
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বাংলাদেশের বিপজ্জনক অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে সারা দেশে একদফার আন্দোলনের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়েছে। অনিবার্য গণঅভ্যুত্থানের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছে বাংলাদেশ। স্বৈরাচারী নিপীড়কের পতনের কাউন্টডাউনের মধ্যে আরেকটি একতরফা পাতানো ভুয়া নির্বাচনের অপচেষ্টা চলছে। রোববার বিকালে ভার্চুয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করছে। সারা দেশে নারকীয় তাণ্ডব চালাচ্ছে। দিশাহীন, উন্মাদ হয়ে গণগ্রেফতার চালাচ্ছে। খুনের হুমকি দিয়ে ভীতিকর ভয়ানক পরিবেশ তৈরি করেছে। লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে, গান পাউডার ছিটিয়ে, আগুন দিয়ে বাসযাত্রী পুড়িয়ে মারার বীভৎস কাজ করেছে আওয়ামী লীগ। আর বিএনপির বিরুদ্ধে নাশকতার অপবাদ দিয়ে দেশের বাইরে প্রচার চালিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, এবার সন্ত্রাসের অপবাদ দিয়ে ২০১৪-১৫ এর মতো আর বিদেশে মার্কেটিং করতে পারছে না। কারণ সারা দুনিয়া টের পেয়েছে বিএনপির নামে সন্ত্রাসের অপবাদ মূলত একতরফা নির্বাচনের কৌশল। এবারও আওয়ামী সরকার আত্মঘাতীমূলক নাশকতার গতি বাড়িয়ে দিয়েছে। এ আওয়ামী দুর্বৃত্ত অক্ষ শক্তির পক্ষ নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আওয়ামী দলীয় পোষ্য দলদাস কর্মকর্তারা। বিরোধী দল দমন-নিঃশেষ করার ভয়ংকর জুলুম, নিপীড়ন, গ্রেফতার তাণ্ডব সব সীমা তারা লঙ্ঘন করেছে। কিন্তু তাদের (আইনশৃঙ্খলা বাহিনী) জানা উচিত-এ নিশুতি সরকারই শেষ সরকার নয়। কিছুদিন পরেই হবে জনগণের সরকার। তখন এ আজ্ঞাবাহী দলদাস পোশাকী সন্ত্রাসীদের পরিণতি কি হবে জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী বলেন, শনিবার সাভারে জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে এক অনুষ্ঠানে তার দাম্ভিকতাপূর্ণ কণ্ঠ শুনে দেশের মানুষ স্তম্ভিত-হতবাক হয়েছে। একইসঙ্গে জনগণ অট্টহাসিও দিয়েছেন। জয়ের বক্তব্য, ‘আগামী ১০-১৫ বছরে বিএনপি বলে কোনো দল বাংলাদেশে আর থাকবে না।’ রিজভী বলেন, এর মানে এ সময়ে তারা (আওয়ামী লীগ) বিএনপিকে ধ্বংস ও নিঃশেষ করে দেবে। দেশে শুধু একটাই রাজনৈতিক দল থাকবে। যেখানে ভিন্ন মতাদর্শের কেউ থাকতে পারবে না, কেউ স্বৈরাচারী সরকারের সমালোচনা করতে পারবে না। বাকশাল-২ স্থাপিত হবে।
রিজভী বলেন, সরকার বিএনপি এবং জিয়া পরিবারকে ধ্বংসের জন্য বহুমুখী চক্রান্ত করে ব্যর্থ। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় ফরমায়েশি রায়ে বন্দি রাখা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একটির পর একটি মিথ্যা, বানোয়াট ও সাজানো মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে। বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রায় ৫০ লাখ নেতাকর্মীর নামে দেড় লক্ষাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের ঘরছাড়া করা হয়েছে। যা বিশ্ব ইতিহাসে এক নজিরবিহীন রেকর্ড। গ্রেফতার, নির্যাতন, গুম ও ক্রসফায়ার করেও বিএনপি নেতাকর্মীদের দমানো যায়নি।
বিএনপিকে ভাঙার সরকারের কোনো অপচেষ্টাই সফল হয়নি। শত শত কোটি টাকা খরচ করে বিভিন্ন সংস্থা ও মাধ্যম দিয়ে শেখ হাসিনার সরকার বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কুৎসিত অপপ্রচার করেও লাভ হয়নি। তিনি বলেন, শনিবার বিকাল থেকে রোববার বিকাল পর্যন্ত সারা দেশে ৫১০ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময়ে ১৮টি মামলায় ২ হাজার ৮৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। নানা ঘটনায় শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
ঢাকা ব্যুরো।। 







































