
খুলনা র্যাব-৬ এর একটি আভিযানিক দল শনিবার রাতে খুলনার দাকোপ ও বাগেরহাটের মোংলা ইপিজেড এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ জলদুস্যু আসাবুর বাহিনী প্রধান আসাবুর সানাসহ (৪৩) আট জলদস্যুকে গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলো- শরিফুল ঢালী (৩৭), শাহিন সানা (২৭), ইস্রাফিল সানা (২৭), শফিকুল ইসলাম, রাকিব ফরাজি (২২), সোহান মৃধা (১৯), ও আকবর আলী শেখ (২৫)। এদের বাড়ি খুলনার দাকোপ, নড়াইল ও বাগেরহাটের ফকিরহাট এলাকায়।
তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় দেশী-বিদেশী অস্ত্র ও গোলাবারুদ। র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জলদস্যুতার সাথে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত প্রদান করেছে।
খুলনা র্যাব-৬ এর মিডিয়া সেল থেকে রবিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে দেয়া এক মেইল বার্তায় আসাবুরের জলদস্যুতা বিষয়ে জানানো হয়, আসাবুর মূলত সুন্দরবনের মৃত্যুঞ্জয় বাহিনীর প্রধান আকাশ বাবু ওরফে মৃত্যুঞ্জয়ের শিষ্য এবং ২০০৩-২০০৭ সাল পর্যন্ত মৃত্যুঞ্জয় বাহিনীর সক্রিয় সদস্য ছিলো।
সে মৃত্যুঞ্জয়ের সাথে চার বছর সুন্দরবনে ছিলো। মৃত্যুঞ্জয় পাশ্ববর্তী দেশে চলে গেলে সে বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়াতো ও বিভিন্ন বাহিনীর সাথে মিলে দস্যুতা করতো। তার কাছে একটি দুই নলা বন্দুক ছিলো এবং পরে কোস্টগার্ড কর্তৃক শশ্মান থেকে তা উদ্ধার করা হয়।
আসাবুর ইতোপূর্বে একটি অস্ত্র মামলায় তিন বছর কারাভোগ করে ২০১৫ সালে জামিনে মুক্তি পায়। পরবর্তীতে সে ২০১৬ সাল থেকে ছোট বনদুস্য জাহাঙ্গীর বাহিনীর উপ-প্রধান ছিলো। ছোট জাহাঙ্গীর ২০১৯ সালে র্যাবের নিকট আত্মসমর্পণ করেলেও আসাবুর আত্মসমর্পণ করেনি।
এ সময়ে সে বিভিন্ন বাহিনীর সাথে থেকে জেলেদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতো। আসাবুর গত ২০ জুলাই তার সহযোগীদের নিয়ে সুন্দরবনে চার দিন অবস্থান করে ২৩ জুলাই ১০ জন জেলেকে জিম্মি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রহণ করে।
মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ উত্তোলনের সাথে জড়িত মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবসায়ী রবিউলসহ অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার করে ইতোমধ্যে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়। তার নামে ডাকাতি মামলা রয়েছে। গত ২৩ জুলাই সুন্দরবনের ভদ্রা নদীতে বেশ কয়েকজন জেলেকে জলদস্যুরা অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে।
উক্ত ঘটনায় র্যাব-৬ অভিযান পরিচালনা করে এবং ২৮ জুলাই অপহরণের সাথে জড়িত পাঁচজন জলদস্যুকে গ্রেফতার করে এবং ১৪ জন ভিকটিমকে উদ্ধার করে। গ্রেফতারকৃত জলদস্যুদের দেয়া তথ্য মতে অন্য জলদস্যুদের গ্রেফতার করতে র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। তারই অংশ হিসাবে আসাবুরকে তার বাহিনীসহ গ্রেফতার করা হয়।
মংলা প্রতিনিধি।। 







































