বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রেজা কিবরিয়া ও নুরের দ্বন্দ্বে ভেঙে গেছে গণ অধিকার পরিষদ

অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়াকে আহ্বায়ক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে সদস্য-সচিব করে ১০১ সদস্যের কমিটির মাধ্যমে ২০২১ সালের ২৬ অক্টোবর যাত্রা শুরু করেছিল গণ অধিকার পরিষদ। মাত্র দেড় বছরের মাথায় রেজা কিবরিয়া ও নুরের দ্বন্দ্বে ভেঙে তছনছ সংগঠনটি।

দলটির আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়াকে বাদ দিয়ে দলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব দিয়েছেন নুর ও তার অনুসারীরা। সোমবার রাতে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে নুরের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে অল্প সময়ের মধ্যে দলের কাউন্সিল করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে এই বৈঠকে। পালটা অ্যাকশন হিসেবে গণ অধিকার পরিষদের সদস্যসচিব পদ থেকে নুর ও ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদ খানকে তাদের পদ থেকে গতকাল মঙ্গলবার সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছেন রেজা কিবরিয়া। পাশাপাশি তাদের দুজনকে এক সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়।

গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে সাংগঠনিক ক্ষমতাবলে পরবর্তী নির্বাহী সংসদের সভা হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব হিসেবে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও গণ অধিকার পরিষদের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা হাসান আল মামুন (আল মামুন) দায়িত্ব পালন করবেন।’ গণ অধিকার পরিষদের শীর্ষ দুই নেতার পালটাপালটি অভিযোগ ও পরস্পরবিরোধী অবস্থানের কারণে দলটিতে অস্থিরতা চলছে অনেকদিন ধরেই। বিভিন্ন সময় তারা প্রকাশ্যেও বিরোধে জড়িয়েছেন। সম্প্রতি রেজা কিবরিয়া ও নুর একে অপরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে বিবৃতি দিয়েছেন। নিজ নিজ ফেসবুক পাতায়ও পোস্ট দিয়ে তারা পালটাপালটি অভিযোগ করেছেন।

দুই নেতার বিরোধে দলে অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ায় রবিবার ঢাকায় রেজা কিবরিয়ার বাসভবনে গণ অধিকার পরিষদের নেতারা বৈঠকে বসেছিলেন। দলটির একাধিক নেতা জানান, সেই বৈঠকেও পালটাপালটি অভিযোগে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বৈঠকে রেজা কিবরিয়া দলের সদস্যসচিব নুরের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবেশী দেশের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে বৈঠক করার অভিযোগ করেন। এছাড়া রেজা কিবরিয়া দলের তহবিল নিয়ে স্বচ্ছতার প্রশ্নও তোলেন।

অন্যদিকে, নুর পালটা অভিযোগ করেন যে, রেজা কিবরিয়া অনেক দিন ধরে ফরহাদ মজহার ও শওকত মাহমুদের নেতৃত্বাধীন ‘ইনসাফ কায়েম কমিটি’র কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন, সেজন্য তিনি অর্থ পাচ্ছেন। এছাড়া দলের কর্মকাণ্ডে সময় না দেওয়ার অভিযোগও করা হয় রেজা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে। নুরের অভিযোগ, বিএনপি ভেঙে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উকিল আবদুস সাত্তার মডেলের নির্বাচন করতে গোয়েন্দাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন রেজা কিবরিয়া।

রবিবারের বৈঠকে কোনো সমাধান হয়নি। পরদিন রেজা কিবরিয়া বিদেশে চলে যান। তবে সোমবার রেজা কিবরিয়ার অনুপস্থিতিতে গণ অধিকার পরিষদের নেতারা আবার বৈঠকে বসেন, এতে সভাপতিত্ব করেন নুর।

সোমবার রাতে গণ অধিকার পরিষদের প্যাডে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রেজা কিবরিয়া জানান, রবিবার তার সভাপতিত্বে জরুরি সভায় দলীয় শৃঙ্খলার স্বার্থে সদস্যসচিবের কাছে প্রবাসী অধিকার পরিষদের কমিটি পুনর্গঠন, এরইমধ্যে সংগৃহীত অর্থের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি, রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে বৈঠক, ইসরায়েলের বিতর্কিত মোসাদ সদস্য মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে গোপন বৈঠক, দলীয় নেতাদের নিয়ে অসত্য সংবাদ প্রচারের জন্য ভিপি নুরকে দায়ী করে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। এতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির উদ্ভব হলে তিনি (রেজা) সভাস্থল ত্যাগ করেন।

রেজা কিবরিয়ার এই সংবাদ বিজ্ঞপ্তির পর নিজের ফেসবুক পেজে নুর পালটা অভিযোগ তুলে এক বিবৃতিতে লিখেছেন, সরকারবিরোধী অনুষ্ঠানের নামে রেজা কিবরিয়া ব্যাংকক, কাঠমান্ডুতে একাধিকবার বৈঠকে অংশ নিয়েছেন এবং দেশে এসে মনোনয়ন বিক্রি ও বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা শওকত মাহমুদের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং সর্বশেষ ইনসাফের অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এসব বিষয়ে রবিবারের বৈঠকে জবাব চাওয়া হলে সদুত্তর না দিয়ে স্থান ত্যাগ করে রেজা কিবরিয়া বাসায় ঢুকে আর ফেরেননি। নুর আরো লিখেছেন, রেজা কিবরিয়া টাকার লোভে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার ফাঁদে পড়ে বিএনপি ভেঙে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দুঃস্বপ্নে বিভোর।

এদিকে, গতকালের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রেজা কিবরিয়া দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের আন্দোলন বেগবান করার জন্য নির্দেশনা দেন। বর্তমানে কম্বোডিয়ায় অবস্থানরত রেজা কিবরিয়ার দাবি, তিনিই সংগঠনের আহ্বায়ক রয়েছেন এবং থাকবেন। দলের ৭৫ শতাংশ নেতা-কর্মী তার সঙ্গেই রয়েছেন বলেও দাবি করেন।

জনপ্রিয়

টাকা দিয়ে ভোট কেনা জামায়াতের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ও আচরণবিধির লঙ্ঘন: মাহদী আমিন

রেজা কিবরিয়া ও নুরের দ্বন্দ্বে ভেঙে গেছে গণ অধিকার পরিষদ

প্রকাশের সময় : ০৯:০৭:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জুন ২০২৩

অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়াকে আহ্বায়ক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে সদস্য-সচিব করে ১০১ সদস্যের কমিটির মাধ্যমে ২০২১ সালের ২৬ অক্টোবর যাত্রা শুরু করেছিল গণ অধিকার পরিষদ। মাত্র দেড় বছরের মাথায় রেজা কিবরিয়া ও নুরের দ্বন্দ্বে ভেঙে তছনছ সংগঠনটি।

দলটির আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়াকে বাদ দিয়ে দলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব দিয়েছেন নুর ও তার অনুসারীরা। সোমবার রাতে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে নুরের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে অল্প সময়ের মধ্যে দলের কাউন্সিল করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে এই বৈঠকে। পালটা অ্যাকশন হিসেবে গণ অধিকার পরিষদের সদস্যসচিব পদ থেকে নুর ও ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদ খানকে তাদের পদ থেকে গতকাল মঙ্গলবার সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছেন রেজা কিবরিয়া। পাশাপাশি তাদের দুজনকে এক সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়।

গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে সাংগঠনিক ক্ষমতাবলে পরবর্তী নির্বাহী সংসদের সভা হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব হিসেবে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও গণ অধিকার পরিষদের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা হাসান আল মামুন (আল মামুন) দায়িত্ব পালন করবেন।’ গণ অধিকার পরিষদের শীর্ষ দুই নেতার পালটাপালটি অভিযোগ ও পরস্পরবিরোধী অবস্থানের কারণে দলটিতে অস্থিরতা চলছে অনেকদিন ধরেই। বিভিন্ন সময় তারা প্রকাশ্যেও বিরোধে জড়িয়েছেন। সম্প্রতি রেজা কিবরিয়া ও নুর একে অপরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে বিবৃতি দিয়েছেন। নিজ নিজ ফেসবুক পাতায়ও পোস্ট দিয়ে তারা পালটাপালটি অভিযোগ করেছেন।

দুই নেতার বিরোধে দলে অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ায় রবিবার ঢাকায় রেজা কিবরিয়ার বাসভবনে গণ অধিকার পরিষদের নেতারা বৈঠকে বসেছিলেন। দলটির একাধিক নেতা জানান, সেই বৈঠকেও পালটাপালটি অভিযোগে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বৈঠকে রেজা কিবরিয়া দলের সদস্যসচিব নুরের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবেশী দেশের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে বৈঠক করার অভিযোগ করেন। এছাড়া রেজা কিবরিয়া দলের তহবিল নিয়ে স্বচ্ছতার প্রশ্নও তোলেন।

অন্যদিকে, নুর পালটা অভিযোগ করেন যে, রেজা কিবরিয়া অনেক দিন ধরে ফরহাদ মজহার ও শওকত মাহমুদের নেতৃত্বাধীন ‘ইনসাফ কায়েম কমিটি’র কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন, সেজন্য তিনি অর্থ পাচ্ছেন। এছাড়া দলের কর্মকাণ্ডে সময় না দেওয়ার অভিযোগও করা হয় রেজা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে। নুরের অভিযোগ, বিএনপি ভেঙে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উকিল আবদুস সাত্তার মডেলের নির্বাচন করতে গোয়েন্দাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন রেজা কিবরিয়া।

রবিবারের বৈঠকে কোনো সমাধান হয়নি। পরদিন রেজা কিবরিয়া বিদেশে চলে যান। তবে সোমবার রেজা কিবরিয়ার অনুপস্থিতিতে গণ অধিকার পরিষদের নেতারা আবার বৈঠকে বসেন, এতে সভাপতিত্ব করেন নুর।

সোমবার রাতে গণ অধিকার পরিষদের প্যাডে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রেজা কিবরিয়া জানান, রবিবার তার সভাপতিত্বে জরুরি সভায় দলীয় শৃঙ্খলার স্বার্থে সদস্যসচিবের কাছে প্রবাসী অধিকার পরিষদের কমিটি পুনর্গঠন, এরইমধ্যে সংগৃহীত অর্থের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি, রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে বৈঠক, ইসরায়েলের বিতর্কিত মোসাদ সদস্য মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে গোপন বৈঠক, দলীয় নেতাদের নিয়ে অসত্য সংবাদ প্রচারের জন্য ভিপি নুরকে দায়ী করে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। এতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির উদ্ভব হলে তিনি (রেজা) সভাস্থল ত্যাগ করেন।

রেজা কিবরিয়ার এই সংবাদ বিজ্ঞপ্তির পর নিজের ফেসবুক পেজে নুর পালটা অভিযোগ তুলে এক বিবৃতিতে লিখেছেন, সরকারবিরোধী অনুষ্ঠানের নামে রেজা কিবরিয়া ব্যাংকক, কাঠমান্ডুতে একাধিকবার বৈঠকে অংশ নিয়েছেন এবং দেশে এসে মনোনয়ন বিক্রি ও বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা শওকত মাহমুদের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং সর্বশেষ ইনসাফের অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এসব বিষয়ে রবিবারের বৈঠকে জবাব চাওয়া হলে সদুত্তর না দিয়ে স্থান ত্যাগ করে রেজা কিবরিয়া বাসায় ঢুকে আর ফেরেননি। নুর আরো লিখেছেন, রেজা কিবরিয়া টাকার লোভে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার ফাঁদে পড়ে বিএনপি ভেঙে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দুঃস্বপ্নে বিভোর।

এদিকে, গতকালের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রেজা কিবরিয়া দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের আন্দোলন বেগবান করার জন্য নির্দেশনা দেন। বর্তমানে কম্বোডিয়ায় অবস্থানরত রেজা কিবরিয়ার দাবি, তিনিই সংগঠনের আহ্বায়ক রয়েছেন এবং থাকবেন। দলের ৭৫ শতাংশ নেতা-কর্মী তার সঙ্গেই রয়েছেন বলেও দাবি করেন।