পথে কোন কারন ছাড়াই অতর্কিতভাবে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রিংকু, ফিনান্স বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আশিক, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী জিহাদ, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হামজা, লোকপ্রশাসন বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জামিল, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আশিক কোরাইশি ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মিনহাজসহ ৪০ থেকে ৫০ জন পিছন থেকে আমার উপর হামলা করে। আমার একটি চক্ষু ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আগামী ৬ তারিখ আমার সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা। কিন্তু ডাক্তার আমার ৭ দিনের বিশ্রাম নিতে বলেছেন যার ফলে আমি পড়তে পারছি না। আমি এই হামলার সুষ্ঠু বিচার আমার নিরাপত্তা ও ক্ষতিপুরণ দাবি করছি।
এদিকে জহুরুল ইসলাম রিংকু তার অভিযোগপত্রে বলেন, গত ০১ সেপ্টেম্বর শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে রাত ২ টার দিকে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের র্থীদের দ্বারা হামলার শিকার হই। ঐসময় হলের লাইট অফ করে স্টাম্প ও লাঠি দিয়ে তারা বেধড়ক মারধর করে। তাতে আমি ইঞ্জুরির শীকার হই। এই ঘটনার তিন দিন আগে ল অ্যান্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হুজ্জাতুল্লাহ ভূঁইয়ার সাথে নাম পরিচয় জিজ্ঞেস করলে অশালীন আচারণ করে এবং এ নিয়ে বাকবিতন্ডা ও তর্ক হয়। এই ঘটনার জের ধরে তারা আমার উপর গত ১ আগস্ট ১০-১২ জন মিলে অতর্কিত হামলা করে। একজন বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে আমি এই ঘটনার বিচার চাই।
এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এই বিষয়ে দুইটা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আগামীকালকে তাদের সাথে এই বিষয়ে কথা বলবো। যারা আগে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে তাদেরকে আগে প্রধান্য দেয়া হবে, এরপর দ্বিতীয় জনকে।
প্রসঙ্গত, গত ২৭ আগস্ট রাতে আইন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হুজ্জাতুল্লাহ ভূঁইয়া লুঙ্গি পরে ক্যাম্পাসের জিয়া মোড়ে আসেন। রুমে ভর্তি পরীক্ষার্থী আসায় তাকে রুমে রেখে কিছুসময়ের জন্য লুঙ্গি পরে বাইরে বের হন বলে জানায় হুজ্জাতুল্লাহ। এসময় ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জহুরুল ইসলাম রিংকু তাকে ডেকে লুঙ্গি পরে বাইরে আসার কারণ জানতে চান। একপর্যায়ে তারা বাগবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়লে রিংকু তাকে থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ হুজ্জাতুল্লাহর। পরে ১লা সেপ্টেম্বর রাত ২টার দিকে হলে ঢোকার সময় হুজ্জাতুল্লাহ এবং তার বন্ধু আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের আল আমিন সহ জুনিয়রদের দ্বারা মারধরের শিকার হন বলে জানায় রিংকু। পরে এ ঘটনার জেরে ২ সেপ্টের ফের মারামারিতে জড়ায় তারা। ওইদিন জুমার নামাজের পর আল আমিনসহ তার বন্ধুদের মারধর সিনিয়র শিক্ষার্থী রিংকু ও তার বন্ধুরা মারধর করেন বলে জানায় ভুক্তভোগী আল আমিন। এ সময় ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী হামজাসহ তার বন্ধুরা ছিলেন বলে অভিযোগ আল আমিনের। পরে শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হোসাইন মজুমদারসহ সিনিয়র কর্মীরা সবাইকে হলে পাঠিয়ে দেন। পরে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের ডাইনিংয়ে খেতে গেলে ফিন্যান্স এন্ড ব্যংকিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের আশিক মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ উঠে। এ সময় আল আমিনের বন্ধু হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শুভ্র ভৌমিক, অর্ক ও আইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের সুমন লাঠি দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ আশিকের। আশিককে মারধরের ঘটনা জানার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল থেকে তার বন্ধুরা লাঠি, স্টাম্প, রড নিয়ে বের হন। এদিকে জিয়াউর রহমান হলে আল আমিনের বন্ধু ও সিনিয়ররাও রড, লাঠি ও হকিস্টিক নিয়ে মহড়া দিতে থাকেন। পরে শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাতসহ সিনিয়র কর্মীরা দুই পক্ষকে শান্ত করেন।
ইবি প্রতিনিধি 







































