বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চেয়ারম্যানদের সঙ্গে মমতাজের বিরোধ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি মাত্র কয়েক মাস। নির্বাচনকে সামনে রেখে মানিকগঞ্জ-২ আসনে (সিংগাইর-হরিরামপুর ও সদরের আংশিক) আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। আসনটিতে টানা ৩ বারের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংসদ-সদস্য মমতাজ বেগম একচ্ছত্র রাজত্ব কায়েম করলেও এ আসনে দলীয় কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে। সংসদ-সদস্যের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলছেন দুই উপজেলা চেয়ারম্যান। দূরে সরে যাচ্ছেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানরাও।

দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে সংসদ-সদস্য কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম উঠান বৈঠক ও কর্মী সমাবেশ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাবেক যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান সফিউল আরেফিন টুটুল ‘চায়ের আড্ডা’ জেলা আওয়ামী লীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলু রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে নির্বাচনি মতবিনিময় সভা ও সিংগাইর উপজেলা চেয়ারম্যান মুশফিকুর রহমান খান হান্নান মতবিনিময়ের ব্যানারে নির্বাচনি প্রচারণা করছেন।

জানা গেছে, ২০০৮ সালে এ আসনে মহাজোট মনোনীত জাতীয় পার্টির প্রার্থী এসএম আব্দুল মান্নান সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। তবে সংরক্ষিত নারী আসনে মমতাজ বেগম সংসদ-সদস্য হয়ে রাজনীতিতে তার অভিষেক ঘটে। এরপর আওয়ামী লীগের টিকিট পেয়ে ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ও ২০১৮ সালে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। বর্তমান পরিস্থিতিতে সভা-সমাবেশসহ পালটাপালটি সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের একপক্ষ আরেক পক্ষের বিরুদ্ধে আনছেন অভিযোগ।

আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, গত ২০১৯ সালের ২৪ মার্চ উপজেলা নির্বাচনের পর থেকে দলীয় কোন্দলের সৃষ্টি হয়। নির্বাচনি এলাকার হরিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেওয়ান সাইদুর রহমান উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও সিংগাইর উপজেলায় তার বিপরীত ঘটনা ঘটে। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী মুশফিকুর রহমান খান হান্নানের কাছে পরাজিত হন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক মো. শহিদুর রহমান শহিদ। অবশ্য সাবেক সম্পাদক আব্দুল মাজেদসহ দলের একটা অংশ প্রকাশ্যে বিরোধিতা করে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামেন। দলের সেই বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা চেয়ারম্যান হান্নান সদ্য ঘোষিত জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে স্থান পেয়েছেন।

অপর দিকে, হরিরামপুর উপজেলায় রাজনৈতিক কোন্দল আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি হরিরামপুর উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান সাইদুর রহমান বালু মহলের ইজারা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধকে কেন্দ্র করে এমপি মমতাজ বেগম ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তাকে এমপির লোকজন হত্যা করবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন তিনি। উপজেলা চেয়ারম্যানের লোকজনকে মিথ্যা হামলা-মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও জানান। এর জবাবে পালটা সংবাদ সম্মেলন করেছেন মমতাজের অনুসারীরা। তারা উপজেলা চেয়ারম্যানের এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ফলে এমপি-উপজেলা চেয়ারম্যান গ্রুপের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ প্রসঙ্গে সংসদ-সদস্য ও সিংগাইর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ বেগমকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ক্ষুদে বার্তা দিয়েও পাওয়া যায়নি তার বক্তব্য। তবে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, শত্রু সৃষ্টি হওয়ার জন্য দু‘একটি ভালো কাজই যথেষ্ট। দিন যাচ্ছে আমার জনপ্রিয়তা বাড়ছে। হাতেগোনা কয়েকজন নেতা আমার বিরুদ্ধে কথা বলছেন। তারা যে দুর্নীতি করেছেন, দেশের ক্ষতি করছেন আমি তাদের প্রশ্রয় না দেওয়ায় আমার বিরুদ্ধে এমন কথাবার্তা বলছেন তারা। এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট গোলাম মহিউদ্দিন বলেন, মনোনয়ন প্রক্রিয়া যখন আসবে তখন আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মীরা এক বৃত্তে এসে যাবেন। ভুল বোঝাবুঝি থাকবে না।

জনপ্রিয়

টাকা দিয়ে ভোট কেনা জামায়াতের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ও আচরণবিধির লঙ্ঘন: মাহদী আমিন

চেয়ারম্যানদের সঙ্গে মমতাজের বিরোধ

প্রকাশের সময় : ১১:২৬:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৩

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি মাত্র কয়েক মাস। নির্বাচনকে সামনে রেখে মানিকগঞ্জ-২ আসনে (সিংগাইর-হরিরামপুর ও সদরের আংশিক) আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। আসনটিতে টানা ৩ বারের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংসদ-সদস্য মমতাজ বেগম একচ্ছত্র রাজত্ব কায়েম করলেও এ আসনে দলীয় কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে। সংসদ-সদস্যের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলছেন দুই উপজেলা চেয়ারম্যান। দূরে সরে যাচ্ছেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানরাও।

দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে সংসদ-সদস্য কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম উঠান বৈঠক ও কর্মী সমাবেশ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাবেক যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান সফিউল আরেফিন টুটুল ‘চায়ের আড্ডা’ জেলা আওয়ামী লীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলু রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে নির্বাচনি মতবিনিময় সভা ও সিংগাইর উপজেলা চেয়ারম্যান মুশফিকুর রহমান খান হান্নান মতবিনিময়ের ব্যানারে নির্বাচনি প্রচারণা করছেন।

জানা গেছে, ২০০৮ সালে এ আসনে মহাজোট মনোনীত জাতীয় পার্টির প্রার্থী এসএম আব্দুল মান্নান সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। তবে সংরক্ষিত নারী আসনে মমতাজ বেগম সংসদ-সদস্য হয়ে রাজনীতিতে তার অভিষেক ঘটে। এরপর আওয়ামী লীগের টিকিট পেয়ে ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ও ২০১৮ সালে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। বর্তমান পরিস্থিতিতে সভা-সমাবেশসহ পালটাপালটি সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের একপক্ষ আরেক পক্ষের বিরুদ্ধে আনছেন অভিযোগ।

আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, গত ২০১৯ সালের ২৪ মার্চ উপজেলা নির্বাচনের পর থেকে দলীয় কোন্দলের সৃষ্টি হয়। নির্বাচনি এলাকার হরিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেওয়ান সাইদুর রহমান উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও সিংগাইর উপজেলায় তার বিপরীত ঘটনা ঘটে। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী মুশফিকুর রহমান খান হান্নানের কাছে পরাজিত হন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক মো. শহিদুর রহমান শহিদ। অবশ্য সাবেক সম্পাদক আব্দুল মাজেদসহ দলের একটা অংশ প্রকাশ্যে বিরোধিতা করে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামেন। দলের সেই বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা চেয়ারম্যান হান্নান সদ্য ঘোষিত জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে স্থান পেয়েছেন।

অপর দিকে, হরিরামপুর উপজেলায় রাজনৈতিক কোন্দল আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি হরিরামপুর উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান সাইদুর রহমান বালু মহলের ইজারা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধকে কেন্দ্র করে এমপি মমতাজ বেগম ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তাকে এমপির লোকজন হত্যা করবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন তিনি। উপজেলা চেয়ারম্যানের লোকজনকে মিথ্যা হামলা-মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও জানান। এর জবাবে পালটা সংবাদ সম্মেলন করেছেন মমতাজের অনুসারীরা। তারা উপজেলা চেয়ারম্যানের এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ফলে এমপি-উপজেলা চেয়ারম্যান গ্রুপের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ প্রসঙ্গে সংসদ-সদস্য ও সিংগাইর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ বেগমকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ক্ষুদে বার্তা দিয়েও পাওয়া যায়নি তার বক্তব্য। তবে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, শত্রু সৃষ্টি হওয়ার জন্য দু‘একটি ভালো কাজই যথেষ্ট। দিন যাচ্ছে আমার জনপ্রিয়তা বাড়ছে। হাতেগোনা কয়েকজন নেতা আমার বিরুদ্ধে কথা বলছেন। তারা যে দুর্নীতি করেছেন, দেশের ক্ষতি করছেন আমি তাদের প্রশ্রয় না দেওয়ায় আমার বিরুদ্ধে এমন কথাবার্তা বলছেন তারা। এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট গোলাম মহিউদ্দিন বলেন, মনোনয়ন প্রক্রিয়া যখন আসবে তখন আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মীরা এক বৃত্তে এসে যাবেন। ভুল বোঝাবুঝি থাকবে না।