বুধবার, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬, ২৩ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘না জানা’ অধিনায়ক লিটন

২০০৮ সালের পর বাংলাদেশের মাটিতে নিউ জিল্যান্ড ওয়ানডেতে কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি, এই কীর্তি কি অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে কি না? নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক লিটন দাস এমন প্রশ্নের জন্য যেন প্রস্তুত ছিলেন না। পাল্টা প্রশ্ন করে তাই জিজ্ঞেস করেন, ‘২০০৮ সালের পর ওরা কি খেলছে?’

একদিন বাদেই শুরু হবে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজ। অথচ লিটন জানেনই না নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের সাফল‌্যগাঁথা। শুধু তাই নয় প্রায় পনের মিনিটের সংবাদ সম্মেলনে লিটন অনেকবারই বলেছেন, জানি না, আমার জানা নেই, এখনও পরিকল্পনা করিনি।’

মেঘলা আবহওয়ায় উইকেট গুমোট থাকবে তা মোটামুটি সবারই জানা। নিউ জিল‌্যান্ডকে হারাতে স্পিনবান্ধব উইকেটই ভরসা তা জানা সফরকারীদেরও। অথচ নিজেদের ২২ গজ কেমন হতে পারে সেই সম্পর্কে ধারণা নেই লিটনের, ‘জানি না ভাই। উইকেট সম্বন্ধে এখনও কোনো আইডিয়া নেই। যা-ই হবে দুই দলের জন্য একই হবে।’

বেশ কিছু খেলোয়াড়কে বিশ্রামে রেখে এবার দল সাজানো হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন‌্য নিয়ে আসা হয়েছে দলের বাইরে থাকা ক্রিকেটারদেরকে। স্কোয়াডে আছে ছয় ওপেনার। কাকে রেখে কাকে খেলাবে দল? নিশ্চয়ই তা মাথা ব‌্যথার কারণ যেকোনো অধিনায়কের জন‌্য। অথচ ম‌্যাচের একদিন আগেও পরিকল্পনা নিয়ে কোনো চিন্তা নেই লিটনের, ‘এখনও পরিকল্পনা করিনি। দেখি কোচের সাথে আলোচনা করি জানাব। একটা দিন অপেক্ষা করেন কাল দেখতে পারবেন।’

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় প্রথম ওয়ানডেতে কিউইদের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। সিরিজে লিটনের চাওয়া শুধু জয়, ‘দেখেন অর্জনের তো অনেক কিছু আছে। আমরা যখন মাঠে নামব, তখন ফার্স্ট জিনিস হলো জেতার জন্য মাঠে নামব। এটা হচ্ছে বড় একটা অ্যাচিভমেন্ট। আপনি দেশের হয়ে ম্যাচ জিতবেন এটাই সবচেয়ে বড় জিনিস।’

তবে অন্য অনেক সংবাদ সম্মলেনের তুলনায় এবার অবশ্য লিটনকে আক্রমণাত্মক মনোভাবে পাওয়া যায়নি। যার বড় একটি কারণ হতে পারে তার ব‌্যাটে রান নেই। মুখে নেই হাসি। সবশেষ ১০ ম্যাচে ২৮.৬২ গড়ে ও ৯২.৩৩ স্ট্রাইক রেটে তার ব্যাট থেকে আসে ২২৯ রান। সেঞ্চুরি তো নেই, ফিফটি এসেছে কেবল দুইটি।

এর আগে নিজের পারফরম্যান্স প্রসঙ্গে ২৫/২৬ গড় ভালো বললেও এবার বলেছেন তিনি ছন্দ খোঁজার চেষ্টা করছেন, ‘আমি চেষ্টা করছি, অনুশীলন করছি, কিভাবে ফাইন্ড আউট করা যায়। আশা করছি তাড়াতাড়ি কামব্যাক করতে পারব। আত্মবিশ্বাসের বিষয় না। প্র্যাকটিস করছি, দেখা যাক কী করতে পারি।’

নিয়মিত অধিনায়কদের অবর্তমানে লিটন বাংলাদেশকে ৫টি ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। প্রথম সিরিজেই ভারতকে হারানোর কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। এরপর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২ ম্যাচ খেলে একটি করে জয় ও হার। সব মিলিয়ে ৫ ম্যাচে লিটন জয় পেয়েছেন তিনটিতে আর হেরেছেন ২টিতে। এবার সামনে নিউ জিল্যান্ড সিরিজ। ছন্দ খোঁজা লিটনের নেতৃত্বে এবার বাংলাদেশ কেমন করে সেটাই দেখার।

জনপ্রিয়

বাংলাদেশ ও পাকিস্তান বিমানবাহিনী প্রধানের বৈঠক

‘না জানা’ অধিনায়ক লিটন

প্রকাশের সময় : ০৫:২৩:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩

২০০৮ সালের পর বাংলাদেশের মাটিতে নিউ জিল্যান্ড ওয়ানডেতে কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি, এই কীর্তি কি অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে কি না? নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক লিটন দাস এমন প্রশ্নের জন্য যেন প্রস্তুত ছিলেন না। পাল্টা প্রশ্ন করে তাই জিজ্ঞেস করেন, ‘২০০৮ সালের পর ওরা কি খেলছে?’

একদিন বাদেই শুরু হবে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজ। অথচ লিটন জানেনই না নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের সাফল‌্যগাঁথা। শুধু তাই নয় প্রায় পনের মিনিটের সংবাদ সম্মেলনে লিটন অনেকবারই বলেছেন, জানি না, আমার জানা নেই, এখনও পরিকল্পনা করিনি।’

মেঘলা আবহওয়ায় উইকেট গুমোট থাকবে তা মোটামুটি সবারই জানা। নিউ জিল‌্যান্ডকে হারাতে স্পিনবান্ধব উইকেটই ভরসা তা জানা সফরকারীদেরও। অথচ নিজেদের ২২ গজ কেমন হতে পারে সেই সম্পর্কে ধারণা নেই লিটনের, ‘জানি না ভাই। উইকেট সম্বন্ধে এখনও কোনো আইডিয়া নেই। যা-ই হবে দুই দলের জন্য একই হবে।’

বেশ কিছু খেলোয়াড়কে বিশ্রামে রেখে এবার দল সাজানো হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন‌্য নিয়ে আসা হয়েছে দলের বাইরে থাকা ক্রিকেটারদেরকে। স্কোয়াডে আছে ছয় ওপেনার। কাকে রেখে কাকে খেলাবে দল? নিশ্চয়ই তা মাথা ব‌্যথার কারণ যেকোনো অধিনায়কের জন‌্য। অথচ ম‌্যাচের একদিন আগেও পরিকল্পনা নিয়ে কোনো চিন্তা নেই লিটনের, ‘এখনও পরিকল্পনা করিনি। দেখি কোচের সাথে আলোচনা করি জানাব। একটা দিন অপেক্ষা করেন কাল দেখতে পারবেন।’

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় প্রথম ওয়ানডেতে কিউইদের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। সিরিজে লিটনের চাওয়া শুধু জয়, ‘দেখেন অর্জনের তো অনেক কিছু আছে। আমরা যখন মাঠে নামব, তখন ফার্স্ট জিনিস হলো জেতার জন্য মাঠে নামব। এটা হচ্ছে বড় একটা অ্যাচিভমেন্ট। আপনি দেশের হয়ে ম্যাচ জিতবেন এটাই সবচেয়ে বড় জিনিস।’

তবে অন্য অনেক সংবাদ সম্মলেনের তুলনায় এবার অবশ্য লিটনকে আক্রমণাত্মক মনোভাবে পাওয়া যায়নি। যার বড় একটি কারণ হতে পারে তার ব‌্যাটে রান নেই। মুখে নেই হাসি। সবশেষ ১০ ম্যাচে ২৮.৬২ গড়ে ও ৯২.৩৩ স্ট্রাইক রেটে তার ব্যাট থেকে আসে ২২৯ রান। সেঞ্চুরি তো নেই, ফিফটি এসেছে কেবল দুইটি।

এর আগে নিজের পারফরম্যান্স প্রসঙ্গে ২৫/২৬ গড় ভালো বললেও এবার বলেছেন তিনি ছন্দ খোঁজার চেষ্টা করছেন, ‘আমি চেষ্টা করছি, অনুশীলন করছি, কিভাবে ফাইন্ড আউট করা যায়। আশা করছি তাড়াতাড়ি কামব্যাক করতে পারব। আত্মবিশ্বাসের বিষয় না। প্র্যাকটিস করছি, দেখা যাক কী করতে পারি।’

নিয়মিত অধিনায়কদের অবর্তমানে লিটন বাংলাদেশকে ৫টি ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। প্রথম সিরিজেই ভারতকে হারানোর কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। এরপর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২ ম্যাচ খেলে একটি করে জয় ও হার। সব মিলিয়ে ৫ ম্যাচে লিটন জয় পেয়েছেন তিনটিতে আর হেরেছেন ২টিতে। এবার সামনে নিউ জিল্যান্ড সিরিজ। ছন্দ খোঁজা লিটনের নেতৃত্বে এবার বাংলাদেশ কেমন করে সেটাই দেখার।