
যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি রেলস্টেশনের পাশে হঠাৎপাড়ায় পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের গণপিটুনিতে রিকসা চালক আলম মন্ডল (৪০) নিহতের ঘটনায় কোতয়ালি থানায় একটি মামলা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী রেকসোনা বেগম ১১জনের নাম উল্লেখ করে এ মামলাটি করেছেন।
এ ঘটনায় পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তার দুইজন হলো, চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছাতিয়ানতলা গ্রামের দাউদ হোসেনের ছেলে তানভির হাসান রক্সি (৩২) এবং চুড়ামনকাটি গ্রামের আবু বক্কার সিদ্দিকীর ছেলে মানিক (৪০)।
এছাড়া পলাতক আসামিরা হলো, মোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে মেহেদী হাসান রুনু (৩২), ছাতিয়ানতলা মাঠপাড়ার মোহাম্মদ শহিদের ছেলে সুমন হোসেন (৩৫), চুড়ামনকাটি কুটিপাড়ার ওসমান আলীর ছেলে মাহমুদুর হাসান মামুন (৪০), ছাতিয়ানতলা মন্ডল পাড়ার জালাল হোসেনের ছেলে স্বাদ হোসেন (২৫), চুড়ামনকাটির রবির ছেলে রকি (৩৫), বাগডাঙ্গা পালপাড়ার মজনুর ছেলে ইকরাম হোসেন (৩৯), শ্যামনগর গ্রামের আষাঢ়ের ছেলে বাদল (৪২), বাগডাঙ্গা মধ্যপাড়ার মৃত সৈয়দ আলীর ছেলে আমিরুল ইসলাম (৪৫) এবং চুড়ামনকাটির মোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে রানা (৪০)।
নিহতের স্ত্রী রেকসোনা বলেন, ছাতিয়ানতলা হঠাৎপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি ও তার স্বামী স্বপরিবারের বসবাস করে আসছেন। আসামিদের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে তার স্বামীর পূর্ব শত্রুতা গড়ে উঠে। বর্তমানে তিনি শহরের পালবাড়ি মোড়ের এলজিইডি অফিসের সামনের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন। ৪/৫ দিন আগে তিনি চুড়ানমনকাটির পুরনো বাড়িতে গেলে রেলস্টেশনের সামনে আসামিদের সাথে দেখা হয়। সে সময় তারা হুমকি দিয়ে আলমকে ভাল হয়ে যেতে বলে। তা নাহলে যে কোনো সময় মার্ডার করে ফেলবো। এছাড়া এলাকায় আসতে নিষেধ করে তারা।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর বেলা ১টার দিকে আলম ছাতিয়ানতলায় পুরনো বাড়ির সামনে গেলে আসামিরা তাকে ধরে একটি গাড়িতে তুলে কাজীর বাগান এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারপিট করে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। রেকসোনা লোকমুখে সংবাদ পেয়ে সেখানে গিয়ে তার স্বামীকে উদ্ধার করে একটি ইজিবাইকে করে যশোরে জেনারেল হাসপাতলে নিয়ে যাওয়ার জন্য উঠান। ইজিবাইকের মধ্যে মৃত্যুর আগে তার স্বামী আলম আসামিদের নাম পরিচয় জানিয়ে দেয়। বেলা ৩ টার দিকে যশোরে জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
রেকসোনা বলেন, আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে তার স্বামীকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে।
এদিকে ঘটনার পরপরই যশোরের ডিবি পুলিশ চুড়ামনকাটিতে অভিযান চালিয়ে এই হত্যা মামলার প্রধান আসামি রুক্সিকে আটক করে। এরপর অপর আসামি মানিককেও আটক করে। শনিবার তাদের আদালতে হাজির করা হলে আসামি মানিক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সালমান আহমেদ শুভ আসামির জবানবন্দি ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করেন।
বার্তা/এন
যশোর প্রতিনিধি 






































