
আপাতত রোড মার্চ করে নেতাকর্মীদের রাজপথে রাখতে চায় বিএনপি। সরকার পতনের এক দফা দাবিতে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জায়গায় চলবে এই রোড মার্চ। এরই ফাঁকে ঢাকায় পেশাজীবী, কৃষক, শ্রমিক ও মহিলা দলের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এমন ডজনখানেক কর্মসূচির বিস্তারিত ঘোষণা করা হবে আজ সোমবার। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গুলশানে সংবাদ সম্মেলনে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। একই সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা শরিকদেরও অভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
সূত্র বলছে, সরকারের পদত্যাগ, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি তথা এক দফা দাবি আদায়ে মঙ্গলবার ঢাকার জিঞ্জিরা অথবা কেরানীগঞ্জ এবং টঙ্গীতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে অতিথি থাকবেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার ভৈরব-ব্রাহ্মণবাড়িয়া-হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার-সিলেট মহাসড়কে হবে রোড মার্চ। শুক্রবার ২২ সেপ্টেম্বর ঢাকায় পেশাজীবী দলের সমাবেশ। যেখানে প্রধান অতিথি থাকবেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগরের যাত্রাবাড়ী ও উত্তরায় সমাবেশ।
শনিবার ২৩ সেপ্টেম্বর বরিশাল-ঝালকাঠি-পিরোজপুর-পটুয়াখালী মহাসড়কে রোড মার্চ। সোমবার ২৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নয়াবাজার ও ঢাকা জেলার আমিন বাজারে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
মঙ্গলবার ২৬ সেপ্টেম্বর খুলনা বিভাগে রোড মার্চ হওয়ায় কথা রয়েছে। পরদিন ঢাকার গাবতলী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লায় জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় মহিলা দলের সমাবেশে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপি মহাসচিব। পরদিন শনিবার ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় কৃষক-শ্রমিক সমাবেশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।
এ ছাড়া ১ অক্টোবর ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে রোড মার্চ করার কথা রয়েছে। এক দিন বিরতি দিয়ে ৩ অক্টোবর কুমিল্লা-ফেনী-মিরসরাই-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সবশেষ রোড মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে থাকবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ ছাড়া বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিএনপি বলছে, যুগপৎ ধারার সব দল এসব কর্মসূচি সমর্থন জানিয়ে যার যার সাধ্যমতো পালনের চেষ্টা করবে।
এ বিষয়ে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ সময়ের আলোকে বলেন, রংপুর ও বিভাগে সফল রোড মার্চ হয়েছে। এখন বাকি বিভাগে হবে। নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে মাঠে নিয়েই আসাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ধারাবাহিকভাবে সারা দেশে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তবে ঢাকাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। সবমিলিয়ে আন্দোলনের সব ধরনের গ্রাউন্ড ওয়ার্ক করা হচ্ছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সময়ের আলোকে বলেন, সরকারের মনোভাব ও জনগণের চাহিদার ওপর নির্ভর করছে আমাদের কর্মসূচির ধরন। তৃণমূল থেকে ঢাকায় সবখানেই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়বে একযোগে। এর মাধ্যমে আন্দোলনের গণজোয়ার তৈরি হচ্ছে। এখন শুধু চূড়ান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে।
গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক সময়ের আলোকে বলেন, সরকারকে শেষ ধাক্কা দেওয়া হবে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের পর। আমরা টানা কর্মসূচি দিয়ে নেতাকর্মীদের আবারও উজ্জীবিত করব। এরপর ঘেরাও অবরোধ প্রয়োজনে টানা হরতাল আসতে পারে।
ঢাকা ব্যুরো।। 






































