
ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় যশোরে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণেচ্ছুক প্রার্থীরা। যশোরের ছয়টি আসনে মোট ৪৬ জন তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মনোনয়নপত্র জমাদানকারীদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের অনেক বাঘা বাঘা নেতা ও এমপি রয়েছেন।
এছাড়া, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীও তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। কেউ যদি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করেন তাহলে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সাথে স্বতন্ত্রের লেবাসে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা।
বৃহস্পতিবার সকালে রিটার্নিং অফিসারের কাছে সর্বপ্রথম মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসেন যশোর-৩ (সদর) আসনে জাতীয় পার্টির অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম। কিন্তু তার কাগজপত্র ঠিকঠাক না থাকায় তিনি প্রথম দফায় মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি। এরপর আসেন আওয়ামী লীগ মনোনীত বর্তমান সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী তিনি পাঁচজনকে সাথে নিয়ে রিটার্নিং অফিসারের কক্ষে প্রবেশ করেন। সেখানে জমা দেয়ার আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ১১ টা ২০ মিনিটে বেরিয়ে যান তিনি। ওইসময় তার সাথে ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল, পৌরমেয়র হায়দার গনি খান পলাশ, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মেহেদী হাসান মিন্টু ও এস এম আফজাল হোসেন। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্যরা তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন।
যশোর-১ (শার্শা) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ছয়জন। তারা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত বর্তমান এমপি শেখ আফিল উদ্দিন, স্বতন্ত্র বেনাপোল পৌরসভার সাবেক মেয়র আশরাফুল আলম লিটন, সোহরাব হোসেন, জাকের পার্টির সবুর খান, জাতীয় পার্টির আক্তারুজ্জামান ও স্বতন্ত্র নাজমুল হাসান।
যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে সাতজন জমা দিয়েছেন মনোনয়নপত্র। তারা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ডা. তৌহিদুজ্জামান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের আব্দুল আওয়াল, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, জাকের পার্টির সাফারুজ্জামান, জাতীয় পার্টির ফিরোজ শাহ, চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম হাবিবুর রহমান ও বিএনএফের শামছুল হক।
যশোর-৩ (সদর) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ১০ জন। তারা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত বর্তমান এমপি কাজী নাবিল আহমেদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ, জাতীয় পার্টির মাহবুব আলম বাচ্চু, বিকল্প ধারা বাংলাদেশের মারুফ হাসান কাজল, জাতীয় পার্টির অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম, তৃণমূল বিএনপির কামরুজ্জামান, জাকের পার্টির মহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মোহাম্মদ তৌহিদুজ্জামান ও এনপিপির সুকৃতি কুমার রায়।
যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আটজন প্রার্থী। তারা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এনামুল হক বাবুল, স্বতন্ত্র বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বর্তমান এমপি রণজিৎ কুমার রায়, তৃণমূল বিএনপির লে. ক. এম শাব্বির আহমেদ (অব.), জাতীয় পার্টির জহুরুল হক, জাকের পার্টির লিটন মোল্লা, স্বতন্ত্র সন্তোষ কুমার অধিকারী, ইসলামী ঐক্যজোটের ইউনুছ আলী ও বিএনএফের সুকৃতি কুমার মন্ডল।
যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন নয়জন। এদের মধ্যে বর্তমান এমপি স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য, কৃষকলীগ নেতা এসএম ইয়াকুব আলী, তৃণমূল বিএনপির আবু নসর মোহাম্মদ মোস্তফা, স্বতন্ত্র হুমায়ুন সুলতান ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আমজাদ হোসেন লাভলু, ইসলামী ঐক্যজোটের হাফেজ মাওলানা নুরুল্লাহ আব্বাসী, জাতীয় পার্টির এমএ হালিম, স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল হাসান বারী ও জাকের পার্টির হাবিবুর রহমান।
যশোর-৬ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ছয়জন। তারা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত জেলা কমিটির সম্পাদক এমপি শাহীন চাকলাদার, জাকের পার্টির সাইদুজ্জামান, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের আজিজুল ইসলাম, এইচএম আমির হোসেন, জাতীয় পার্টির জিএম হাসান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হুসাইন মোহাম্মদ ইসলাম।
মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার তালিকা থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, যশোরের ছয়টি আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের নেতাদেরই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে আলোচনা হচ্ছে। সবমিলিয়ে জমজমাট লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলছে।
মনোনয়নপত্র জমা দেয়াকে কেন্দ্র করে সকাল নয়টা থেকে জেলা প্রশাসকের (রিটার্নিং অফিসার) কার্যালয় চত্বরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেয়। বিজিবি, থানা পুলিশ ও ডিবি সতর্ক পাহারা বসায়। যাতে শোডাউন করে আচরণবিধি লঙ্ঘন না হয় সেদিকে নজর রাখে তারা। রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে প্রবেশের কয়েকটি জায়গায়ও কড়া দৃষ্টি রাখা হয়। পাশাপাশি তথ্য অফিসের পক্ষ থেকে মাইকিং করে আচরণবিধি পালনের আহ্বান জানানো হয়।
যশোর অফিস ।। 







































