বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মানবতাবিরোধী অপরাধ: নেত্রকোনার খলিলুরের মৃত্যুদণ্ড

প্রতীকী ছবি

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নেত্রকোনার দুর্গাপুরের খলিলুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।আজ মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে, গত ১৮ জুলাই শুনানি শেষে মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রেখে আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলা বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এটি ৪৮তম রায়।

মামলার আসামি খলিলুর এখনও পলাতক। তবে অপর চার আসামি- আজিজুর রহমান (৬৫), আশক আলী (৮২) ও মো. শাহনেওয়াজ (৮৮) ও খলিলুর রহমান (৭২) মামলা বিচারাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

মামলাটিতে প্রসিকিউশন পক্ষে শুনানিতে ছিলেন প্রসিকিউটর রানা দাস গুপ্ত ও রেজিয়া সুলতানা চমন। অপরদিকে গ্রেপ্তার তিন আসামির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মাসুদ রানা ও পলাতক আসামির পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী গাজী এমএইচ তামিম।

এর আগে ২০১৭ সালের ৩০ জানুয়ারি এ মামলার তদন্ত শেষ হয়। শুরুর দিকে এ মামলায় আসামি ছিল পাঁচ জন। এরমধ্যে এক আসামি রমজান আলী ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। বাকি চার আসামির মধ্যে বিচার চলাকালে তিন আসামির মৃত্যু হয়।

এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে দুর্গাপূর ও কলমাকান্দা থানা এলাকায় অবৈধ আটক, নির্যাতন, অপহরণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগে ধ্বংস করা, ধর্ষণের চেষ্টা, ধর্ষণ, হত্যা ও গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়।

এর মধ্যে এক অভিযোগে ২২ জনকে হত্যা, একজনকে ধর্ষণ, একজনকে ধর্ষণের চেষ্টা, অপহৃত চার জনের মধ্যে দুই জনকে ক্যাম্পে নির্যাতন, ১৪-১৫টি বাড়িতে লুটপাট এবং সাতটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আসামিদের মধ্যে খলিলুর রহমান ইসলামী ছাত্র সংঘের সদস্য ছিলেন। যুদ্ধের সময় রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেন। পরে চন্ডিগড় ইউনিয়নে আল বদর বাহিনীর কমান্ডার হন। বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক।

জনপ্রিয়

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ায় অমিতকে প্রেসক্লাব বেনাপোলের অভিনন্দন

মানবতাবিরোধী অপরাধ: নেত্রকোনার খলিলুরের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশের সময় : ০১:০৬:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নেত্রকোনার দুর্গাপুরের খলিলুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।আজ মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে, গত ১৮ জুলাই শুনানি শেষে মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রেখে আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলা বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এটি ৪৮তম রায়।

মামলার আসামি খলিলুর এখনও পলাতক। তবে অপর চার আসামি- আজিজুর রহমান (৬৫), আশক আলী (৮২) ও মো. শাহনেওয়াজ (৮৮) ও খলিলুর রহমান (৭২) মামলা বিচারাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

মামলাটিতে প্রসিকিউশন পক্ষে শুনানিতে ছিলেন প্রসিকিউটর রানা দাস গুপ্ত ও রেজিয়া সুলতানা চমন। অপরদিকে গ্রেপ্তার তিন আসামির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মাসুদ রানা ও পলাতক আসামির পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী গাজী এমএইচ তামিম।

এর আগে ২০১৭ সালের ৩০ জানুয়ারি এ মামলার তদন্ত শেষ হয়। শুরুর দিকে এ মামলায় আসামি ছিল পাঁচ জন। এরমধ্যে এক আসামি রমজান আলী ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। বাকি চার আসামির মধ্যে বিচার চলাকালে তিন আসামির মৃত্যু হয়।

এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে দুর্গাপূর ও কলমাকান্দা থানা এলাকায় অবৈধ আটক, নির্যাতন, অপহরণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগে ধ্বংস করা, ধর্ষণের চেষ্টা, ধর্ষণ, হত্যা ও গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়।

এর মধ্যে এক অভিযোগে ২২ জনকে হত্যা, একজনকে ধর্ষণ, একজনকে ধর্ষণের চেষ্টা, অপহৃত চার জনের মধ্যে দুই জনকে ক্যাম্পে নির্যাতন, ১৪-১৫টি বাড়িতে লুটপাট এবং সাতটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আসামিদের মধ্যে খলিলুর রহমান ইসলামী ছাত্র সংঘের সদস্য ছিলেন। যুদ্ধের সময় রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেন। পরে চন্ডিগড় ইউনিয়নে আল বদর বাহিনীর কমান্ডার হন। বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক।