রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে পরাজিত–বিএনপি

  • ঢাকা ব্যুরো।।
  • প্রকাশের সময় : ১০:২৮:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৪
  • ৭৭

একতরফা নির্বাচনে জনগণ ভোটবর্জনের মধ্যদিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৯তম জন্মদিন উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় নেতারা এ মন্তব্য করেন।

নেতারা বলেন, দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ভোটাধিকার নেই। আছে শুধু ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতি ও দুঃশাসন। এই অবস্থায় দেশে গণতন্ত্র, সুশাসন এবং জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠনে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় রাজপথে থেকেই আন্দোলন চালিয়ে যাবে বিএনপি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ‘আমাদের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম চলবে। এই সংগ্রাম অবশ্যই শান্তিপ্রিয় ও নিয়মতান্ত্রিক। আমরা রাজপথে থেকে সরকারকে পরাজিত করব এবং বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনব। এ দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘জনগণই বিএনপির শক্তি। বর্তমান বাকশাল-২ সরকারের বন্দুক-বুলেট-টিয়ারগ্যাস ও জলকামানসহ যতরকমের শক্তি আছে সব শক্তিকে আমরা জনগণের শক্তি দিয়ে পরাভূত করব। এটাই হচ্ছে আজকে আমাদের প্রতিজ্ঞা।’

৭ জানুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গ টেনে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ‘বাংলাদেশের ১২ কোটি ভোটার। তারা ৭ জানুয়ারি এই সরকারকে বর্জন করেছে। এটা শুধু আমাদের কথা নয়, আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘসহ সারা বিশ্বের গণতন্ত্রকামী দেশগুলোর বক্তব্য দেখুন। পাশাপাশি বিশ্বের মানবাধিকার সংস্থা, সুশীল সমাজ, বেসরকারি সংস্থাগুলো রয়েছে তারা একত্রিত হয়ে বলেছে, ৭ জানুয়ারির নির্বাচন একটি ভুয়া পাতানো নির্বাচন। শুধু তাই নয়, দেশি-বিদেশি সকল সংবাদমাধ্যমেও বাংলাদেশের নির্বাচনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।’

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘এরশাদ বিরোধী আন্দোলন অনেক দিন লড়াই হয়েছে। অনেকে বিশ্বাসই করেনি, এরশাদের পতন সম্ভব। কিন্তু দেখা গেল ঠিকই পতন হয়েছে। এবারও হবে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, ‘জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। একইভাবে ষড়যন্ত্র করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। এই সরকারের নির্যাতনে আমাদের নেতাকর্মীদের কারও প্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং কারও চোখ, কারও পা ইত্যাদি অঙ্গহানি করা হয়েছে। তবে বিএনপিকে দমিয়ে রাখা যায়নি। ফলে বিএনপিকে ধ্বংস করা সম্ভব নয়।’

বিএনপি পরাজিত হয়নি মন্তব্য করে সেলিমা রহমান বলেন, ‘৭ জানুয়ারি নির্বাচনের মধ্যদিয়ে দেশবাসী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মারামারি দেখেছে। দেশে এখন ৬৪৮ জন শপথবদ্ধ এমপি (সংসদ সদস্য)। আজ সংবিধান কোথায়, গণতন্ত্র কোথায়। আমরা ইসলামাবাদ থেকে মুক্তি পেয়েছি। আর কোনো দেশের অধীনে যাব না। বন্ধু নামের একটি দেশ এই দেশকে তাদের অধীনে নিতে চায়। কিন্তু এই দেশকে পরাধীন হতে দেব না। যারা আমাদের জনগণের বন্ধু হয়ে থাকবে তাদের সঙ্গে আমরা থাকব।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘জিয়াউর রহমান বিভক্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। আমাদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। এত নির্যাতন নিপীড়নের পরও বিএনপিকে ভাঙতে পারেনি এই সরকার। এই জালিম সরকারকে পরাজিত করে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত করা হবে। অচিরেই এই সরকারের পতন হবে। এই সরকার লুটপাট, অবিচার, দুর্ভিক্ষের জনক।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘দেশের মানুষকে আশার আলো দেখিয়েছিলেন একজন জিয়াউর রহমান। যদি দেশ স্বাধীন না হতো, তবে তার ফাঁসি হতো। সেটি জেনেও তিনি মা ও মাটির টানে যুদ্ধের ডাক দিয়েছিলেন। স্বাধীনতার পরও কোনো জাতীয়তা ছিল না, কেউ আমাদেরকে নানা জাতি ভাবত। আর তিনি তখন জাতিসত্তার জন্যে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার প্রতিষ্ঠিত দল আজ দেশের কথা বলে, স্বাধীনতার কথা বলে।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের সভাপতিত্বে সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদের পরিচালনায় আরও বক্তব্য দেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুক, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কামরুল আহসান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম আজাদ, তাইফুল ইসলাম টিপু, মৎস্যজীবী দলের নেতা আব্দুর রহিম, আবুল কালাম আজাদ, ভিপি সেলিম, নাজমুল হাসান ও রফিকুল ইসলামসহ আরও অনেকে।

জনপ্রিয়

মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শনে ড. জালাল উদ্দিন এমপির

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে পরাজিত–বিএনপি

প্রকাশের সময় : ১০:২৮:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৪

একতরফা নির্বাচনে জনগণ ভোটবর্জনের মধ্যদিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৯তম জন্মদিন উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় নেতারা এ মন্তব্য করেন।

নেতারা বলেন, দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ভোটাধিকার নেই। আছে শুধু ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতি ও দুঃশাসন। এই অবস্থায় দেশে গণতন্ত্র, সুশাসন এবং জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠনে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় রাজপথে থেকেই আন্দোলন চালিয়ে যাবে বিএনপি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ‘আমাদের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম চলবে। এই সংগ্রাম অবশ্যই শান্তিপ্রিয় ও নিয়মতান্ত্রিক। আমরা রাজপথে থেকে সরকারকে পরাজিত করব এবং বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনব। এ দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘জনগণই বিএনপির শক্তি। বর্তমান বাকশাল-২ সরকারের বন্দুক-বুলেট-টিয়ারগ্যাস ও জলকামানসহ যতরকমের শক্তি আছে সব শক্তিকে আমরা জনগণের শক্তি দিয়ে পরাভূত করব। এটাই হচ্ছে আজকে আমাদের প্রতিজ্ঞা।’

৭ জানুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গ টেনে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ‘বাংলাদেশের ১২ কোটি ভোটার। তারা ৭ জানুয়ারি এই সরকারকে বর্জন করেছে। এটা শুধু আমাদের কথা নয়, আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘসহ সারা বিশ্বের গণতন্ত্রকামী দেশগুলোর বক্তব্য দেখুন। পাশাপাশি বিশ্বের মানবাধিকার সংস্থা, সুশীল সমাজ, বেসরকারি সংস্থাগুলো রয়েছে তারা একত্রিত হয়ে বলেছে, ৭ জানুয়ারির নির্বাচন একটি ভুয়া পাতানো নির্বাচন। শুধু তাই নয়, দেশি-বিদেশি সকল সংবাদমাধ্যমেও বাংলাদেশের নির্বাচনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।’

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘এরশাদ বিরোধী আন্দোলন অনেক দিন লড়াই হয়েছে। অনেকে বিশ্বাসই করেনি, এরশাদের পতন সম্ভব। কিন্তু দেখা গেল ঠিকই পতন হয়েছে। এবারও হবে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, ‘জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। একইভাবে ষড়যন্ত্র করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। এই সরকারের নির্যাতনে আমাদের নেতাকর্মীদের কারও প্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং কারও চোখ, কারও পা ইত্যাদি অঙ্গহানি করা হয়েছে। তবে বিএনপিকে দমিয়ে রাখা যায়নি। ফলে বিএনপিকে ধ্বংস করা সম্ভব নয়।’

বিএনপি পরাজিত হয়নি মন্তব্য করে সেলিমা রহমান বলেন, ‘৭ জানুয়ারি নির্বাচনের মধ্যদিয়ে দেশবাসী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মারামারি দেখেছে। দেশে এখন ৬৪৮ জন শপথবদ্ধ এমপি (সংসদ সদস্য)। আজ সংবিধান কোথায়, গণতন্ত্র কোথায়। আমরা ইসলামাবাদ থেকে মুক্তি পেয়েছি। আর কোনো দেশের অধীনে যাব না। বন্ধু নামের একটি দেশ এই দেশকে তাদের অধীনে নিতে চায়। কিন্তু এই দেশকে পরাধীন হতে দেব না। যারা আমাদের জনগণের বন্ধু হয়ে থাকবে তাদের সঙ্গে আমরা থাকব।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘জিয়াউর রহমান বিভক্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। আমাদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। এত নির্যাতন নিপীড়নের পরও বিএনপিকে ভাঙতে পারেনি এই সরকার। এই জালিম সরকারকে পরাজিত করে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত করা হবে। অচিরেই এই সরকারের পতন হবে। এই সরকার লুটপাট, অবিচার, দুর্ভিক্ষের জনক।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘দেশের মানুষকে আশার আলো দেখিয়েছিলেন একজন জিয়াউর রহমান। যদি দেশ স্বাধীন না হতো, তবে তার ফাঁসি হতো। সেটি জেনেও তিনি মা ও মাটির টানে যুদ্ধের ডাক দিয়েছিলেন। স্বাধীনতার পরও কোনো জাতীয়তা ছিল না, কেউ আমাদেরকে নানা জাতি ভাবত। আর তিনি তখন জাতিসত্তার জন্যে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার প্রতিষ্ঠিত দল আজ দেশের কথা বলে, স্বাধীনতার কথা বলে।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের সভাপতিত্বে সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদের পরিচালনায় আরও বক্তব্য দেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুক, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কামরুল আহসান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম আজাদ, তাইফুল ইসলাম টিপু, মৎস্যজীবী দলের নেতা আব্দুর রহিম, আবুল কালাম আজাদ, ভিপি সেলিম, নাজমুল হাসান ও রফিকুল ইসলামসহ আরও অনেকে।