মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাভারে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার হামলায় ব্যবসায়ী মৃত্যু

সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর এলাকার জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতার হামলায় আহত ফার্মেসী ব্যবসায়ী হোসেন আলী (৪০) সাভারের এনাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
শুক্রবার (০৯ ডিসেম্বর) ভোর রাতে সাভারের এনাম মেডিকেলে নিউরো-আইসিইউ’তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। আজ সকাল ১০ টার দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন এনাম মেডিকেল অ্যান্ড কলেজের ডিউটি ম্যানেজার ইউসুফ আলী।নিহত হোসেন আলী সাভার রাজফুলবাড়িয়ার রামচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত শফিতুল্লার ছেলে। তিনি পেশায় একজন ফার্মেসি ব্যবসায়ী ছিলেন।
অভিযুক্তরা হলেন- ঢাকা জেলা উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সাবু, তার সহযোগী আনোয়ার হোসেন, মো. আব্বাস বাদল, কামরুল, নাঈম, আনিস ও মুন্নাসহ অজ্ঞাত ১০-১২ জন। তারা সবাই রাজফুলবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শফিকুল ইসলাম সাবু ও নিহতের পরিবারের মধ্যে বিরোধ চৱে আসছিল। বিরোধের জেরে গত ২৬ নভেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে হোসেন ও তার ভাই খোরশেদ রিকশায় রাজফুলবাড়ীয়া এলাকায় নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। এসময় রামচন্দ্রপুর এলাকায় পৌছলে অভিযুক্তরা তাদের গতিরোধ করে দেশীয় অস্ত্র ছুরি, রাম দা দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যায়। এসময় জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন স্থানীয়রা। অবস্থার অবনতি হলে তাকে এনাম মেডিকেলের নিউরো আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ভোর রাতে হোসেন আলী মারা যান।
হোসেনের ছোট ভাই মোর্শেদ আলী বলেন, সেদিন আমিও ভাইয়ের সাথে ছিলাম। আমাকেও চুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত জখম করা হয়। কিন্তু আমি বেঁচে গেলেও আমার ভাইকে বাঁচাতে পারলাম না। সাবু তো সন্ত্রাসী আহে থেকেই, তার বিরুদ্ধে ১০-১২টা জিডিসহ একাধিক ভূমিদস্যু মামলা রয়েছে। সে তার দলবল নিয়ে আমার ভাইকে মেরে ফেললো।
অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা জেলা উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সাবু বলেন, হোসেনের চাচাতো ভাইদের সাথে আমার জমি সংক্রান্ত বিরোধ ছিল, কিন্তু হোসেনের সাথে তো আমার কোন বিরোধ নেই। আর হোসেনের সাথে তো অনেক লোকের ঝামেলা রয়েছে। কে বা কারা তাদের মেরেছে এব্যাপারে তো আমি জানি না। তারা অযথা দোষারোপ করছেন।
ঢাকা জেলা উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘এব্যাপারে আমি কিছু জানি না। তবে আইনগত বা সামাজিকভাবে কেউ অপরাধী হয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
সাভার টেনারি ফাড়ির এসআই আব্দুল জলিল বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
জনপ্রিয়

গর্ভাবস্থায় যে ৫ ভুল করা যাবে না

সাভারে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার হামলায় ব্যবসায়ী মৃত্যু

প্রকাশের সময় : ১১:১০:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২
সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর এলাকার জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতার হামলায় আহত ফার্মেসী ব্যবসায়ী হোসেন আলী (৪০) সাভারের এনাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
শুক্রবার (০৯ ডিসেম্বর) ভোর রাতে সাভারের এনাম মেডিকেলে নিউরো-আইসিইউ’তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। আজ সকাল ১০ টার দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন এনাম মেডিকেল অ্যান্ড কলেজের ডিউটি ম্যানেজার ইউসুফ আলী।নিহত হোসেন আলী সাভার রাজফুলবাড়িয়ার রামচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত শফিতুল্লার ছেলে। তিনি পেশায় একজন ফার্মেসি ব্যবসায়ী ছিলেন।
অভিযুক্তরা হলেন- ঢাকা জেলা উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সাবু, তার সহযোগী আনোয়ার হোসেন, মো. আব্বাস বাদল, কামরুল, নাঈম, আনিস ও মুন্নাসহ অজ্ঞাত ১০-১২ জন। তারা সবাই রাজফুলবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শফিকুল ইসলাম সাবু ও নিহতের পরিবারের মধ্যে বিরোধ চৱে আসছিল। বিরোধের জেরে গত ২৬ নভেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে হোসেন ও তার ভাই খোরশেদ রিকশায় রাজফুলবাড়ীয়া এলাকায় নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। এসময় রামচন্দ্রপুর এলাকায় পৌছলে অভিযুক্তরা তাদের গতিরোধ করে দেশীয় অস্ত্র ছুরি, রাম দা দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যায়। এসময় জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন স্থানীয়রা। অবস্থার অবনতি হলে তাকে এনাম মেডিকেলের নিউরো আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ভোর রাতে হোসেন আলী মারা যান।
হোসেনের ছোট ভাই মোর্শেদ আলী বলেন, সেদিন আমিও ভাইয়ের সাথে ছিলাম। আমাকেও চুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত জখম করা হয়। কিন্তু আমি বেঁচে গেলেও আমার ভাইকে বাঁচাতে পারলাম না। সাবু তো সন্ত্রাসী আহে থেকেই, তার বিরুদ্ধে ১০-১২টা জিডিসহ একাধিক ভূমিদস্যু মামলা রয়েছে। সে তার দলবল নিয়ে আমার ভাইকে মেরে ফেললো।
অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা জেলা উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সাবু বলেন, হোসেনের চাচাতো ভাইদের সাথে আমার জমি সংক্রান্ত বিরোধ ছিল, কিন্তু হোসেনের সাথে তো আমার কোন বিরোধ নেই। আর হোসেনের সাথে তো অনেক লোকের ঝামেলা রয়েছে। কে বা কারা তাদের মেরেছে এব্যাপারে তো আমি জানি না। তারা অযথা দোষারোপ করছেন।
ঢাকা জেলা উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘এব্যাপারে আমি কিছু জানি না। তবে আইনগত বা সামাজিকভাবে কেউ অপরাধী হয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
সাভার টেনারি ফাড়ির এসআই আব্দুল জলিল বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের মর্গে পাঠানো হয়েছে।