
ভূমিকম্পের দুর্যোগ কখন আসবে কাঁপিয়ে তুলবে তার দিনক্ষণ সুনির্দিষ্ট করে পূর্বাভাস দেয়া যায় না। তবে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, ভূতাত্ত্বিক বা ভূস্তরের ভেতরের গঠন-বৈশিষ্ট্য, বিভিন্ন ধরনের ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের আলামত এবং এ অঞ্চলে ভূমিকম্পের ইতিহাসক্রম থেকে ভূতত্ত্ব বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন, অদূর ভবিষ্যতে যে কোন সময়েই শক্তিশালী ভূমিকম্পের আশঙ্কা রয়েছে। নীরব হলেও পৃথিবীর অন্যতম ভূমিকম্প-প্রবণ বলয়ে বাংলাদেশ ও এর আশপাশ অঞ্চলের অবস্থান। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা হতে পারে আটেরও বেশি।
ভূতত্ত্ববিদরা বলছেন, বাংলাদেশসহ ভারত ও মিয়ানমারের কিছু অংশজুড়ে সুবিশাল চ্যুতি বা ফল্ট থাকায় যেকোনো মুহূর্তে ভূমিকম্প হতে পারে। এতে সিলেট ও চট্টগ্রাম ছাড়াও সব থেকে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়বে রাজধানী।
ভূতত্ত্ববিদরা বলছেন, সব থেকে বেশি ঝুঁকিতে আছে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগ। এরপর মাঝারি ঝুঁকিতে রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগ। আর কম ঝুঁকিতে দক্ষিণাঞ্চলের খুলনা ও বরিশাল বিভাগ।
রাজধানী থেকে উৎপত্তিস্থান ডাউকি ফল্টের দূরত্ব ১৫০ এবং ভারত ও বার্মা প্লেটের সাবডাকশন জোনের দূরত্ব ৫০ কিলোমিটার হলেও ১৫ লাখ ভবনের নগরীতে ভয়াবহ প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলছেন, ভূমিকম্পে যদি রাজধানীর এক শতাংশ বিল্ডিং ধ্বংসে পড়ে তাহলে ৩ লাখ মানুষ হতাহত হবেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থেকে আরো অনেকের মৃত্যু হবে।
এ অবস্থায় ভূমিকম্প সহনীয় নিরাপদ অবকাঠামো তৈরির পাশাপাশি নিয়মিত মহড়া ও সচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ এই বিশেষজ্ঞের।বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহদী আহমেদ আনসারী বলছেন, এখন থেকেই প্রতিটি বিল্ডিং চেক করার পাশাপাশি তদারকি বাড়াতে হবে। একইসঙ্গে ভূমিকম্প পরবর্তী উদ্ধারের জন্য বাহিনী গঠন করতে হবে।
ঢাকা ব্যুরো।। 






































