শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাশিয়া কি শেষ পর্যন্ত নিউক্লিয়ার বোমার ব্যবহার করবে?

রাশিয়ায় দুই ধরনের নিউক্লিয়ার বোমা আছে। ট্যাক্টিকাল আর স্ট্র‍্যাটেজিক। এখানে সোভিয়েত আমলের এক সিস্টেম নিয়ে বলব। এটার নাম প্যারিমিটার। এটার ডেভেলপার ছিলেন Vladimir Yarynich. আর এটা তৈরি হয়েছিল ১৯৮৫ সালে। বর্তমানে এই সিস্টেমের দেখভাল করে রাশিয়ার স্ট্র‍্যাটেজিক রকেট ফোর্স। আর পশ্চিমারা এটাকে বলে ডেডহ্যান্ড ( Deadhand). এটা তৈরি হয়েছিল মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউক্লিয়ার বোমার জবাব দেওয়ার জন্য। যদি সোভিয়েত ইউনিয়নে (বর্তমানে রাশিয়া) প্রথমে কেউ নিউক্লিয়ার বোমার আক্রমণ চালায় আর রাশিয়ায় এটার জবাব দেওয়ার মতো কেউ বেঁচে না থাকেন, তখন এই সিস্টেমের মাধ্যমে যেন রাশিয়া জবাব দিতে পারে সেই জন্য এটি তৈরি করা হয়েছিল।

এই সিস্টেম অনুযায়ী রাশিয়ার সকল নিউক্লিয়ার বোমা একসাথে যুক্ত এবং একইসাথে লঞ্চ হতে পারে। এই সিস্টেম প্রথমে বায়ুচাপের পরিবর্তন, তাপমাত্রা, তেজস্ক্রিয়তা ইত্যাদি বিশ্লেষণ করে নিউক্লিয়ার বোমার লঞ্চ হওয়ার অবস্থা কিনা চেক করবে। আর যদি এরকম কোন পরিবর্তন দেখা যায় তাহলে এই সিস্টেম নিজ থেকেই এক্টিভেট হয়ে যাবে। এবং রাশিয়ার সমস্ত নিউক্লিয়ার বোমা, ICBM একসাথে লঞ্চ হবে। এই প্যারিমিটার সিস্টেমের মাধ্যমে রেডিও জ্যাম থাকলেও রকেট লঞ্চ করা সম্ভব।

যদিওবা এটা কি মিথ বা সত্য কিনা যাচাই করা যায়নি। তবে ২০১১ সালে রাশিয়ার স্ট্র‍্যাটেজিক মিসাইল ফোর্সের কর্নেল জেনারেল এই সিস্টেমের কথা স্বীকার করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এরকম সিস্টেম থাকার কথা বলা হলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার মতো অটোমেটিক ট্রিগার সিস্টেম রাখেনি বলেই জানা যায়।

‘‘ভ্লাদিমির পুতিন একট কথা বলেছিলেন, সে পৃথিবী থেকে কি হবে, যে পৃথিবীতে রাশিয়া থাকবেনা!’’এই ডেডহ্যান্ড ব্যবস্থাটাই যেন তার কথার যোগ্য প্রতিফলন!

তথ্যসূত্র: military . Com এবং আব্দুল্লাহ আল মুহাম্মদ তাইসির।

জনপ্রিয়

যশোরে আসামি জামিনে বেরিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষককে মারধর

রাশিয়া কি শেষ পর্যন্ত নিউক্লিয়ার বোমার ব্যবহার করবে?

প্রকাশের সময় : ০৮:৫৪:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

রাশিয়ায় দুই ধরনের নিউক্লিয়ার বোমা আছে। ট্যাক্টিকাল আর স্ট্র‍্যাটেজিক। এখানে সোভিয়েত আমলের এক সিস্টেম নিয়ে বলব। এটার নাম প্যারিমিটার। এটার ডেভেলপার ছিলেন Vladimir Yarynich. আর এটা তৈরি হয়েছিল ১৯৮৫ সালে। বর্তমানে এই সিস্টেমের দেখভাল করে রাশিয়ার স্ট্র‍্যাটেজিক রকেট ফোর্স। আর পশ্চিমারা এটাকে বলে ডেডহ্যান্ড ( Deadhand). এটা তৈরি হয়েছিল মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউক্লিয়ার বোমার জবাব দেওয়ার জন্য। যদি সোভিয়েত ইউনিয়নে (বর্তমানে রাশিয়া) প্রথমে কেউ নিউক্লিয়ার বোমার আক্রমণ চালায় আর রাশিয়ায় এটার জবাব দেওয়ার মতো কেউ বেঁচে না থাকেন, তখন এই সিস্টেমের মাধ্যমে যেন রাশিয়া জবাব দিতে পারে সেই জন্য এটি তৈরি করা হয়েছিল।

এই সিস্টেম অনুযায়ী রাশিয়ার সকল নিউক্লিয়ার বোমা একসাথে যুক্ত এবং একইসাথে লঞ্চ হতে পারে। এই সিস্টেম প্রথমে বায়ুচাপের পরিবর্তন, তাপমাত্রা, তেজস্ক্রিয়তা ইত্যাদি বিশ্লেষণ করে নিউক্লিয়ার বোমার লঞ্চ হওয়ার অবস্থা কিনা চেক করবে। আর যদি এরকম কোন পরিবর্তন দেখা যায় তাহলে এই সিস্টেম নিজ থেকেই এক্টিভেট হয়ে যাবে। এবং রাশিয়ার সমস্ত নিউক্লিয়ার বোমা, ICBM একসাথে লঞ্চ হবে। এই প্যারিমিটার সিস্টেমের মাধ্যমে রেডিও জ্যাম থাকলেও রকেট লঞ্চ করা সম্ভব।

যদিওবা এটা কি মিথ বা সত্য কিনা যাচাই করা যায়নি। তবে ২০১১ সালে রাশিয়ার স্ট্র‍্যাটেজিক মিসাইল ফোর্সের কর্নেল জেনারেল এই সিস্টেমের কথা স্বীকার করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এরকম সিস্টেম থাকার কথা বলা হলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার মতো অটোমেটিক ট্রিগার সিস্টেম রাখেনি বলেই জানা যায়।

‘‘ভ্লাদিমির পুতিন একট কথা বলেছিলেন, সে পৃথিবী থেকে কি হবে, যে পৃথিবীতে রাশিয়া থাকবেনা!’’এই ডেডহ্যান্ড ব্যবস্থাটাই যেন তার কথার যোগ্য প্রতিফলন!

তথ্যসূত্র: military . Com এবং আব্দুল্লাহ আল মুহাম্মদ তাইসির।