বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অসহায় আব্দুল্লাহ!

প্রতিবন্ধী শিশু আব্দুল্লাহ

নাজমুল ইসলাম, শরণখোলা বাগেরহাট

রৌদ্রজ্জ্বল প্রতিটা দিন কিংবা ঝুম বর্ষা সকলের সুখের কারণ হয়না। যে বয়সে বালকের সাথে খেলায় মাতার কথা, দিগ্বিদিক ছুটে বেড়ানোর কথা, সে বয়সে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার পরেও পরিবারের হাল ধরেছে অসহায় শিশু আব্দুল্লাহ। আর দশটা স্বভাবিক ছেলেদের থেকে ভিন্ন সে। সবাই যেখানে সুস্থ দেহ নিয়ে জন্মায় শিশু আব্দুল্লাহর ক্ষেত্রে সেখানে ছিলো শারীরিক প্রতিবন্ধকতা। তবে জন্মগত প্রতিবন্ধী এই শিশু আব্দুল্লাহ ছোট বেলা থেকে নিজের ভাগ্যকে মেনে নিয়ে বড় হয়ে উঠছিলো।

মোঃ রাজ্জাক মুন্সি এবং কোমেলা বেগমের চার সন্তানের এক সন্তান আব্দুল্লাহ মুন্সী যার সময় কাটে শরণখোলার বিভিন্ন বাজারে মানুষের সামনে হাত পেতে। তার অসহায়ত্ব যেনো তার দুচোখের মনি থেকে ঠিকরে আসে। বাড়িতে তার অসহায় বাবা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এছাড়াও তার মা সহ আরো তিন ভাই বোন তার মাথার উপরে। তবে জন্মগত প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও যেনো তার আয়ের উপরেই লেখা থাকে এতোগুলো মানুষের রোজকার রিজিক।মায়ের একার পক্ষে এই বিশাল সংসারের দায়িত্ব পালন করা খুব কষ্টসাধ্য একটা ব্যাপার। তাই সহায় সম্বলহীন নিজ পরিবারের হাল নিজেই ধরলো জন্মগত প্রতিবন্ধী শিশু আব্দুল্লাহ মুন্সি।

আব্দুল্লাহ মুন্সি তার পিতার পৈতৃক নিবাস ছেড়েছে বহুকাল আগে, তাই এখন স্বপরিবারে থাকে তার নানা বাড়িতে। আব্দুল্লাহর নানাবাড়ি বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রাজাপুরে । তার নানার নাম হামেদ গাজী। নানার বাড়িতেও যেনো তাদের মুখে দুবেলার খাবার ওঠার অর্থের যোগান মেলে না তাইতো এভাবে থালা নিয়ে বসে থাকে শরণখোলার বিভিন্ন বাজারে, বিভিন্ন মোড়ে। সাধারণ মানুষের দিকে অনেক আশা নিয়ে হাত দুটো বাড়ায় দুটো টাকা আশায়।মানুষের সামনে এভাবে হাত ওঠাতে কারই বা ভালো লাগে, শিশু আব্দুল্লাহরও হয়তো ভালোলাগেনা। হয়তো তার মনেও জন্ম নেয় কষ্টেরা। হয়তো সেও কখনো কখনো সৃষ্টি কর্তার উপর জানায় প্রচন্ড আক্ষেপ, কেনো তাকে এই সুন্দর ধরণীতে প্রতিবন্ধী করে পাঠানো হলো।

তবু দিন শেষে দেখা যায় মানুষের দেওয়া পাঁচ দশ টাকাতেই আব্দুল্লাহর চোখ থেকে খুশির ঝলক নামছে। শরণখোলার মানুষেরা কেউ কেউ মুদ্ধদৃষ্টিতে চেয়ে দেখে সে দৃশ্য। কেউ কেউ সাহায্যের হাতটা বাড়িয়ে দেয় শিশু আব্দুল্লাহর প্রতি।আবার প্রচন্ড মায়ামমতায় কারো বুক হুহু করে ওঠে কারো চোখ বেয়ে নেমে আসে অশ্রু। তার বাবা সুস্থ্য থাকতো তাহলেও হয়তো তাকে আজ রাস্তায় থালা হাতে এসে দাড়াতে হতোনা। তার চাওয়া বিশাল নয়। তার চাওয়া একটু সমবেদনা একটু সাহায্যের হাত যেটা বিনিময় করে সে তার বাবার ওষুধ কিনতে পারবে, অসহায় মায়ের মাথা থেকে একটা দিনের খাবারের দুশ্চিন্তা লাঘব করতে পারবে।

বর্তমান বাজারের মূল্য পরিস্থিতির কিছুটা ঊর্ধ্বগতির কারণে শিশু আব্দুল্লাহ হারিয়ে ফেলছে সংসারের খেয়। সরকার কতৃক যে প্রতিবন্ধী ভাতা সে পেয়ে থাকে তা খুবি সামান্য তাই এমন সময় বুকভরা আশা নিয়ে সে এই শরণখোলা বাজারের প্রতিটা মানুষের দারস্থ হয়। আমাদের উচিত আমাদের উপরের হাতটি এই অসহায় মানবেতর জন্মগত প্রতিবন্ধী শিশু আব্দুল্লাহর প্রতি এগিয়ে দেওয়া যেনো তার কষ্টটা কিছুটা লাঘব হয়।
প্রতিবন্ধী আবদুল্লাহর মাতা কোমেলা বেগম জানান, সরকার থেকে যে প্রতিবন্ধী ভাতা দেয় তাতে পুরো মাস চলে না, তাই সবার সহযোগিতায় কিছু টাকা পাই তা দিয়ে সংসার চলছে।

জনপ্রিয়

২৪ ঘন্টার মধ্যে বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করে বহাল রাখেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা

অসহায় আব্দুল্লাহ!

প্রকাশের সময় : ০৬:৩১:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মার্চ ২০২৪

নাজমুল ইসলাম, শরণখোলা বাগেরহাট

রৌদ্রজ্জ্বল প্রতিটা দিন কিংবা ঝুম বর্ষা সকলের সুখের কারণ হয়না। যে বয়সে বালকের সাথে খেলায় মাতার কথা, দিগ্বিদিক ছুটে বেড়ানোর কথা, সে বয়সে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার পরেও পরিবারের হাল ধরেছে অসহায় শিশু আব্দুল্লাহ। আর দশটা স্বভাবিক ছেলেদের থেকে ভিন্ন সে। সবাই যেখানে সুস্থ দেহ নিয়ে জন্মায় শিশু আব্দুল্লাহর ক্ষেত্রে সেখানে ছিলো শারীরিক প্রতিবন্ধকতা। তবে জন্মগত প্রতিবন্ধী এই শিশু আব্দুল্লাহ ছোট বেলা থেকে নিজের ভাগ্যকে মেনে নিয়ে বড় হয়ে উঠছিলো।

মোঃ রাজ্জাক মুন্সি এবং কোমেলা বেগমের চার সন্তানের এক সন্তান আব্দুল্লাহ মুন্সী যার সময় কাটে শরণখোলার বিভিন্ন বাজারে মানুষের সামনে হাত পেতে। তার অসহায়ত্ব যেনো তার দুচোখের মনি থেকে ঠিকরে আসে। বাড়িতে তার অসহায় বাবা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এছাড়াও তার মা সহ আরো তিন ভাই বোন তার মাথার উপরে। তবে জন্মগত প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও যেনো তার আয়ের উপরেই লেখা থাকে এতোগুলো মানুষের রোজকার রিজিক।মায়ের একার পক্ষে এই বিশাল সংসারের দায়িত্ব পালন করা খুব কষ্টসাধ্য একটা ব্যাপার। তাই সহায় সম্বলহীন নিজ পরিবারের হাল নিজেই ধরলো জন্মগত প্রতিবন্ধী শিশু আব্দুল্লাহ মুন্সি।

আব্দুল্লাহ মুন্সি তার পিতার পৈতৃক নিবাস ছেড়েছে বহুকাল আগে, তাই এখন স্বপরিবারে থাকে তার নানা বাড়িতে। আব্দুল্লাহর নানাবাড়ি বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রাজাপুরে । তার নানার নাম হামেদ গাজী। নানার বাড়িতেও যেনো তাদের মুখে দুবেলার খাবার ওঠার অর্থের যোগান মেলে না তাইতো এভাবে থালা নিয়ে বসে থাকে শরণখোলার বিভিন্ন বাজারে, বিভিন্ন মোড়ে। সাধারণ মানুষের দিকে অনেক আশা নিয়ে হাত দুটো বাড়ায় দুটো টাকা আশায়।মানুষের সামনে এভাবে হাত ওঠাতে কারই বা ভালো লাগে, শিশু আব্দুল্লাহরও হয়তো ভালোলাগেনা। হয়তো তার মনেও জন্ম নেয় কষ্টেরা। হয়তো সেও কখনো কখনো সৃষ্টি কর্তার উপর জানায় প্রচন্ড আক্ষেপ, কেনো তাকে এই সুন্দর ধরণীতে প্রতিবন্ধী করে পাঠানো হলো।

তবু দিন শেষে দেখা যায় মানুষের দেওয়া পাঁচ দশ টাকাতেই আব্দুল্লাহর চোখ থেকে খুশির ঝলক নামছে। শরণখোলার মানুষেরা কেউ কেউ মুদ্ধদৃষ্টিতে চেয়ে দেখে সে দৃশ্য। কেউ কেউ সাহায্যের হাতটা বাড়িয়ে দেয় শিশু আব্দুল্লাহর প্রতি।আবার প্রচন্ড মায়ামমতায় কারো বুক হুহু করে ওঠে কারো চোখ বেয়ে নেমে আসে অশ্রু। তার বাবা সুস্থ্য থাকতো তাহলেও হয়তো তাকে আজ রাস্তায় থালা হাতে এসে দাড়াতে হতোনা। তার চাওয়া বিশাল নয়। তার চাওয়া একটু সমবেদনা একটু সাহায্যের হাত যেটা বিনিময় করে সে তার বাবার ওষুধ কিনতে পারবে, অসহায় মায়ের মাথা থেকে একটা দিনের খাবারের দুশ্চিন্তা লাঘব করতে পারবে।

বর্তমান বাজারের মূল্য পরিস্থিতির কিছুটা ঊর্ধ্বগতির কারণে শিশু আব্দুল্লাহ হারিয়ে ফেলছে সংসারের খেয়। সরকার কতৃক যে প্রতিবন্ধী ভাতা সে পেয়ে থাকে তা খুবি সামান্য তাই এমন সময় বুকভরা আশা নিয়ে সে এই শরণখোলা বাজারের প্রতিটা মানুষের দারস্থ হয়। আমাদের উচিত আমাদের উপরের হাতটি এই অসহায় মানবেতর জন্মগত প্রতিবন্ধী শিশু আব্দুল্লাহর প্রতি এগিয়ে দেওয়া যেনো তার কষ্টটা কিছুটা লাঘব হয়।
প্রতিবন্ধী আবদুল্লাহর মাতা কোমেলা বেগম জানান, সরকার থেকে যে প্রতিবন্ধী ভাতা দেয় তাতে পুরো মাস চলে না, তাই সবার সহযোগিতায় কিছু টাকা পাই তা দিয়ে সংসার চলছে।