শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইতিহাসের ভয়াবহ অন্ধকার অধ্যায় যুদ্ধ!

আর সেটি হলো যুদ্ধ! জ্বী,আপনি ঠিকই শুনেছেন। ইতিহাস বলে যুদ্ধ তার দেহের অন্ধকারতম অধ্যায়।

এটা প্রয়োজনীয় নয় যে যুদ্ধ পৃথিবীর কোন অঞ্চলে হচ্ছে,কোন দেশে হচ্ছে,কোন দেশ করছে,কোন জাতি করছে,কোন ধর্ম করছে, কে করছে বা কারা করছে। যুদ্ধ সবসময়ই এক, তার বৈশিষ্ট্যের কখনো পরিবর্তন হয় না।

আপনি অতি সাধারণ একজন মানুষ। আপনার ঘরে আপনার আপনার তিন কন্যা, দুই পুত্র আর আপনার এক স্ত্রী। আপনি নিয়মিত আপনার ক্ষেতে ফসল উৎপাদন করেন।কখনো আপনি রাজাকে কর দেন, কখনো বা রাজার লোকেরা আপনার কাছ থেকে জোর করে নিয়ে যায়। আপনার পরিচিত বা অর্ধপরিচিত কেউ আপনার নামে নালিশ দেয়। রাজার বেতনভূক্ত বিচারক আপনাদের যেকোনো একজনের কাছ থেকে তার বিচারকাজের অর্থ নিয়ে আপনাদের বিচার করল। কখনো বা আপনি অর্থ দিয়ে বিচার কিনলেন কখনো বা আপনার বিচার কিনে নেওয়া হলো। আপনি আপনার পুত্রদের নিয়ে সারাদিন কাজের পর বাড়ি ফিরলেন। এসে শুনলেন আপনার প্রতিবেশীর সুন্দরী স্ত্রী বা কন্যা কে রাজার লোকেরা রাজার সেবার জন্য ধরে নিয়ে গেছে। আপনার স্ত্রী তার কন্যাদের নিয়ে সেই ভয়ে আপনার গোয়াল ঘরে লুকিয়ে আছে। আপনি আপনার প্রতিবেশীর সাথে সম্পর্কের উপরে ভিত্তি করে তাকে সান্ত্বণা দিতে গেলেন বা গেলেন না। বাড়ি ফিরে আপনি আপনার ইষ্টদেবতার নাম স্বরণ করে শুয়ে পড়লেন। আপনার আরো একটা দিন চলে গেল।

এটি প্রাচীন একজন মানুষের অতিসাধারণ একটি দিনলিপি। সে কখনো দেবতুল্য রাজা বা ইন্দ্রপ্রস্থসম রাজপ্রাসাদ দেখেনি। সেটি তার কল্পনার ও বাইরে। কিন্তু তার জীবন রাজা ও তার রাজত্বের প্রভাব শূন্য নয়।

একদিন সে শুনল যুদ্ধের কথা। রাজ্য থেকে,রাজত্ব থেকে, রাজনীতি থেকে অনেক দূরে থাকা সত্ত্বেও যুদ্ধের প্রথম প্রভাব পড়ল তার ওপর। তার ফসলের ক্ষেতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হলো, তার কয়েক পুরুষের সম্পদে গড়ে উঠা তার ভিটেমাটি জ্বালিয়ে দেওয়া হলো, তাকে আর তার পুত্রদের হত্যা করা হলো, তার স্ত্রী ও তার কন্যারা ধর্ষিত হলো।

আর এ সবকিছুরই কারণ কেবল যুদ্ধ।

একটি যুদ্ধে বন্দি হওয়া পুরুষদের সাধারণত হত্যা করা হয় বা কখনো কখনো দাস হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হতো। কিন্তু বন্দিনীদের জন্য স যুদ্ধ আরো ভয়াবহ। হয়তোবা যেই হাতে তার ভাইকে, তার পুত্রকে, তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে সেই হাতের রক্ত ও শুকোয় নি, সেই রক্ত মাখা হাতেই তার ওপর জোর প্রয়োগ করা হচ্ছে, তাকে লালসার ও ঘৃণার শিকার হতে হচ্ছে আর তারপর আবার সারা জীবনের জন্য যৌন বস্তু তে পরিণত করে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

নারীদের এ পরিণতি কখনোই ভিন্ন নয়। যেকোনো জাতি, ধর্ম, দেশ বা ব্যাক্তিই এ মহত্ব দেখায় না। নারীর ওই অন্তিম পরিণতির জন্য প্রয়োজনে তারা নিজেদের মতোন বিধান তৈরি করে নেয়।

কথায় বলে,রাজায় রাজায় যুদ্ধ, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়।

উলুখাগড়ার এ পরিণতি সবাই করে থাকে। এবং যখন করে তখন ওরা নিজেদের কথা ও মনে রাখে না আর যাদের সাথে করছে তাদের কথা ও।

তাই আপনাদের জন্য বলছি, যারা নিজ জাতির প্রাচীন ইতিহাস পড়ে আবার ও যুদ্ধ করার জন্য নেমে পড়ার ইচ্ছা পোষণ করেন। আপনাদের ইতিহাস গুলো আপনাদের বিজয়ী রাজাদের দ্বারা লেখা। যারা যুদ্ধের ফলে হওয়া নিজেদের বা নিজের প্রতিপক্ষের ক্ষতিগুলোর কথা লিখে যান নি। যুদ্ধের ফলে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী অর্থাৎ প্রজাদের কপালে যে দুর্ভাগ্য নেমে আসে নি তার কথা লিখে যান নি। এই কথা আধুনিক ইতিহাসবিদেরাও তেমন বলেন না কারণ, কেবল বিজয়ের কথা, আনন্দের কথাই শুনতে চায়,পরাজয়ের গ্লানি তারা সহ্য করতে পারে না।

সুতরাং পরিশেষে বলব যুদ্ধ করার মন মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসুন।

জনপ্রিয়

যশোর সীমান্তে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ

ইতিহাসের ভয়াবহ অন্ধকার অধ্যায় যুদ্ধ!

প্রকাশের সময় : ১০:২২:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

আর সেটি হলো যুদ্ধ! জ্বী,আপনি ঠিকই শুনেছেন। ইতিহাস বলে যুদ্ধ তার দেহের অন্ধকারতম অধ্যায়।

এটা প্রয়োজনীয় নয় যে যুদ্ধ পৃথিবীর কোন অঞ্চলে হচ্ছে,কোন দেশে হচ্ছে,কোন দেশ করছে,কোন জাতি করছে,কোন ধর্ম করছে, কে করছে বা কারা করছে। যুদ্ধ সবসময়ই এক, তার বৈশিষ্ট্যের কখনো পরিবর্তন হয় না।

আপনি অতি সাধারণ একজন মানুষ। আপনার ঘরে আপনার আপনার তিন কন্যা, দুই পুত্র আর আপনার এক স্ত্রী। আপনি নিয়মিত আপনার ক্ষেতে ফসল উৎপাদন করেন।কখনো আপনি রাজাকে কর দেন, কখনো বা রাজার লোকেরা আপনার কাছ থেকে জোর করে নিয়ে যায়। আপনার পরিচিত বা অর্ধপরিচিত কেউ আপনার নামে নালিশ দেয়। রাজার বেতনভূক্ত বিচারক আপনাদের যেকোনো একজনের কাছ থেকে তার বিচারকাজের অর্থ নিয়ে আপনাদের বিচার করল। কখনো বা আপনি অর্থ দিয়ে বিচার কিনলেন কখনো বা আপনার বিচার কিনে নেওয়া হলো। আপনি আপনার পুত্রদের নিয়ে সারাদিন কাজের পর বাড়ি ফিরলেন। এসে শুনলেন আপনার প্রতিবেশীর সুন্দরী স্ত্রী বা কন্যা কে রাজার লোকেরা রাজার সেবার জন্য ধরে নিয়ে গেছে। আপনার স্ত্রী তার কন্যাদের নিয়ে সেই ভয়ে আপনার গোয়াল ঘরে লুকিয়ে আছে। আপনি আপনার প্রতিবেশীর সাথে সম্পর্কের উপরে ভিত্তি করে তাকে সান্ত্বণা দিতে গেলেন বা গেলেন না। বাড়ি ফিরে আপনি আপনার ইষ্টদেবতার নাম স্বরণ করে শুয়ে পড়লেন। আপনার আরো একটা দিন চলে গেল।

এটি প্রাচীন একজন মানুষের অতিসাধারণ একটি দিনলিপি। সে কখনো দেবতুল্য রাজা বা ইন্দ্রপ্রস্থসম রাজপ্রাসাদ দেখেনি। সেটি তার কল্পনার ও বাইরে। কিন্তু তার জীবন রাজা ও তার রাজত্বের প্রভাব শূন্য নয়।

একদিন সে শুনল যুদ্ধের কথা। রাজ্য থেকে,রাজত্ব থেকে, রাজনীতি থেকে অনেক দূরে থাকা সত্ত্বেও যুদ্ধের প্রথম প্রভাব পড়ল তার ওপর। তার ফসলের ক্ষেতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হলো, তার কয়েক পুরুষের সম্পদে গড়ে উঠা তার ভিটেমাটি জ্বালিয়ে দেওয়া হলো, তাকে আর তার পুত্রদের হত্যা করা হলো, তার স্ত্রী ও তার কন্যারা ধর্ষিত হলো।

আর এ সবকিছুরই কারণ কেবল যুদ্ধ।

একটি যুদ্ধে বন্দি হওয়া পুরুষদের সাধারণত হত্যা করা হয় বা কখনো কখনো দাস হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হতো। কিন্তু বন্দিনীদের জন্য স যুদ্ধ আরো ভয়াবহ। হয়তোবা যেই হাতে তার ভাইকে, তার পুত্রকে, তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে সেই হাতের রক্ত ও শুকোয় নি, সেই রক্ত মাখা হাতেই তার ওপর জোর প্রয়োগ করা হচ্ছে, তাকে লালসার ও ঘৃণার শিকার হতে হচ্ছে আর তারপর আবার সারা জীবনের জন্য যৌন বস্তু তে পরিণত করে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

নারীদের এ পরিণতি কখনোই ভিন্ন নয়। যেকোনো জাতি, ধর্ম, দেশ বা ব্যাক্তিই এ মহত্ব দেখায় না। নারীর ওই অন্তিম পরিণতির জন্য প্রয়োজনে তারা নিজেদের মতোন বিধান তৈরি করে নেয়।

কথায় বলে,রাজায় রাজায় যুদ্ধ, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়।

উলুখাগড়ার এ পরিণতি সবাই করে থাকে। এবং যখন করে তখন ওরা নিজেদের কথা ও মনে রাখে না আর যাদের সাথে করছে তাদের কথা ও।

তাই আপনাদের জন্য বলছি, যারা নিজ জাতির প্রাচীন ইতিহাস পড়ে আবার ও যুদ্ধ করার জন্য নেমে পড়ার ইচ্ছা পোষণ করেন। আপনাদের ইতিহাস গুলো আপনাদের বিজয়ী রাজাদের দ্বারা লেখা। যারা যুদ্ধের ফলে হওয়া নিজেদের বা নিজের প্রতিপক্ষের ক্ষতিগুলোর কথা লিখে যান নি। যুদ্ধের ফলে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী অর্থাৎ প্রজাদের কপালে যে দুর্ভাগ্য নেমে আসে নি তার কথা লিখে যান নি। এই কথা আধুনিক ইতিহাসবিদেরাও তেমন বলেন না কারণ, কেবল বিজয়ের কথা, আনন্দের কথাই শুনতে চায়,পরাজয়ের গ্লানি তারা সহ্য করতে পারে না।

সুতরাং পরিশেষে বলব যুদ্ধ করার মন মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসুন।