
ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার শাক্তা ইউনিয়নের বলসুতা এলাকায় রাস্তা ছাড়াই অপ্রয়োজনীয় স্থানে নির্মিত হয়েছে একটি ৩৬ ফিটের সেতু। দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সেতু/কালভার্ট নির্মাণ প্রবল্প ২০২০-২০২১ এর মাধ্যমে ৩০ লাখ ৭০ হাজার ৯৪৮ টাকা ব্যায়ে নির্মিত সেতুটির একাপাশে পাকা রাস্তা থাকলেও অন্যপাশে কোন রাস্তাই নেই, নেই কোন বসতি। স্থানীয়দের দাবী শুধুমাত্র ব্যাক্তিস্বার্থে সরকারি অর্থায়নে এ সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। অন্যদিকে কর্তৃপক্ষ দাবী করছে সরকারি নকশায় রাস্তা আছে বলেই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খালের উপর নির্মিত সেতুটির একপাশে নুরুন্ডি থেকে শাক্তাগামী পাকা রাস্তা অন্যদিকে ৩০ ফিট সেতু পার হয়েই ৬০ ফিট আরেকটি বাঁশের সাকো। বাঁশের সাকো যেখানে শেষ হয়েছে সেখানে প্রবাসী ২ ভাইয়ের একটি নির্মাণাধীন ভবন রয়েছে। এছাড়া সেতুর অপরপ্রান্তে কোন বাড়ী বা কৃষিজমি দেখা যায়নি। এলাকার স্থানীয় বাসিন্ধা কাশেম বলেন, যেখানে সেতুর প্রয়োজন সেখানে সেতু নেই। অথচ এখানে সেতুর কোন প্রয়োজন নেই তবুও ব্যাক্তি সার্থে এখানে সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুর অপর প্রান্তে একটি নির্মাধিন বাড়ি ছাড়া অন্য কোন বাড়ী ঘর বা বসতি না থাকায় সেতুটি কোন কাজেই ব্যবহার করা হচ্ছে না। এতে সেতুর দুইপ্রান্তে জন্মে গেছে ঘাস। এছাড়া লোকজনের যাতায়াত না থাকায় সন্ধ্যার পরেই সেতুতে বসে বখাটেদের আড্ডা । সেতুর অপর প্রান্তে প্রবাসী ২ ভাইয়ের একটি নির্মাণাধীন ভবন। যেটি সবসময় তালাবদ্ধ থাকে।
এ ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাজি সালাউদ্দিন লিটন বলেন, তিনি ইউপি চেয়ারম্যান থাকাকালিন সময় এ সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিলো। সরকারী নকশা অনুযায়ী সেতুর পার থেকে বটতলা পর্যন্ত ২০ ফিট চওড়া সরকারী রাস্তা রয়েছে। আমাদের পরিকল্পনা ছিলো সরকারি হালট উদ্ধার করে রাস্তা তৈরী করে দেয়া। কিন্তু আমি আর সেটা শেষ করতে পারিনি। সেতু থেকে নেমে যাওয়ার রাস্তাটি করে দিতে পারলে ঐ এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হতো।
রাস্তা নেই অথচ সেতু কেন নির্মিত হলো এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তাবায়ন কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, সকল প্রকার সম্ভাব্যতা যাচাই করেই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। তাছাড়া সেতুটির অপর প্রান্তে সরকারি নকশায় রাস্তা রয়েছে। ভবিষ্যতে বরাদ্দ এলেই রাস্তটিও নির্মাণ করে দেয়া হবে।
বার্তাকণ্ঠ/এন
দেলোয়ার হোসেন ।। ঢাকা ব্যুরো 







































