শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যশোর হাসপাতালে কর্মচারীদের হাতে তিন সাংবাদিক লাঞ্ছিত

ডেঙ্গুর সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে যশোর জেনারেল হাসপাতালে লাঞ্ছিত হয়েছেন সাংবাদিকরা। এসময় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হারুন-অর-রশীদ সাংবাদিকদের পুলিশের হাতে তুলে দেবার চেষ্টা করেন। গতকাল রোববার দুপুরে এঘটনা ঘটে। লাঞ্ছনার শিকার সাংবাদিকরা হলেন, বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) যশোর প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাব যশোরের সহ-সভাপতি ওহাবুজ্জামান ঝন্টু, ৭১ টিভির যশোর প্রতিনিধি এস এম ফরহাদ ও ক্যামেরা পারসন শাহারুল ইসলাম ফারদিন। এসময় তত্ত্বাবধায়ক একাত্তর টেলিভিশনের ক্যামেরা পারসন শাহারুল ইসলাম ফারদিনকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার চেষ্টা করেন।
লাঞ্ছিত ৭১ টিভির যশোর প্রতিনিধি ও সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ জানান, ডেঙ্গু রোগি সংক্রান্ত তথ্যের জন্য হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কে ফোন করলে তিনি সরাসরি তার অফিসে যেতে বলেন। তার অফিসে যাওয়ার পর তিনি ৭১ টিভির ক্যামেরা পারসনকে দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে রুম থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। এসময় তিনি ক্যামেরা পারসনকে ধাক্কা দেন। এরপর কয়েক জন চিকিৎসক ও কর্মচারীকে ডেকে নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে গণমাধ্যমে
নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় তত্বাবধায় ক্ষুদ্ধ ছিলেন। এঘটনায় সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
প্রেসক্লাব যশোর সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন ও সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরসহ সাংবাদিকদের কয়েকটি সংগঠন এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
এব্যাপারে যশোর সিভিল সার্জন বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস বলেন, আমি শুনেছি হাসপাতালে একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। সাংবাদিকদের চাহিদা মোতাবেক যতদুর সম্ভব তথ্য দেয়া উচিত। সংবাদ কর্মীদের প্রতি অনুরোধ সরকারি অফিসে যেয়ে শিষ্ঠাচার মেনে চলা । নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি থাকা উচিত নয়। এধরনের ঘটনা না ঘটাই ভালো। এটা অনাকাঙ্খিত। ভবিষ্যতে যেন এধরনের ঘটনা না ঘটে সেজন্য আমি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করবো। বিষয়টি তিনি বিভাগীয় পরিচালককে অবহিত করবেন জানিয়ে তিনি মিলেমিশে কাজ করার জন্যও গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি আহবান জানান।
এদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের নেতৃবৃন্দ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা বিবৃতিতে বলেছেন পেশাগত দায়িত্বপালনকালে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক কর্তৃক সাংবাদিক লাঞ্ছনার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি। তারা অনতিবিলম্বে এ ঘটনার সাথে জড়িত যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হারুন অর রশিদের অপসারণ দাবি করেন।
এক বিবৃতিতে সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি আকরামুজ্জামান ও যুগ্ম সম্পাদক গালিব হাসান পিল্টু বলেন, রোববার দুপুরে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ডেঙ্গু সংক্রান্ত একটি রিপোর্টের জন্য হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কাছে যান প্রেসক্লাব যশোরের সহসভাপতি বিটিভির জেলা প্রতিনিধি ওহাবুজ্জামান ঝন্টু, ৭১ টিভির যশোর প্রতিনিধি- সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ ও তার ক্যামেরা পারসন শাহারুল ইসলাম ফারদিন। এসময় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক কয়েক জন চিকিৎসক ও কর্মচারীকে ডেকে নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। পরে তত্ত্বাবধায়ক একাত্তর টেলিৃিভশনের ক্যামেরা পারসন শাহারুল ইসলাম ফারদিনকে পুলিশ ডেকে এনে তাদের হাতে তুলে দেয়ার চেষ্টা চালান।
নেতৃবৃন্দ বলেন, একটি সরকারি দপ্তরে একজন সরকারি কর্মকর্তার গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে এ ধরনের আচরণ কখনও মেনে নেয়া যায়না। এ ঘটনায় সাংবাদিক সমাজের মাঝে উদ্বেগ উৎকন্ঠা বাড়িয়ে দিয়েছে।
জেইউজের নেতৃবৃন্দ এ ঘটনার সাথে জড়িত হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হারুন অর রশিদের দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়ে এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। অন্যথায় এর বিরুদ্ধে সাংবাদিকরা কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে যশোর জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন এর সভাপতি শেখ দিনু আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মোর্শেদ আলম ঘটনার জন্য তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
জনপ্রিয়

যশোরে দ্রুত বিচার মামলার আসামি রুবেল ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার

যশোর হাসপাতালে কর্মচারীদের হাতে তিন সাংবাদিক লাঞ্ছিত

প্রকাশের সময় : ১০:২৫:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৩
ডেঙ্গুর সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে যশোর জেনারেল হাসপাতালে লাঞ্ছিত হয়েছেন সাংবাদিকরা। এসময় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হারুন-অর-রশীদ সাংবাদিকদের পুলিশের হাতে তুলে দেবার চেষ্টা করেন। গতকাল রোববার দুপুরে এঘটনা ঘটে। লাঞ্ছনার শিকার সাংবাদিকরা হলেন, বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) যশোর প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাব যশোরের সহ-সভাপতি ওহাবুজ্জামান ঝন্টু, ৭১ টিভির যশোর প্রতিনিধি এস এম ফরহাদ ও ক্যামেরা পারসন শাহারুল ইসলাম ফারদিন। এসময় তত্ত্বাবধায়ক একাত্তর টেলিভিশনের ক্যামেরা পারসন শাহারুল ইসলাম ফারদিনকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার চেষ্টা করেন।
লাঞ্ছিত ৭১ টিভির যশোর প্রতিনিধি ও সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ জানান, ডেঙ্গু রোগি সংক্রান্ত তথ্যের জন্য হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কে ফোন করলে তিনি সরাসরি তার অফিসে যেতে বলেন। তার অফিসে যাওয়ার পর তিনি ৭১ টিভির ক্যামেরা পারসনকে দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে রুম থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। এসময় তিনি ক্যামেরা পারসনকে ধাক্কা দেন। এরপর কয়েক জন চিকিৎসক ও কর্মচারীকে ডেকে নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে গণমাধ্যমে
নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় তত্বাবধায় ক্ষুদ্ধ ছিলেন। এঘটনায় সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
প্রেসক্লাব যশোর সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন ও সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরসহ সাংবাদিকদের কয়েকটি সংগঠন এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
এব্যাপারে যশোর সিভিল সার্জন বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস বলেন, আমি শুনেছি হাসপাতালে একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। সাংবাদিকদের চাহিদা মোতাবেক যতদুর সম্ভব তথ্য দেয়া উচিত। সংবাদ কর্মীদের প্রতি অনুরোধ সরকারি অফিসে যেয়ে শিষ্ঠাচার মেনে চলা । নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি থাকা উচিত নয়। এধরনের ঘটনা না ঘটাই ভালো। এটা অনাকাঙ্খিত। ভবিষ্যতে যেন এধরনের ঘটনা না ঘটে সেজন্য আমি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করবো। বিষয়টি তিনি বিভাগীয় পরিচালককে অবহিত করবেন জানিয়ে তিনি মিলেমিশে কাজ করার জন্যও গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি আহবান জানান।
এদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের নেতৃবৃন্দ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা বিবৃতিতে বলেছেন পেশাগত দায়িত্বপালনকালে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক কর্তৃক সাংবাদিক লাঞ্ছনার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি। তারা অনতিবিলম্বে এ ঘটনার সাথে জড়িত যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হারুন অর রশিদের অপসারণ দাবি করেন।
এক বিবৃতিতে সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি আকরামুজ্জামান ও যুগ্ম সম্পাদক গালিব হাসান পিল্টু বলেন, রোববার দুপুরে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ডেঙ্গু সংক্রান্ত একটি রিপোর্টের জন্য হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কাছে যান প্রেসক্লাব যশোরের সহসভাপতি বিটিভির জেলা প্রতিনিধি ওহাবুজ্জামান ঝন্টু, ৭১ টিভির যশোর প্রতিনিধি- সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ ও তার ক্যামেরা পারসন শাহারুল ইসলাম ফারদিন। এসময় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক কয়েক জন চিকিৎসক ও কর্মচারীকে ডেকে নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। পরে তত্ত্বাবধায়ক একাত্তর টেলিৃিভশনের ক্যামেরা পারসন শাহারুল ইসলাম ফারদিনকে পুলিশ ডেকে এনে তাদের হাতে তুলে দেয়ার চেষ্টা চালান।
নেতৃবৃন্দ বলেন, একটি সরকারি দপ্তরে একজন সরকারি কর্মকর্তার গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে এ ধরনের আচরণ কখনও মেনে নেয়া যায়না। এ ঘটনায় সাংবাদিক সমাজের মাঝে উদ্বেগ উৎকন্ঠা বাড়িয়ে দিয়েছে।
জেইউজের নেতৃবৃন্দ এ ঘটনার সাথে জড়িত হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হারুন অর রশিদের দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়ে এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। অন্যথায় এর বিরুদ্ধে সাংবাদিকরা কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে যশোর জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন এর সভাপতি শেখ দিনু আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মোর্শেদ আলম ঘটনার জন্য তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।