
নির্বাচনী মাঠ ফাঁকা করতে সরকার আবারও পুরনো খেলা শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সারাদেশে ‘মিথ্যা’ মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা তুলে ধরে গতকাল মঙ্গলবার গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার নির্বাচিত নয়। জনগণের কোনো ম্যান্ডেট তাদের নেই। তারা আবারও ২৩ সালের ডিসেম্বর অথবা ২৪ সালের
জানুয়ারি মাসের মধ্যে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, সেই নির্বাচন নিয়ে আবার আগের খেলায় মেতে উঠেছে। তারা যেভাবে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনকে সম্পূর্ণভাবে তাদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ফলাফল তাদের পক্ষে নিয়েছিল, ঠিক একই প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে। তিনি বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে যে, তফসিল ঘোষণার সময় থেকে তারা শুরু করেছিল। এবার তারা অনেক আগে থেকে শুরু করেছে। ত্রাস, সন্ত্রাস, মিথ্যা মামলা ও গায়েবি মামলা দিয়ে আবারও নেতাকর্মীদের মাঠ থেকে পুরোপুরিভাবে সরিয়ে দেওয়ার সেই কাজটি তারা শুরু করে দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে দলীয় নেতাকর্মীদের মামলার পরিসংখ্যান তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, সারাদেশে বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের নামে ১ লাখ ১১ হাজার ৫৪৩টির বেশি মামলা দায়ের করেছে এই অবৈধ সরকার। এসব মামলায় আসামির সংখ্যা প্রায় ৩৯ লাখ ৭৮ হাজার ৪৮১ অধিক। তার মধ্যে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে ২ হাজার ৮৩০টির বেশি মামলা রয়েছে। শুধু ঢাকায় আছে ১৫শ মামলা, বিরোধী মত ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মুক্ত মতপ্রকাশ করা মানুষের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে একটা নীলনকশার নির্বাচন করা। সেই লক্ষ্যে বিরোধী দলকে সম্পূর্ণভাবে মাঠ থেকে বের করে দিতে কাজ করছে।
বিএনপির অভিযোগ মতো সরকার এবারও নীলনকশার নির্বাচন করতে পারবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, একেবারেই পারবে না। কারণ এবার জনগণ ইতোমধ্যে রাস্তায় নেমে গেছে। আন্দোলন চলমান আছে। এই আন্দোলন আরও বেগবান হবে। তিনি জানান, শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে আমরা চূড়ান্ত পর্যায় এসেছি। খুব শিগগিরই নতুন করে কর্মসূচি জানতে পারবেন।
পুরনো মামলার চূড়ান্ত রায় দিতে সরকার তালিকা করছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার যেসব মিথ্যা মামলা অতীতে দায়ের করেছিল, সেই মিথ্যা মামলাগুলোর চূড়ান্তভাবে রায় দেওয়ার জন্য খুব দ্রুততার সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয় দিয়ে একটা তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সেই তালিকা অনুযায়ী বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে রায় প্রদানে তারা দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে নিচ্ছে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নির্বাচনকালীন সরকারে বিএনপিকেও আমন্ত্রণ জানানোর ইঙ্গিতের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা (সাংবাদিকরা) কি বিশ্বাস করেন? ২০১৮ সালে শেখ হাসিনাকে বিশ্বাস করে আমরা গণভবনে তার সঙ্গে সংলাপে বসেছিলাম। সেই সংলাপে যেসব কথা তিনি দিয়েছিলেন, সেগুলোর একটাও তারা রক্ষা করেননি। সুতরাং ওবায়দুল কাদের সাহেবের কথায় আস্থা রাখা, বিশ্বাস করা- এটা নিয়ে প্রশ্নই উঠতে পারে না। আমি মনে করি, এটা আরেকটি চক্রান্ত, জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য। তারা বলবে যে, এই তো আমরা প্রস্তাব দিয়েছি, ওরা শুনছে না, যাচ্ছে না।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, গত দুটি নির্বাচনে মানুষ ভোটই দিতে পারেনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতেও তারা ভোট দিতে পারে না। চট্টগ্রামের একটা উপনির্বাচনে মাত্র ১৪ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছে। তাই ক্ষমতায় যাওয়া নয়, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করছে বিএনপি। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আমরা না করলেও আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, নির্যাতন, বাড়ি-বাড়ি তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে তারা। বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে তফসিল ঘোষণার পর একতরফা নির্বাচন করতে বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, নির্যাতন করছে। সিলেটে বিএনপির নেতাকর্মীদের গণহারে গ্রেপ্তার ও বাসায় বাসায় তল্লাশি করছে।
ফখরুল বলেন, এই অবৈধ সরকারের অধীনের কোনো নির্বাচনই নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সে জন্য এই সংসদ ভেঙে দিয়ে এই অবৈধ সরকার পদত্যাগ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি আজ গণদাবিতে পরিণত হয়েছে।
জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক গোয়েন লুইসের সঙ্গে গত সোমবার বিএনপির প্রতিনিধি দলের বৈঠক সম্পর্কে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা কাউকে কোনো নালিশ করি না, কাউকে কিছু বলতে যাই না- এটা মনে রাখতে হবে। দেশে যেসব বিদেশি মিশন রয়েছে, তারা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এখানে কাজ করছেন। তাদের সঙ্গে রুটিন আলোচনা হয়, সেই আলোচনা হয়েছে।
ঢাকা ব্যুরো।। 







































