মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আগুনে পুড়ে গেছে ভ্যান চালকের ঘর, পাশে দাঁড়ালেন ইলিয়াস 

আগুনে পুড়ে গেছে ভ্যান চালক সামিউল ইসলামের ঘর

জয়পুরহাট প্রতিনিধি
নিজ উপজেলার পাশাপাশি এবার পার্শ্ববর্তী উপজেলা জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে আগুনে ঘর পুড়ে যাওয়া ভ্যান চালক সামিউল ইসলামের পরিবারকে অর্থিক  সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেন ক্ষেতলাল উপজেলার মানবিক খ্যাত বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইলিয়াস হোসেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আগুনে ঘর পুড়ে যাওয়ার বিষয়টি নজরে আসলে (১১ মার্চ) সোমবার সকালে প্রতিনিধি পাঠিয়ে ওই পরিবারের লোকজনের হাতে নগদ অর্থ ১০ হাজার টাকা তুলে ব্যবস্থা করেন ক্ষেতলাল উপজেলার বড়তারা ইউনিয়নের শালবন গ্রামের সন্তান ইলিয়াস হোসেন। এর পূর্বেও তিনি অসংখ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সহযোগিতা করে উপজেলা জুরে খ্যাতি কুড়িয়েছেন মানবিক ইলিয়াস হোসেন হিসেবে।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭ টার সময় জেলার পাঁচবিবি উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের সিধইল গ্রামের প্রতিবন্ধী ভ্যান চালক সামিউল এর এর বসত বাড়িতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে বাড়ির দুটি টিনের সাউনি ঘেড়া ঘরসহ সমস্ত কিছু পুড়ে ছাঁই হয়ে যায়। স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ মোট চার সদস্যদের ওই পরিবারটি এমন ঘটনায় অসহায় হয়ে পড়ে। ওই ভ্যান চালক এতোটাই অসহায় যে নতুন করে ঘর তৈরি করবেন সেই সামর্থ্যও তার নেই।
এমন পরিস্থিতিতে একই গ্রামের সবুজ হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তি ওই ভ্যান চালকের ঘর তৈরির জন্য সহযোগিতা চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন। এরপর ওই সাহায্য সহযোগিতার পোস্টটি ক্ষেতলাল উপজেলার মানবিক খ্যাত ইলিয়াস হোসেন এর নজরে পড়লে তিনি ক্ষেতলাল উপজেলার সাংবাদিক এস.এম. মিলন এবং কামরুল হাসান মিলন দুজনকে তার প্রতিনিধি হিসেবে পাঠিয়ে ওই পরিবারের হাতে দশ হাজার টাকা তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এসময় ওই সাংবাদিকরা ওই গ্রামের ফেসবুক পোস্টকারী সবুজকে সাথে নিয়ে ওই ভ্যান চালকের পরিবারের হাতে টাকা তুলে দেন।
বিপদের দিনে পার্শ্ববর্তী উপজেলার একজন মানুষ  পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় ইলিয়াস হোসেনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন অসহায় ওই ভ্যানচালক ও তার পরিবার।
এ বিষয়ে ফেসবুক পোস্টকারী সবুজ হোসেন বলেন, মানুষ যেখানেই থাকুক না কেন তার ইচ্ছে শক্তিটাই সবচেয়ে বড়। আমি আমার গ্রামের আগুনে ঘর পুড়ে যাওয়া ভ্যান চালককে সহযোগিতা করতে ফেসবুকে একটি পোস্ট করি। সেই পোস্ট পার্শ্ববর্তী উপজেলার এক মানবিক ভাইয়ের নজরে আসলে তিনি পরিবারটিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। আমি শুনেছি ওই ভাই চাকুরীজনিত কারণে ঢাকায় থাকেন তারপরেও সেখান থেকেই তিনি সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন আমরা যে যেখাসেই থাকি না কেন আমাদের সহযোগিতা করবার মতো মন মানসিকতা থাকলে সেটা দূরে থেকেও সম্ভব।
এবিষয়ে সাংবাদিক এস. এম. মিলন বলেন, আমাদের জেলার পাঁচবিবি উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের শিধইল বম্বু গ্রামের এক ভ্যান চালকের বাড়ি আগুনে পুড়ে যায়৷ বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায়র মাধ্যমে আমাদের ক্ষেতলাল উপজেলার কৃতি সন্তান মানবিক ইলিয়াস ভাইয়ের দৃষ্টিতে আসে। পরে ভাইয়ের মেসেজে আমি ও আমার এক সহকর্মী গিয়ে ওই পরিবারের হাতে ইলিয়াস ভাইয়ের পক্ষে আর্থিক অনুদানের টাকা তুলে দিয়েছি।
এ বিষয়ে ইলিয়াস হোসেন বলেন, ফেসবুকে আমার নজরে আসে আগুনে ঘর পুড়ে অসহায় হয়ে পড়েছে আমার পার্শ্ববর্তী উপজেলার এক ভাই। বিষয়টি খুবই দুঃখ জনক। আমি তাকে আমার সাধ্য অনুয়ায়ী সহযোগীতা করবার চেষ্টা করেছি। আমি চাই তার পাশে যেন সমাজের বিত্তবান ও রাজনৈতিক নেতারা এগিয়ে আসেন এবং  সহযোগীতা করেন।
জনপ্রিয়

প্রশাসনে কোন দলের লোক থাকবে না উপদেষ্টা রিজওয়ান হাসান

আগুনে পুড়ে গেছে ভ্যান চালকের ঘর, পাশে দাঁড়ালেন ইলিয়াস 

প্রকাশের সময় : ০১:০০:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মার্চ ২০২৪
জয়পুরহাট প্রতিনিধি
নিজ উপজেলার পাশাপাশি এবার পার্শ্ববর্তী উপজেলা জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে আগুনে ঘর পুড়ে যাওয়া ভ্যান চালক সামিউল ইসলামের পরিবারকে অর্থিক  সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেন ক্ষেতলাল উপজেলার মানবিক খ্যাত বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইলিয়াস হোসেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আগুনে ঘর পুড়ে যাওয়ার বিষয়টি নজরে আসলে (১১ মার্চ) সোমবার সকালে প্রতিনিধি পাঠিয়ে ওই পরিবারের লোকজনের হাতে নগদ অর্থ ১০ হাজার টাকা তুলে ব্যবস্থা করেন ক্ষেতলাল উপজেলার বড়তারা ইউনিয়নের শালবন গ্রামের সন্তান ইলিয়াস হোসেন। এর পূর্বেও তিনি অসংখ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সহযোগিতা করে উপজেলা জুরে খ্যাতি কুড়িয়েছেন মানবিক ইলিয়াস হোসেন হিসেবে।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭ টার সময় জেলার পাঁচবিবি উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের সিধইল গ্রামের প্রতিবন্ধী ভ্যান চালক সামিউল এর এর বসত বাড়িতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে বাড়ির দুটি টিনের সাউনি ঘেড়া ঘরসহ সমস্ত কিছু পুড়ে ছাঁই হয়ে যায়। স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ মোট চার সদস্যদের ওই পরিবারটি এমন ঘটনায় অসহায় হয়ে পড়ে। ওই ভ্যান চালক এতোটাই অসহায় যে নতুন করে ঘর তৈরি করবেন সেই সামর্থ্যও তার নেই।
এমন পরিস্থিতিতে একই গ্রামের সবুজ হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তি ওই ভ্যান চালকের ঘর তৈরির জন্য সহযোগিতা চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন। এরপর ওই সাহায্য সহযোগিতার পোস্টটি ক্ষেতলাল উপজেলার মানবিক খ্যাত ইলিয়াস হোসেন এর নজরে পড়লে তিনি ক্ষেতলাল উপজেলার সাংবাদিক এস.এম. মিলন এবং কামরুল হাসান মিলন দুজনকে তার প্রতিনিধি হিসেবে পাঠিয়ে ওই পরিবারের হাতে দশ হাজার টাকা তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এসময় ওই সাংবাদিকরা ওই গ্রামের ফেসবুক পোস্টকারী সবুজকে সাথে নিয়ে ওই ভ্যান চালকের পরিবারের হাতে টাকা তুলে দেন।
বিপদের দিনে পার্শ্ববর্তী উপজেলার একজন মানুষ  পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় ইলিয়াস হোসেনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন অসহায় ওই ভ্যানচালক ও তার পরিবার।
এ বিষয়ে ফেসবুক পোস্টকারী সবুজ হোসেন বলেন, মানুষ যেখানেই থাকুক না কেন তার ইচ্ছে শক্তিটাই সবচেয়ে বড়। আমি আমার গ্রামের আগুনে ঘর পুড়ে যাওয়া ভ্যান চালককে সহযোগিতা করতে ফেসবুকে একটি পোস্ট করি। সেই পোস্ট পার্শ্ববর্তী উপজেলার এক মানবিক ভাইয়ের নজরে আসলে তিনি পরিবারটিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। আমি শুনেছি ওই ভাই চাকুরীজনিত কারণে ঢাকায় থাকেন তারপরেও সেখান থেকেই তিনি সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন আমরা যে যেখাসেই থাকি না কেন আমাদের সহযোগিতা করবার মতো মন মানসিকতা থাকলে সেটা দূরে থেকেও সম্ভব।
এবিষয়ে সাংবাদিক এস. এম. মিলন বলেন, আমাদের জেলার পাঁচবিবি উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের শিধইল বম্বু গ্রামের এক ভ্যান চালকের বাড়ি আগুনে পুড়ে যায়৷ বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায়র মাধ্যমে আমাদের ক্ষেতলাল উপজেলার কৃতি সন্তান মানবিক ইলিয়াস ভাইয়ের দৃষ্টিতে আসে। পরে ভাইয়ের মেসেজে আমি ও আমার এক সহকর্মী গিয়ে ওই পরিবারের হাতে ইলিয়াস ভাইয়ের পক্ষে আর্থিক অনুদানের টাকা তুলে দিয়েছি।
এ বিষয়ে ইলিয়াস হোসেন বলেন, ফেসবুকে আমার নজরে আসে আগুনে ঘর পুড়ে অসহায় হয়ে পড়েছে আমার পার্শ্ববর্তী উপজেলার এক ভাই। বিষয়টি খুবই দুঃখ জনক। আমি তাকে আমার সাধ্য অনুয়ায়ী সহযোগীতা করবার চেষ্টা করেছি। আমি চাই তার পাশে যেন সমাজের বিত্তবান ও রাজনৈতিক নেতারা এগিয়ে আসেন এবং  সহযোগীতা করেন।