রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমেছে ২১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারে

  • ঢাকা ব্যুরো।।
  • প্রকাশের সময় : ১০:০৭:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • ২৫২

এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) দায় পরিশোধের ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও কমেছে। জুলাই-আগস্ট সময়ের জন্য প্রায় ১ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলারের আমদানি দায় পরিশোধ করা হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে গ্রোস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার। আরআইএমএফের বিপিএম-৬ ম্যানুয়্যাল অনুযায়ী, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারে নেমে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক সাংবাদিকদের বলেন, জুলাই-আগস্ট সময়ের জন্য ১ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলারের আমদানি দায় পরিশোধ করা হয়েছে। এরপর আমাদের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭.৬১ বিলিয়ন ডলার। তবে বিপিএম-৬ ম্যানুয়াল অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ কত দাঁড়িয়েছে সেটি তিনি বলতে রাজি হননি।

এতদিন রিজার্ভ থেকে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলে (ইডিএফ) সরবরাহ করা ৪.১০ বিলিয়ন ও শ্রীলংকাকে দেওয়া ২০ কোটি ডলার (১৫ কোটি ডলার পরিশোধ), গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড (জিটিএফ) ২০ কোটি, লং টার্ম ফিন্যান্সিং ফ্যাসিলিটি (এলটিএফএফ) তহবিলে ৩ কোটি ৮৫ লাখ, সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমানকে ৪ কোটি ৮০ লাখ এবং ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইটিএফসি)-এর আমানত রিজার্ভে দেখিয়ে আসছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে আইএমএফের বিপিএম-৬ অনুসারে এগুলো রিজার্ভের অংশ নয়। ফলে দাতা সংস্থাটির পরামর্শ মেনে জুলাই হতে রিজার্ভ থেকে এগুলো আলাদা করেও হিসাব দেখাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সবমিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের হিসাব থেকে ৬.১৩ বিলিয়ন ডলার বাদ দিয়ে আইএমএফের হিসাবে গ্রোস রিজার্ভ দেখানো হচ্ছে। গত বুধবার আইএমএফের হিসাবপদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ ছিল ২৩ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলার। তবে আকুর ১ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার বাদ দেওয়ার পর সেটি এখন ২৩ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারে নেমে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আঞ্চলিক দেশগুলোর লেনদেনের নিষ্পত্তির একটি মাধ্যম হলো আকু। তেহরানভিত্তিক এ সংস্থার সদস্য দেশ হলো ভারত, বাংলাদেশ, ভুটান, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, নেপাল ও পাকিস্তান। সদস্য দেশগুলো প্রতি ২ মাস অন্তর অর্থ পরিশোধ করে। আকু পেমেন্ট করার পর সাধারণত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যায়। প্রতি দুই মাসের দায় পরবর্তী মাসের প্রথম সপ্তাহে পরিশোধ করে এসব দেশ।

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১ দশমিক ১২ বিলিয়ন, মার্চে ১ দশমিক ০৫ বিলিয়ন, মে মাসে ১ দশমিক ১৮ বিলিয়ন এবং জুলাই মাসে পরিশোধ করা হয় ১ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার।

২০২১ সালের আগস্টে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে উঠেছিল। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোয় বিশ্বব্যাপী পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে বেশি পরিমাণ আমদানি বিল পরিশোধ করতে হয়। এতে রিজার্ভ কমতে থাকে।

এদিকে গত ফেব্রুয়ারিতে ৪.৭০ বিলিয়ন ডলারের ঋণের প্রথম কিস্তি হিসেবে বাংলাদেশকে ৪৭৬.২৭ মিলিয়ন ডলার বিতরণ করেছে আইএমএফ। দ্বিতীয় কিস্তি চলতি বছরের শেষে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। আইএমএফ ঋণ চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে দেশের নেট রিজার্ভের পরিমাণ হতে হবে ২৫.৩১ বিলিয়ন ডলার এবং ডিসেম্বরের শেষে হতে হবে ২৬ বিলিয়ন ডলার। –আমাদের সময়

জনপ্রিয়

যশোর-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে তৃপ্তি -হাসান ঐক্যবদ্ধ

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমেছে ২১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারে

প্রকাশের সময় : ১০:০৭:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩

এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) দায় পরিশোধের ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও কমেছে। জুলাই-আগস্ট সময়ের জন্য প্রায় ১ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলারের আমদানি দায় পরিশোধ করা হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে গ্রোস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার। আরআইএমএফের বিপিএম-৬ ম্যানুয়্যাল অনুযায়ী, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারে নেমে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক সাংবাদিকদের বলেন, জুলাই-আগস্ট সময়ের জন্য ১ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলারের আমদানি দায় পরিশোধ করা হয়েছে। এরপর আমাদের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭.৬১ বিলিয়ন ডলার। তবে বিপিএম-৬ ম্যানুয়াল অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ কত দাঁড়িয়েছে সেটি তিনি বলতে রাজি হননি।

এতদিন রিজার্ভ থেকে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলে (ইডিএফ) সরবরাহ করা ৪.১০ বিলিয়ন ও শ্রীলংকাকে দেওয়া ২০ কোটি ডলার (১৫ কোটি ডলার পরিশোধ), গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড (জিটিএফ) ২০ কোটি, লং টার্ম ফিন্যান্সিং ফ্যাসিলিটি (এলটিএফএফ) তহবিলে ৩ কোটি ৮৫ লাখ, সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমানকে ৪ কোটি ৮০ লাখ এবং ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইটিএফসি)-এর আমানত রিজার্ভে দেখিয়ে আসছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে আইএমএফের বিপিএম-৬ অনুসারে এগুলো রিজার্ভের অংশ নয়। ফলে দাতা সংস্থাটির পরামর্শ মেনে জুলাই হতে রিজার্ভ থেকে এগুলো আলাদা করেও হিসাব দেখাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সবমিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের হিসাব থেকে ৬.১৩ বিলিয়ন ডলার বাদ দিয়ে আইএমএফের হিসাবে গ্রোস রিজার্ভ দেখানো হচ্ছে। গত বুধবার আইএমএফের হিসাবপদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ ছিল ২৩ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলার। তবে আকুর ১ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার বাদ দেওয়ার পর সেটি এখন ২৩ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারে নেমে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আঞ্চলিক দেশগুলোর লেনদেনের নিষ্পত্তির একটি মাধ্যম হলো আকু। তেহরানভিত্তিক এ সংস্থার সদস্য দেশ হলো ভারত, বাংলাদেশ, ভুটান, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, নেপাল ও পাকিস্তান। সদস্য দেশগুলো প্রতি ২ মাস অন্তর অর্থ পরিশোধ করে। আকু পেমেন্ট করার পর সাধারণত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যায়। প্রতি দুই মাসের দায় পরবর্তী মাসের প্রথম সপ্তাহে পরিশোধ করে এসব দেশ।

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১ দশমিক ১২ বিলিয়ন, মার্চে ১ দশমিক ০৫ বিলিয়ন, মে মাসে ১ দশমিক ১৮ বিলিয়ন এবং জুলাই মাসে পরিশোধ করা হয় ১ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার।

২০২১ সালের আগস্টে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে উঠেছিল। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোয় বিশ্বব্যাপী পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে বেশি পরিমাণ আমদানি বিল পরিশোধ করতে হয়। এতে রিজার্ভ কমতে থাকে।

এদিকে গত ফেব্রুয়ারিতে ৪.৭০ বিলিয়ন ডলারের ঋণের প্রথম কিস্তি হিসেবে বাংলাদেশকে ৪৭৬.২৭ মিলিয়ন ডলার বিতরণ করেছে আইএমএফ। দ্বিতীয় কিস্তি চলতি বছরের শেষে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। আইএমএফ ঋণ চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে দেশের নেট রিজার্ভের পরিমাণ হতে হবে ২৫.৩১ বিলিয়ন ডলার এবং ডিসেম্বরের শেষে হতে হবে ২৬ বিলিয়ন ডলার। –আমাদের সময়