
মাদারীপুর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ আবুল হোসেনকে (৭২) আজ শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) জুমআ নামাজ পর সিরাজগঞ্জের হযরত খাজা বাবা ইউনুস আলী এনায়েতপুরী (রঃ) এর দরবার শরীফে দাফন করা হয়েছে।
হযরত খাজা বাবা ইউনুস আলী এনায়েতপুরী (রঃ) এর দরবার শরীফের খাদেম মাহফুজুর রহমান বাবলু বলেন, তার পূর্ব ইচ্ছানুযায়ী এখানে দাফন করা হয়েছে।
এর আগে, দুপুর দুইটায় মাজার শরীফ প্রাঙ্গণে তার জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। তার জানাজা নামাজে হাজার হাজার মুসুল্লি অংশগ্রহণ করেন।
বৃহস্পতিবার বাদ জোহর রাজধানীর গুলশানের আজাদ মসজিদ, পরে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে তার জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার মাদারীপুরের ডাসার এলাকায় তৃতীয় জানাজার পর তার মরদেহ হেলিকপ্টারযোগে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে আনা হয়।
সৈয়দ আবুল হোসেন হযরত খাজা বাবা ইউনুস আলী এনায়েতপুরী (রঃ) এর দরবার শরীফের বর্তমান সাজ্জাদানশীন পীর খাজা কামাল উদ্দিন নুহু মিয়ার জামাতা। এনায়েতপুর গ্রামে তার নিজস্ব একটি বাড়িও রয়েছে।
শুক্রবার (২৭ অক্টোবর’) এ তথ্য নিশ্চিত করেন হযরত খাজা বাবা ইউনুস আলী এনায়েতপুরী (রঃ) এর দরবার শরীফের খাদেম মাহফুজুর রহমান বাবলু।
তিনি বলেন, দুপুর ১২ টার দিকে তার মরদহ হেলিকপ্টার যোগে খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে এসে পৌঁছায়। সেখান থেকে বর্ধমান হয় এনায়েতপুর দরবার শরীফ প্রাঙ্গণে। এরপর জুম্মা নামাজের পর ঠিক দুইটার দিকে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তার জানাজা নামাজে হাজার হাজার মুসুল্লি অংশগ্রহণ করেন। এরপর জানাজা নামাজ শেষে তাকে দরবার শরীফ প্রাঙ্গণেই কবর দেওয়া হয়। এখনো তার কবরে মাটি দেওয়ার কাজ চলছে। তার পূর্ব ইচ্ছা ও পরিবারের সিধ্যান্তে তাকে এখানে দাফন করা হলো।
এরা আগে, বুধবার (২৫ অক্টোবর’) ভোরে তিনি রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
সৈয়দ আবুল হোসেন ১৯৫১ সালে মাদারীপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পেশায় একজন রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী। তার স্ত্রীর নাম খাজা নার্গিস। তার দুই মেয়ে সৈয়দা রুবাইয়াত হোসেন ও সৈয়দা ইফফাত হোসেন।
তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হয়ে মাদারীপুর-৩ আসন থেকে ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আবুল হোসেন। এরপর সপ্তম, অষ্টম ও নবম সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আবুল হোসেন ২০০৯ থেকে ২০১২ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের যোগাযোগমন্ত্রীর (বর্তমান নাম সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়’) দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়া তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এদিকে সাবেক এ মন্ত্রীর হযরত খাজা বাবা ইউনুস আলী এনায়েতপুরী (রঃ) এর দরবার শরীফে দাফনের কথা শুনে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দরবার শরীফে সমবেত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি।। 






































