রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রভোস্ট সুকল্যান কুমারের পদত্যাগের দাবি, মানববন্ধন আবাসিক শিক্ষার্থীদের

হলের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন কাজে উদ্যোগ না নেওয়া এবং হল সংলগ্ন রাস্তা সংস্কারে অবহেলার অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শহীদ সালাম বরকত হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক সুকল্যান কুমার কুন্ডুর পদত্যাগ দাবিতে মানববন্ধন করেছে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। গতকাল রবিবার রাত সাড়ে ১০টায় শহীদ সালাম বরকত হলের সামনের সড়কে প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে দুই দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে হল অফিসে তালা লাগিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা মাঠ সংস্কার, হল সংলগ্ন রাস্তা সংস্কার, হলে ফিল্টার ব্যবস্থা করা, গেস্টরুমের সংস্কার, লাইব্রেরি, ওয়াশরুম, ক্যান্টিন, ডাইনিং ইত্যাদি সংস্কার করার জন্য দুদিন সময় বেঁধে দেন। এ সময়ের মধ্যে সকল কাজ করতে হবে বলে আল্টিমেটাম দেন তারা। তা না হলে প্রভোস্টকে পদত্যাগ করতে হবে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৪৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী সাঈম বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ নানা দাবি জানিয়ে আসলেও হল প্রশাসন তাতে কোনো ভ্রুক্ষেপ করছেন না। গত রমজানে আমাদের হলের ‘বি-ব্লক’ -এর একটা ওয়াশরুমের পাইপ ফেটে যায়। এতে ওই জায়গায় চলাচল করার মতো অবস্থা থাকে না ও অনবরত বিশ্রী গন্ধ ছড়ায়। আমি তিনবার অভিযোগ দেওয়ার পরেও এর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’

হলের আবাসিক ছাত্র ও গণিত বিভাগের ৪৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী তুহিন বলেন, ‘দীর্ঘদিন যাবৎ আমাদের লাইব্রেরির নাজেহাল অবস্থা। হল প্রশাসনকে বারবার জানানোর পরেও তাদেরকে কোনো উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা নিতে দেখি নাই। হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদেরকে হলের ডাইনিং ও ক্যান্টিনে খাওয়া দাওয়া করতে হয়। সেগুলোর অবস্থাও শোচনীয়। ওয়াশরুমের সংস্কার হলেও তা যথাযথ হয়নি।’

আইন ও বিচার বিভাগের ৪৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ সৌভিক বলেন, ‘একটি হলের যে যে সুযোগ সুবিধা থাকার কথা আমরা সে সুযোগ সুবিধা পাচ্ছি না। আমাদের হলের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভালো না, হলের সামনে পানি জমে থাকে, সিয়াম চত্ত্বরে পানির কারণে বসা যায় না, খেলার মাঠের অবস্থা ভালো না, বিদ্যুতের সমস্যা। এত সমস্যা থাকায় আমরা পড়াশুনায় মন বসাতে পারছি না। এ প্রভোস্ট এতদিন ধরে দায়িত্ব পালন করেছে, হলের উন্নয়নে কোনো কাজ করেনি। আমরা এই প্রভোস্টের পদত্যাগ চাই।’

সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মাসুফ আহমেদ বলেন, ‘যেহেতু শহীদ সালাম বরকত হলসহ ক্যাম্পাসের কোথাও ছাত্র সংসদ নেই, সেহেতু আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি হয়ে শাখা ছাত্রলীগের শহীদ সালাম বরকত হল ইউনিট প্রভোস্ট স্যারের কাছে বারবার গিয়েছি যে, বৃষ্টি হলে আমাদের এই রাস্তা দিয়ে হাঁটা যায় না, তাহলে হলের সামনে এই গেইট দিয়ে লাভ কী হল। সালাম বরকত হলের শিক্ষার্থীরা আজকে তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’

এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক সুকল্যাণ কুমার কুন্ডু বলেন, ‘আমি সমস্যাগুলোর ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বারবার অবগত করেছি, কিন্তু সেখান থেকে বাজেট দেওয়া হয়নি। তাই হলের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারছি না।’

জনপ্রিয়

যশোর সালিশ শেষে ফেরার পথে হিজড়া যুবককে ব্লেড দিয়ে কুপিয়ে জখম

প্রভোস্ট সুকল্যান কুমারের পদত্যাগের দাবি, মানববন্ধন আবাসিক শিক্ষার্থীদের

প্রকাশের সময় : ০৯:২৬:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ অক্টোবর ২০২৩

হলের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন কাজে উদ্যোগ না নেওয়া এবং হল সংলগ্ন রাস্তা সংস্কারে অবহেলার অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শহীদ সালাম বরকত হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক সুকল্যান কুমার কুন্ডুর পদত্যাগ দাবিতে মানববন্ধন করেছে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। গতকাল রবিবার রাত সাড়ে ১০টায় শহীদ সালাম বরকত হলের সামনের সড়কে প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে দুই দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে হল অফিসে তালা লাগিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা মাঠ সংস্কার, হল সংলগ্ন রাস্তা সংস্কার, হলে ফিল্টার ব্যবস্থা করা, গেস্টরুমের সংস্কার, লাইব্রেরি, ওয়াশরুম, ক্যান্টিন, ডাইনিং ইত্যাদি সংস্কার করার জন্য দুদিন সময় বেঁধে দেন। এ সময়ের মধ্যে সকল কাজ করতে হবে বলে আল্টিমেটাম দেন তারা। তা না হলে প্রভোস্টকে পদত্যাগ করতে হবে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৪৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী সাঈম বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ নানা দাবি জানিয়ে আসলেও হল প্রশাসন তাতে কোনো ভ্রুক্ষেপ করছেন না। গত রমজানে আমাদের হলের ‘বি-ব্লক’ -এর একটা ওয়াশরুমের পাইপ ফেটে যায়। এতে ওই জায়গায় চলাচল করার মতো অবস্থা থাকে না ও অনবরত বিশ্রী গন্ধ ছড়ায়। আমি তিনবার অভিযোগ দেওয়ার পরেও এর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’

হলের আবাসিক ছাত্র ও গণিত বিভাগের ৪৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী তুহিন বলেন, ‘দীর্ঘদিন যাবৎ আমাদের লাইব্রেরির নাজেহাল অবস্থা। হল প্রশাসনকে বারবার জানানোর পরেও তাদেরকে কোনো উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা নিতে দেখি নাই। হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদেরকে হলের ডাইনিং ও ক্যান্টিনে খাওয়া দাওয়া করতে হয়। সেগুলোর অবস্থাও শোচনীয়। ওয়াশরুমের সংস্কার হলেও তা যথাযথ হয়নি।’

আইন ও বিচার বিভাগের ৪৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ সৌভিক বলেন, ‘একটি হলের যে যে সুযোগ সুবিধা থাকার কথা আমরা সে সুযোগ সুবিধা পাচ্ছি না। আমাদের হলের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভালো না, হলের সামনে পানি জমে থাকে, সিয়াম চত্ত্বরে পানির কারণে বসা যায় না, খেলার মাঠের অবস্থা ভালো না, বিদ্যুতের সমস্যা। এত সমস্যা থাকায় আমরা পড়াশুনায় মন বসাতে পারছি না। এ প্রভোস্ট এতদিন ধরে দায়িত্ব পালন করেছে, হলের উন্নয়নে কোনো কাজ করেনি। আমরা এই প্রভোস্টের পদত্যাগ চাই।’

সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মাসুফ আহমেদ বলেন, ‘যেহেতু শহীদ সালাম বরকত হলসহ ক্যাম্পাসের কোথাও ছাত্র সংসদ নেই, সেহেতু আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি হয়ে শাখা ছাত্রলীগের শহীদ সালাম বরকত হল ইউনিট প্রভোস্ট স্যারের কাছে বারবার গিয়েছি যে, বৃষ্টি হলে আমাদের এই রাস্তা দিয়ে হাঁটা যায় না, তাহলে হলের সামনে এই গেইট দিয়ে লাভ কী হল। সালাম বরকত হলের শিক্ষার্থীরা আজকে তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’

এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক সুকল্যাণ কুমার কুন্ডু বলেন, ‘আমি সমস্যাগুলোর ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বারবার অবগত করেছি, কিন্তু সেখান থেকে বাজেট দেওয়া হয়নি। তাই হলের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারছি না।’