শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সাথে বৈঠকে রাজি নয় বিএনপি

ইলেকশন মনিটরিং ফোরামের (ইএমএফ) আমন্ত্রণে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় সফর করছে। তারা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সাক্ষাৎ করেছেন নির্বাচন কমিশনের সঙ্গেও। তবে বিএনপিকে আমন্ত্রণ জানালেও দলটি তাদের সঙ্গে বসতে রাজি হয়নি। এতে হতাশা ব্যক্ত করেছেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

রবিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে পর্যবেক্ষক প্রতিনিধি দলের সদস্যরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই হতাশার কথা জানান প্রতিনিধি দলের সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের পর্যবেক্ষক টেরি এল ইসলে।

এই পর্যবেক্ষক বলেন, আমরা নির্বাচনপূর্ব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে এসেছি। বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আমরা বৈঠক করছি। বিএনপির সঙ্গেও আমরা বৈঠকে বসতে চেয়েছিলাম। নির্বাচন নিয়ে তাদের উদ্বেগ শুনতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে রাজি হয়নি। এ কারণে আমরা হতাশ।

টেরি এল ইসলে বলেন, আমরা উভয় পক্ষের সঙ্গেই বৈঠকে বসতে চেয়েছিলাম, তাহলে বিষয়টি আরো পরিষ্কার হতো।

এ সময় পর্যবেক্ষক দলের আরেক সদস্য আয়ারল্যান্ডের সিনিয়র সাংবাদিক নিক পল বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছি। নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে আলাপ হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি নেই। তাই সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চায় নির্বাচন কমিশন।

বিদেশি পর্যবেক্ষকরা সচিবালয়ে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গেও। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদেশি পর্যবেক্ষকরা জানতে চেয়েছেন, আমাদের প্রস্তুতিটা কী ধরনের রয়েছে। আমাদের পুলিশ, অন্য বাহিনী এবং অন্য সব সংস্থা এই নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুত আছে কি না। এখানে হয়তো সহিংসতা আসবে। এই যে অন্যান্য দল নির্বাচন বয়কট করছে, ক্রমাগত তারা নানান ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হচ্ছে… এমতাবস্থায় আমরা নির্বাচনটা করতে পারব কি না এ সম্পর্কে তারা জানতে চেয়েছেন। আমরা এ বিষয়ে তাদের বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের সবধরনের প্রস্তুতি রয়েছে, কমিশন তফসিল ঘোষণা করলেই কাজ শুরু হবে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কমিশনের অধীনে গিয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করবে। এসব বিষয় জানানো হয়েছে।

নির্বাচনকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো ভূমিকা থাকবে না জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা তাদের জানিয়েছি, এ সময় মুখ্য ভূমিকায় চলে যাবে নির্বাচন কমিশন। আমাদের যত নিরাপত্তা বাহিনী; সবগুলো নির্বাচনের সময় কমিশনের তত্ত্বাবধানেই থাকবে, অ্যাডমিনিস্ট্রেশনও থাকবে না। আমরা এতটুকু বলেছি, সেসময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাউকে বদলিও করতে পারবে না, আবার কাউকে পদায়নও করতে পারবে না। সবকিছুই নির্বাচন কমিশনই নিয়ন্ত্রণ করবে।

এর আগে সকালে আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে এই প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ শেষে প্রতিনিধি দলেন সদস্য টেরি এল ইসলে বলেন, আপনাদের সংবিধান তত্ত্বাবধায়ক সরকার সমর্থন করে না। এটি করতে হলে সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে। যদি এটি ভালো আইডিয়া হয়ে থাকে, যদি তারা (ইসি) এটা করতেও চায়, এখন করতে পারবে না। কারণ এটি করার কোনো আইনি কাঠামো নেই। এই মুহূর্তে এটা করা সম্ভব নয়।

তিনি মার্কিন সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন না উল্লেখ করে ইসলে বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলের সদস্য হিসেবে আমরা মনে করি, এ সরকারের অধীনে কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে।

ইএমএফের আমন্ত্রণে ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল নির্বাচনপূর্ব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গত ২৮ জুলাই থেকে ঢাকা সফর করছে।

জনপ্রিয়

ইরানে সরকার পতনে বিপ্লবী গার্ডের ওপর হামলার আহ্বান পাহলভির

বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সাথে বৈঠকে রাজি নয় বিএনপি

প্রকাশের সময় : ০৭:৩৭:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ জুলাই ২০২৩

ইলেকশন মনিটরিং ফোরামের (ইএমএফ) আমন্ত্রণে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় সফর করছে। তারা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সাক্ষাৎ করেছেন নির্বাচন কমিশনের সঙ্গেও। তবে বিএনপিকে আমন্ত্রণ জানালেও দলটি তাদের সঙ্গে বসতে রাজি হয়নি। এতে হতাশা ব্যক্ত করেছেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

রবিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে পর্যবেক্ষক প্রতিনিধি দলের সদস্যরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই হতাশার কথা জানান প্রতিনিধি দলের সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের পর্যবেক্ষক টেরি এল ইসলে।

এই পর্যবেক্ষক বলেন, আমরা নির্বাচনপূর্ব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে এসেছি। বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আমরা বৈঠক করছি। বিএনপির সঙ্গেও আমরা বৈঠকে বসতে চেয়েছিলাম। নির্বাচন নিয়ে তাদের উদ্বেগ শুনতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে রাজি হয়নি। এ কারণে আমরা হতাশ।

টেরি এল ইসলে বলেন, আমরা উভয় পক্ষের সঙ্গেই বৈঠকে বসতে চেয়েছিলাম, তাহলে বিষয়টি আরো পরিষ্কার হতো।

এ সময় পর্যবেক্ষক দলের আরেক সদস্য আয়ারল্যান্ডের সিনিয়র সাংবাদিক নিক পল বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছি। নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে আলাপ হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি নেই। তাই সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চায় নির্বাচন কমিশন।

বিদেশি পর্যবেক্ষকরা সচিবালয়ে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গেও। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদেশি পর্যবেক্ষকরা জানতে চেয়েছেন, আমাদের প্রস্তুতিটা কী ধরনের রয়েছে। আমাদের পুলিশ, অন্য বাহিনী এবং অন্য সব সংস্থা এই নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুত আছে কি না। এখানে হয়তো সহিংসতা আসবে। এই যে অন্যান্য দল নির্বাচন বয়কট করছে, ক্রমাগত তারা নানান ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হচ্ছে… এমতাবস্থায় আমরা নির্বাচনটা করতে পারব কি না এ সম্পর্কে তারা জানতে চেয়েছেন। আমরা এ বিষয়ে তাদের বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের সবধরনের প্রস্তুতি রয়েছে, কমিশন তফসিল ঘোষণা করলেই কাজ শুরু হবে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কমিশনের অধীনে গিয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করবে। এসব বিষয় জানানো হয়েছে।

নির্বাচনকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো ভূমিকা থাকবে না জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা তাদের জানিয়েছি, এ সময় মুখ্য ভূমিকায় চলে যাবে নির্বাচন কমিশন। আমাদের যত নিরাপত্তা বাহিনী; সবগুলো নির্বাচনের সময় কমিশনের তত্ত্বাবধানেই থাকবে, অ্যাডমিনিস্ট্রেশনও থাকবে না। আমরা এতটুকু বলেছি, সেসময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাউকে বদলিও করতে পারবে না, আবার কাউকে পদায়নও করতে পারবে না। সবকিছুই নির্বাচন কমিশনই নিয়ন্ত্রণ করবে।

এর আগে সকালে আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে এই প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎ শেষে প্রতিনিধি দলেন সদস্য টেরি এল ইসলে বলেন, আপনাদের সংবিধান তত্ত্বাবধায়ক সরকার সমর্থন করে না। এটি করতে হলে সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে। যদি এটি ভালো আইডিয়া হয়ে থাকে, যদি তারা (ইসি) এটা করতেও চায়, এখন করতে পারবে না। কারণ এটি করার কোনো আইনি কাঠামো নেই। এই মুহূর্তে এটা করা সম্ভব নয়।

তিনি মার্কিন সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন না উল্লেখ করে ইসলে বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলের সদস্য হিসেবে আমরা মনে করি, এ সরকারের অধীনে কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে।

ইএমএফের আমন্ত্রণে ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল নির্বাচনপূর্ব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গত ২৮ জুলাই থেকে ঢাকা সফর করছে।