
ঘনিয়ে আসছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ বছরের শেষে অথবা ২০২৪ সালের প্রথমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন জরিপ শুরু করেছে।
জাহাঙ্গীর কবির নানক ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছিলেন ঢাকার একটি আসন থেকে। ২০১৪ সালেও তিনি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৮ সালের নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার পর তিনি আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন পাবেন কিনা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে আওয়ামী লীগ মাঠ পর্যায়ে থেকে যে ৬টি জরিপ করেছে তাতে ঢাকার এই আসনে জাহাঙ্গীর কবির নানকের জয়-জয়কার। তিনি এখন সেই নির্বাচনী এলাকায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। শুধু জাহাঙ্গীর কবির নানক নন, আওয়ামী লীগের এবারের মাঠ জরিপগুলোতে একটি চমৎকার তথ্য পাওয়া গেছে।
দেখা যাচ্ছে, যে সমস্ত রাজনীতিবিদরা মাঠে চড়িয়ে বেড়ান, যাদের সাথে কর্মী এবং জনগণের সম্পৃক্ততা বেশি রয়েছে, যারা রাজপথে সক্রিয় প্রায় সবগুলো জরিপে তারা এগিয়ে রয়েছেন। এটি আওয়ামী লীগের জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ খবর বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আওয়ামী লীগের আরেকজন প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান গত নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি। আব্দুর রহমানকেও গত পাঁচ বছরে রাজপথে সক্রিয় দেখা গেছে। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন জনসভা, বিভিন্ন এলাকায় সম্মেলন, বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি ছিলেন সরব। সারাদেশ তিনি চষে বেরিয়েছেন। আর তার ফলাফল তিনি পাচ্ছেন হাতেনাতে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এ যাবৎকালে করা ৬ জরিপেই ফরিদপুরের আসনটিতে আব্দুর রহমানের নাম আছে সবার ওপরে। তার জনপ্রিয়তা অন্যান্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের চেয়ে অনেক বেশি।
একই রকম অবস্থা দেখা যাচ্ছে আওয়ামী লীগের আরেক জনপ্রিয় নেতা বাহাউদ্দিন নাছিমের ক্ষেত্রে। তিনিও ২০১৮ সালে মাদারীপুরের একটি আসন থেকে মনোনয়ন পাননি। মনোনয়ন বঞ্চিত হলেও তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। রাজপথে সক্রিয় থাকার কারণে কর্মীদের সঙ্গে তার নিবিড় যোগাযোগ। শুধু কর্মীবান্ধব হওয়ার কারণে নয়, সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয়ে বাহাউদ্দিন নাছিম হয়ে উঠেছিলেন তৃণমূলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত নেতা। আর তার ফলাফল দেখা যাচ্ছে মাঠের জরিপে। বাহাউদ্দিন নাছিম তার নির্বাচনী এলাকায় এবার সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
এস এম কামাল হোসেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি। কিন্তু এবারে মাঠ জরিপে খুলনার একটি আসনে তিনি এগিয়ে আছেন। গত নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েছেন, টানা ছয়বার এমপি হয়েছেন মির্জা আজম। কিন্তু তিনি রাজপথ ছাড়েননি। রাজপথের এই সক্রিয় নেতা জামালপুরে তার আসনেই শুধু অপ্রতিদ্বন্দ্বী নন, পুরো জামালপুরে আওয়ামী লীগের একক নেতা হিসেবে তিনি আবির্ভূত হয়েছেন। একই রকম জনপ্রিয়তা দেখা যাচ্ছে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের ক্ষেত্রেও। তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন। কর্মীদের মধ্যে তার অবস্থান সুদৃঢ়। আর এ কারণেই মনোনয়ন জরিপে দেখা গেছে, মাহবুবউল আলম হানিফের অবস্থান অনেক উঁচুতে।
গত নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি, তবে আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কাউন্সিলে সুজিত রায় নন্দী এর অবস্থানের উন্নতি হয়েছে। সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন তিনি। কর্মী বান্ধব এই নেতাও চাঁদপুরের একটি আসনে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট একজন প্রার্থীর চেয়ে জনপ্রিয়তার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। এরকম অনেকগুলো আসনেই দেখা যাচ্ছে, যে সমস্ত নেতারা জনসম্পৃক্ত বেশি, যারা জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে সরব থাকেন, তাদের ব্যাপারে জনগণের ইতিবাচক মনোভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই বিষয়টি একটি বিষয় প্রমাণ করে যে নির্বাচনে সাধারণ মানুষ রাজনীতিবিদদেরকেই পছন্দ করে।
ঢাকা ব্যুরো।। 







































