রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ–পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার কোনো সুযোগ আছে কি না তা জানতে চেয়েছেন ঢাকায় সফররত দুই মার্কিন কংগ্রেসম্যান এড কেইস ও রিচার্ড ম্যাকরমিক। আজ রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় দুই মার্কিন কংগ্রেসম্যানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘তারা (কংগ্রেসম্যান) বলেছে, তোমাদের কোনো সমঝোতার পথ আছে কি না ওদের (বিএনপি) সঙ্গে। আমরা বলেছি, তাদের যে দাবি সরকার পতন হবে, ওটাতে কোনো মতে সমঝোতার স্কোপ নেই।’

মার্কিন কংগ্রেসম্যানদের কাছে তাদের দেশে নির্বাচনে সরকার পতন হয় কি না- প্রশ্ন রেখে ড. মোমেন বলেন, ‘নির্বাচনের সময় তোমাদের দেশে (যুক্তরাষ্ট্র) কি সরকার পতন হয়? নিশ্চয়ই না। এরকম ডিমান্ড (বিএনপির যে চাওয়া) থাকলে তোমরা কি আলোচনায় বসবা? ওগুলোর প্রশ্নই উঠতে পারে না। আমরা আমাদের শাসনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন করব। সেটাতে সবাই অংশগ্রহণ করুক, সেটাই আমরা চাই। কে জিতবে না জিতবে, সেটা জনগণের ওপর নির্ভর করবে। আমরা বিশ্বাস করি, আমরা অনেক ভালো কাজ করেছি।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ওরা নির্বাচনের কথা বলেছে। আমরা বললাম, সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। নিজের তাগিদে আমরা একটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চাই। এটা আমাদের প্রধানমন্ত্রী অঙ্গীকার করেছেন, আমরাও চাই। কারণ আমরা জনগণের সমর্থনে আছি। আওয়ামী লীগ সব সময় নির্বাচনে বিশ্বাস করে, নির্বাচনমুখী দল।’

দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিকতা থাকলে সুষ্ঠু এবং সহিংসতা ছাড়া নির্বাচন সম্ভব জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যতগুলো দল আছে সব দল যদি নির্বাচনে যোগদান করে, তারা যদি আন্তরিকভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, অবাধ, সুষ্ঠু ও সহিংসতা ছাড়া নির্বাচন চায়, তাহলে নির্বাচন সহিংসতা ছাড়া হবে।’

মোমেন বলেন, ‘আমরা বলেছি, এখানে নির্বাচন তোমাদের (যুক্তরাষ্ট্র) ওখানের চেয়ে ভালো হয়। তোমাদের ওখানে লোকে ভোট দেয় না। আমাদের এখানে অধিকাংশ লোক ভোট দেয়। তোমাদের ওখানে লোক নির্বাচনে দাঁড়ায় না। এখানে একটা নির্বাচনে কয়েকশ লোক দাঁড়ায়। ওটা নিয়ে আমাদের কোনো অসুবিধা নেই। শুধু সব দলের মতের লোকের আন্তরিকতা দরকার।’

বৈঠকে চীন নিয়ে দুই কংগ্রেসম্যানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মোমেন বলেন, ‘চীন নিয়ে তারা বলেছে- তোমরা চীনের ভেতরে চলে যাচ্ছ। আমরা বলেছি, আমরা চীনের ঋণের ফাঁদে যাচ্ছি না। আমরা চীন থেকে যে ঋণ নিয়েছি, তা মাত্র এক শতাংশের মতো।’

মোমেন আরও বলেন, ‘দুই কংগ্রেসম্যানের সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তারা বলেছে, রোহিঙ্গাদের কাজ দেওয়ার জন্য। আমরা বলেছি, আমাদের ঘনবসতি। আর আমাদেরই প্রতি বছর ২০ লাখ যুবক কাজের বাজারে যোগ হয়। তোমরা মাত্র ৬২ জন রোহিঙ্গা নিয়েছ। পারলে আরও রোহিঙ্গাদের নিয়ে যাও।’

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের দুজন সদস্য গতকাল শনিবার চার দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছেন। এদের একজন এড কেইস। তিনি ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টির কংগ্রেস সদস্য। অপরজন রিচার্ড ম্যাকরমিক, তিনি রিপাবলিকান পার্টির সদস্য।

জনপ্রিয়

ভিনিসিউসের নৈপুণ্যে শীর্ষে রিয়াল

সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ–পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৭:০২:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৩

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার কোনো সুযোগ আছে কি না তা জানতে চেয়েছেন ঢাকায় সফররত দুই মার্কিন কংগ্রেসম্যান এড কেইস ও রিচার্ড ম্যাকরমিক। আজ রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় দুই মার্কিন কংগ্রেসম্যানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘তারা (কংগ্রেসম্যান) বলেছে, তোমাদের কোনো সমঝোতার পথ আছে কি না ওদের (বিএনপি) সঙ্গে। আমরা বলেছি, তাদের যে দাবি সরকার পতন হবে, ওটাতে কোনো মতে সমঝোতার স্কোপ নেই।’

মার্কিন কংগ্রেসম্যানদের কাছে তাদের দেশে নির্বাচনে সরকার পতন হয় কি না- প্রশ্ন রেখে ড. মোমেন বলেন, ‘নির্বাচনের সময় তোমাদের দেশে (যুক্তরাষ্ট্র) কি সরকার পতন হয়? নিশ্চয়ই না। এরকম ডিমান্ড (বিএনপির যে চাওয়া) থাকলে তোমরা কি আলোচনায় বসবা? ওগুলোর প্রশ্নই উঠতে পারে না। আমরা আমাদের শাসনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন করব। সেটাতে সবাই অংশগ্রহণ করুক, সেটাই আমরা চাই। কে জিতবে না জিতবে, সেটা জনগণের ওপর নির্ভর করবে। আমরা বিশ্বাস করি, আমরা অনেক ভালো কাজ করেছি।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ওরা নির্বাচনের কথা বলেছে। আমরা বললাম, সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। নিজের তাগিদে আমরা একটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চাই। এটা আমাদের প্রধানমন্ত্রী অঙ্গীকার করেছেন, আমরাও চাই। কারণ আমরা জনগণের সমর্থনে আছি। আওয়ামী লীগ সব সময় নির্বাচনে বিশ্বাস করে, নির্বাচনমুখী দল।’

দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিকতা থাকলে সুষ্ঠু এবং সহিংসতা ছাড়া নির্বাচন সম্ভব জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যতগুলো দল আছে সব দল যদি নির্বাচনে যোগদান করে, তারা যদি আন্তরিকভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, অবাধ, সুষ্ঠু ও সহিংসতা ছাড়া নির্বাচন চায়, তাহলে নির্বাচন সহিংসতা ছাড়া হবে।’

মোমেন বলেন, ‘আমরা বলেছি, এখানে নির্বাচন তোমাদের (যুক্তরাষ্ট্র) ওখানের চেয়ে ভালো হয়। তোমাদের ওখানে লোকে ভোট দেয় না। আমাদের এখানে অধিকাংশ লোক ভোট দেয়। তোমাদের ওখানে লোক নির্বাচনে দাঁড়ায় না। এখানে একটা নির্বাচনে কয়েকশ লোক দাঁড়ায়। ওটা নিয়ে আমাদের কোনো অসুবিধা নেই। শুধু সব দলের মতের লোকের আন্তরিকতা দরকার।’

বৈঠকে চীন নিয়ে দুই কংগ্রেসম্যানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মোমেন বলেন, ‘চীন নিয়ে তারা বলেছে- তোমরা চীনের ভেতরে চলে যাচ্ছ। আমরা বলেছি, আমরা চীনের ঋণের ফাঁদে যাচ্ছি না। আমরা চীন থেকে যে ঋণ নিয়েছি, তা মাত্র এক শতাংশের মতো।’

মোমেন আরও বলেন, ‘দুই কংগ্রেসম্যানের সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তারা বলেছে, রোহিঙ্গাদের কাজ দেওয়ার জন্য। আমরা বলেছি, আমাদের ঘনবসতি। আর আমাদেরই প্রতি বছর ২০ লাখ যুবক কাজের বাজারে যোগ হয়। তোমরা মাত্র ৬২ জন রোহিঙ্গা নিয়েছ। পারলে আরও রোহিঙ্গাদের নিয়ে যাও।’

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের দুজন সদস্য গতকাল শনিবার চার দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছেন। এদের একজন এড কেইস। তিনি ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টির কংগ্রেস সদস্য। অপরজন রিচার্ড ম্যাকরমিক, তিনি রিপাবলিকান পার্টির সদস্য।