
নতুন করে ফসলি জমিতে পশুর নদী ড্রেজিংয়ের বালু না ফেলতে মোংলা উপজেলার সুন্দরবন লাঘোয়া উপকূলের মানুষ প্রতিবাদ জানিয়েছেন।তাদের শেষ সম্বল কৃষি জমি রক্ষার দাবিতে সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারী) সকালে মানববন্ধনও করেছেন। উপজেলার চিলা ইউনিয়নের কৃষি জমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটির আয়োজনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।এতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান,মেম্বর ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও শত শত গ্রামবাসীরা অংশ নেন।চিলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যন গাজী আকবর হোসেন মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্যে বলেন,মোংলা বন্দর উন্নয়নের স্বর্থে পশুর নদী ড্রেজিংয়ের বালু রাখার জন্য তার এলাকার মানুষ ১১’শ বিঘা জমি দিয়েছে।সেই জমিতে ১০ ফুট উচ্চতায় বালু রাখার কথা থাকলেও ৩০ ফুট উচ্চতায় বালু ফেলা হয়েছে। এজন্য তারা কোন প্রতিবাদ করেননি। কিন্তু নতুন করে আবার ড্রেজিংয়ের বালু রাখতে চিলা ইউনিয়নের কৃষি নির্ভরশীল মানুষের শেষ সম্বল জমি নেওয়ার পায়তারা শুরু হয়েছে।তারা এ জমি কিছুতেই ছাড়বেনা।সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী বলেছেন-ফসলি জমিতে প্রকল্প নয়,উল্লেখ করে চেয়ারম্যান আকবর গাজী বলেন,এই ইউনিয়নে ৫০ হাজার লোকের বসবাস।তাদের আয়ের একমাত্র উৎস হচ্ছে জমিতে মাছ,ধান ও কাঁকড়া চাষ।এই জমিটুকু নিয়ে নিলে তার এলাকার লোকজন না খেয়ে মরে যাবে।তাই বিকল্প জমি খুঁজে এখান থেকে সংশ্লিষ্টদের সরে আসার আহবান জানান তিনি।মানববন্ধনে স্থানীয় ইউপি সদস্য কানু মৌলিক,শান্ত ডাকুয়া,ওবায়দুল হাওলাদার,রুহুল শেখ,ইসারাত ফকির,সাবেক মেম্বর ওলিয়ার রহমান এবং চিলা ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি মিহির কুমার ভান্ডারি ও সাধারণ সম্পাদক নজরুল হাওলাদার বক্তব্য রাখেন।এদিকে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সিভিল ও হাইড্রোলিক্স বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী এবং ড্রেজিং প্রকল্পের পরিচালক শেখ শওকত আলী বলেন, ‘নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়ের সংসদীয় কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী আগামী ৫০ বছরের জন্য মোংলা বন্দরের ড্রেজিংয়ের বালু রাখার জমি প্রয়োজন।সেই হিসেবে প্রাথমিকভাবে চিলা ইউনিয়নের ৬০০ একর জমি অধিগ্রহনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।জমির মালিকদের নীতিমালা অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দিয়ে তা অধিগ্রহণ করা হবে।এক্ষেত্রে সরকারের উচ্চ মহল যদি মনে করে এই জমি ‘তিন ফসলি’ তাহলে এখান থেকে সরেও আসতে পারে বলে জানান তিনি’।
মারুফ বাবু, মোংলা(বাগেরহাট)প্রতিনিধিঃ 







































