মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে সংঘাত নয়, প্রতিযোগিতা চায় আওয়ামী লীগ-সেতুমন্ত্রী

  • ঢাকা ব্যুরো।।
  • প্রকাশের সময় : ০৬:৪২:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
  • ১১২

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে কোনো সংঘাত নয়, বরং প্রতিযোগিতা করতে চায় আওয়ামী লীগ।

শুক্রবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসমূহের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের যৌথসভায় এ কথা বলেন তিনি।

সামনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচন ঘিরে সরগরম রাজনৈতিক মাঠ। বর্তমান সরকারের পদত্যাগ, নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনসহ ১০ দফা দাবিতে আন্দোলন করছে বিএনপি। রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছে সমমনা অন্য দলগুলোও। রাজপথে পাল্টা কর্মসূচি পালন করছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। ছড়াচ্ছে রাজনৈতিক উত্তাপ।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি যতক্ষণ আন্দোলন করবে, আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ অব্যাহত থাকবে। আওয়ামী লীগের প্রতিদিনই কর্মসূচি আছে, তবে বিএনপির সঙ্গে পাল্টাপাল্টি নয়। আগামী নির্বাচন পর্যন্ত মাঠে থাকব। ভালোর জন্য প্রস্তুতি নেব, খারাপের জন্য সতর্ক থাকব।’

জাতীয় নির্বাচন এলেই দেশের রাজনীতিতে নানান ধরনের গুজব ডালপালা বিস্তার করে উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনে কোনো পক্ষপাতিত্ব এবং কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ হবে না। শেখ হাসিনার সরকার শুধু রুটিন দায়িত্ব পালন করবে। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশনকে সার্বিক সহযোগিতা করবে।’

দেশে ‘গণতন্ত্র ফেরানোর’ বিএনপির আন্দোলন নিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপি নিজের ঘরেই গণতন্ত্র জিম্মি করে রেখেছে, তারা দেশে গণতন্ত্র আনবে কীভাবে? খালেদা জিয়া দণ্ডিত হওয়ার পর আরেক পলাতক দণ্ডিতকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করেছে, যা বিএনপির গঠনতন্ত্রবহির্ভূত। তারেক রহমান মানি লন্ডারিংয়ে দণ্ডিত।

বিএনপি জানে নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগকে হারাতে পারবে না। কাজেই তারা এখন ষড়যন্ত্র করে চোরাগলি পথে সরকারকে হটাতে চাইছে।’

বিএনপির সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছু বোঝে না। আওয়ামী লীগ শুরু থেকেই বিএনপিকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ভেবে এসেছে কিন্তু তারা আমাদের সঙ্গে শত্রুতা চেয়েছে। এর অপরিহার্য অংশ ষড়যন্ত্র।। বিএনপির আগুনসন্ত্রাসের আশঙ্কায় আমরা শান্তি সমাবেশ করছি। সন্ত্রাসের রাজত্ব করে বিএনপি এটা পুরোনো অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়।’

সরকার হটাতে বিএনপি ষড়যন্ত্রের পথে হাঁটছে মন্তব্য করে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘তাহলে আমরা কেন কর্মসূচি বাদ দিয়ে মাঠ খালি রাখব? তারা খালি মাঠে কত ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড করে তা সবাই জানে। ষড়যন্ত্র ছাড়া বিএনপি রাজনীতি বোঝে না।’

বিএনপি বিদেশি ডোনারদের টাকায় ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করছে অভিযোগ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সংঘাতে নয়, প্রতিযোগিতায় বিশ্বাসী। নির্বাচন ছাড়া সরকার হটানো অসম্ভব, তাই পরিবর্তন চাইলে নির্বাচনে আসার আহ্বান জানান। নির্বাচনে কোনো সরকারের হস্তক্ষেপ হবে না নির্বাচন কমিশন স্বাধীন।’

যৌথসভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ও মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, আফম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, এসএম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, আফজাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়াসহ কেন্দ্রীয় ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ।

জনপ্রিয়

গণভোটে অংশ নিয়ে ‘হ্যাঁ’-তে সিল দিন: প্রধান উপদেষ্টা

নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে সংঘাত নয়, প্রতিযোগিতা চায় আওয়ামী লীগ-সেতুমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৬:৪২:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে কোনো সংঘাত নয়, বরং প্রতিযোগিতা করতে চায় আওয়ামী লীগ।

শুক্রবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসমূহের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের যৌথসভায় এ কথা বলেন তিনি।

সামনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচন ঘিরে সরগরম রাজনৈতিক মাঠ। বর্তমান সরকারের পদত্যাগ, নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনসহ ১০ দফা দাবিতে আন্দোলন করছে বিএনপি। রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছে সমমনা অন্য দলগুলোও। রাজপথে পাল্টা কর্মসূচি পালন করছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। ছড়াচ্ছে রাজনৈতিক উত্তাপ।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি যতক্ষণ আন্দোলন করবে, আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ অব্যাহত থাকবে। আওয়ামী লীগের প্রতিদিনই কর্মসূচি আছে, তবে বিএনপির সঙ্গে পাল্টাপাল্টি নয়। আগামী নির্বাচন পর্যন্ত মাঠে থাকব। ভালোর জন্য প্রস্তুতি নেব, খারাপের জন্য সতর্ক থাকব।’

জাতীয় নির্বাচন এলেই দেশের রাজনীতিতে নানান ধরনের গুজব ডালপালা বিস্তার করে উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনে কোনো পক্ষপাতিত্ব এবং কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ হবে না। শেখ হাসিনার সরকার শুধু রুটিন দায়িত্ব পালন করবে। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশনকে সার্বিক সহযোগিতা করবে।’

দেশে ‘গণতন্ত্র ফেরানোর’ বিএনপির আন্দোলন নিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপি নিজের ঘরেই গণতন্ত্র জিম্মি করে রেখেছে, তারা দেশে গণতন্ত্র আনবে কীভাবে? খালেদা জিয়া দণ্ডিত হওয়ার পর আরেক পলাতক দণ্ডিতকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করেছে, যা বিএনপির গঠনতন্ত্রবহির্ভূত। তারেক রহমান মানি লন্ডারিংয়ে দণ্ডিত।

বিএনপি জানে নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগকে হারাতে পারবে না। কাজেই তারা এখন ষড়যন্ত্র করে চোরাগলি পথে সরকারকে হটাতে চাইছে।’

বিএনপির সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছু বোঝে না। আওয়ামী লীগ শুরু থেকেই বিএনপিকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ভেবে এসেছে কিন্তু তারা আমাদের সঙ্গে শত্রুতা চেয়েছে। এর অপরিহার্য অংশ ষড়যন্ত্র।। বিএনপির আগুনসন্ত্রাসের আশঙ্কায় আমরা শান্তি সমাবেশ করছি। সন্ত্রাসের রাজত্ব করে বিএনপি এটা পুরোনো অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়।’

সরকার হটাতে বিএনপি ষড়যন্ত্রের পথে হাঁটছে মন্তব্য করে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘তাহলে আমরা কেন কর্মসূচি বাদ দিয়ে মাঠ খালি রাখব? তারা খালি মাঠে কত ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড করে তা সবাই জানে। ষড়যন্ত্র ছাড়া বিএনপি রাজনীতি বোঝে না।’

বিএনপি বিদেশি ডোনারদের টাকায় ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করছে অভিযোগ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সংঘাতে নয়, প্রতিযোগিতায় বিশ্বাসী। নির্বাচন ছাড়া সরকার হটানো অসম্ভব, তাই পরিবর্তন চাইলে নির্বাচনে আসার আহ্বান জানান। নির্বাচনে কোনো সরকারের হস্তক্ষেপ হবে না নির্বাচন কমিশন স্বাধীন।’

যৌথসভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ও মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, আফম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, এসএম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, আফজাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়াসহ কেন্দ্রীয় ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ।