সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্যবহারিক পরীক্ষায় অর্থ আদায়, শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত স্কুল কর্তৃপক্ষের 

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে মাহমুদপুর বি,এল উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে অর্থ আদায়ের ঘটনা নিয়ে গত রবিবার দৈনিক কালবেলা ও খোলা কাগজসহ একাধিক প্রিন্ট ও অনলাইন পোর্টালে নিউজ প্রকাশিত হয়। নিউজ প্রকাশের পর পরিক্ষার্থীদের ডেকে আদায়কৃত টাকা ফেরত দিয়েছে ওই স্কুল কর্তৃপক্ষ।
গত মঙ্গলবার (১২ মার্চ) উপজেলার মাহমুদপুর বি.এল উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরিক্ষার্থীদের ডেকে ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে আদায়কৃত ওই টাকা তাদের ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এমএইচ নূরুন্নবী চৌধুরী রতন ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা জেলা শিক্ষা অফিসার আমান উদ্দিন মন্ডল।
টাকা ফেরত পাওয়ার পর নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক বলেন, আমরা কালবেলা ও খোলাকাগজ পত্রিকার সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি এমন সাহসী সংবাদ প্রকাশ করার জন্য। আপনারা সংবাদ প্রকাশ করেছেন বলেই স্কুল কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে আমাদের টাকা ফেরত দিচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, তবে এঘটনা নিয়ে  আবার ভয়ও হচ্ছে স্যারেরা যদি আমাদের উপর রাগ করে আমাদের ব্যবহারিক পরীক্ষায় নাম্বার কম দেয়! আমরা স্যারদের অনুরোধ জানাচ্ছি আমাদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে দয়া করে এমনটা করবেন না।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এমএইচ নূরুন্নবী চৌধুরী রতন বলেন, শুধু আমাদের স্কুলেই নয় প্রতিটি স্কুলেই প্রাকটিক্যালের জন্য ২শ/৩শ টাকা করে নেওয়া হয়। তবে আমাদের স্কুলে যা নেওয়া হয়েছে তার পরিমানটা একটু বেশি হয়েছে। আমি স্কুলে গিয়ে সব শিক্ষকদের রিমান্ডে নিয়েছি। যে শিক্ষক নিয়েছে তাকে শোকজ করতে চেয়েছি। পরে সকল শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত দিতে বলেছি। তাদের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিসারের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা জেলা শিক্ষা অফিসার আমান উদ্দিন মন্ডল বলেন, টাকা নিয়েছিল বিষয়টি সঠিক। তাদের টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা শিক্ষার্থীদের ডেকে তালিকা করে টাকা ফেরত দিচ্ছে।
উল্লেখ্য মাহমুদপুর বি.এল উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের থেকে জানা যায়, তারা এবার মোট ১২০ জন শিক্ষার্থী এই বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। এরমধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের ৩৮ জন, মানবিক বিভাগের ৪২ জন এবং ভোকেশনাল বিভাগের ৪০ জন। ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে বিজ্ঞান বিভাগের প্রত্যেক পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৬শ টাকা এবং মানবিক বিভাগের প্রত্যেক পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩শ টাকা করে আদায় করেছে। এর মধ্যে কয়েকজন টাকা না নিয়ে আসায় তারা পরে দিবে মর্মে সময় নেয়।
পরীক্ষার্থীরা আরো অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এইচএম নূরুন্নবী চৌধুরী রতনের নির্দেশে কৃষি শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক শহিদুল ইসলাম মোল্লাসহ অন্য শিক্ষকরা প্রতি বিষয়ের ব্যবহারিক খাতা ও ব্যবহারিক পরীক্ষা বাবদ এসব টাকা আদায় করেছেন। টাকা না দিলে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
ঘটনার দিন অভিযুক্ত  কৃষি শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক শহিদুল ইসলাম মোল্লাসহ অন্য শিক্ষকরা অর্থ আদায়ের বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে অস্বীকার করলেও নিউজ প্রকাশের পর কর্তৃপক্ষের চাপে আদায়কৃত অর্থ শিক্ষার্থীদের ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছে।
জনপ্রিয়

যশোর সালিশ শেষে ফেরার পথে হিজড়া যুবককে ব্লেড দিয়ে কুপিয়ে জখম

ব্যবহারিক পরীক্ষায় অর্থ আদায়, শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত স্কুল কর্তৃপক্ষের 

প্রকাশের সময় : ১২:৫২:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মার্চ ২০২৪
জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে মাহমুদপুর বি,এল উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে অর্থ আদায়ের ঘটনা নিয়ে গত রবিবার দৈনিক কালবেলা ও খোলা কাগজসহ একাধিক প্রিন্ট ও অনলাইন পোর্টালে নিউজ প্রকাশিত হয়। নিউজ প্রকাশের পর পরিক্ষার্থীদের ডেকে আদায়কৃত টাকা ফেরত দিয়েছে ওই স্কুল কর্তৃপক্ষ।
গত মঙ্গলবার (১২ মার্চ) উপজেলার মাহমুদপুর বি.এল উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরিক্ষার্থীদের ডেকে ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে আদায়কৃত ওই টাকা তাদের ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এমএইচ নূরুন্নবী চৌধুরী রতন ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা জেলা শিক্ষা অফিসার আমান উদ্দিন মন্ডল।
টাকা ফেরত পাওয়ার পর নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক বলেন, আমরা কালবেলা ও খোলাকাগজ পত্রিকার সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি এমন সাহসী সংবাদ প্রকাশ করার জন্য। আপনারা সংবাদ প্রকাশ করেছেন বলেই স্কুল কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে আমাদের টাকা ফেরত দিচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, তবে এঘটনা নিয়ে  আবার ভয়ও হচ্ছে স্যারেরা যদি আমাদের উপর রাগ করে আমাদের ব্যবহারিক পরীক্ষায় নাম্বার কম দেয়! আমরা স্যারদের অনুরোধ জানাচ্ছি আমাদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে দয়া করে এমনটা করবেন না।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এমএইচ নূরুন্নবী চৌধুরী রতন বলেন, শুধু আমাদের স্কুলেই নয় প্রতিটি স্কুলেই প্রাকটিক্যালের জন্য ২শ/৩শ টাকা করে নেওয়া হয়। তবে আমাদের স্কুলে যা নেওয়া হয়েছে তার পরিমানটা একটু বেশি হয়েছে। আমি স্কুলে গিয়ে সব শিক্ষকদের রিমান্ডে নিয়েছি। যে শিক্ষক নিয়েছে তাকে শোকজ করতে চেয়েছি। পরে সকল শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত দিতে বলেছি। তাদের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিসারের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা জেলা শিক্ষা অফিসার আমান উদ্দিন মন্ডল বলেন, টাকা নিয়েছিল বিষয়টি সঠিক। তাদের টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা শিক্ষার্থীদের ডেকে তালিকা করে টাকা ফেরত দিচ্ছে।
উল্লেখ্য মাহমুদপুর বি.এল উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের থেকে জানা যায়, তারা এবার মোট ১২০ জন শিক্ষার্থী এই বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। এরমধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের ৩৮ জন, মানবিক বিভাগের ৪২ জন এবং ভোকেশনাল বিভাগের ৪০ জন। ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে বিজ্ঞান বিভাগের প্রত্যেক পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৬শ টাকা এবং মানবিক বিভাগের প্রত্যেক পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩শ টাকা করে আদায় করেছে। এর মধ্যে কয়েকজন টাকা না নিয়ে আসায় তারা পরে দিবে মর্মে সময় নেয়।
পরীক্ষার্থীরা আরো অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এইচএম নূরুন্নবী চৌধুরী রতনের নির্দেশে কৃষি শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক শহিদুল ইসলাম মোল্লাসহ অন্য শিক্ষকরা প্রতি বিষয়ের ব্যবহারিক খাতা ও ব্যবহারিক পরীক্ষা বাবদ এসব টাকা আদায় করেছেন। টাকা না দিলে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
ঘটনার দিন অভিযুক্ত  কৃষি শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক শহিদুল ইসলাম মোল্লাসহ অন্য শিক্ষকরা অর্থ আদায়ের বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে অস্বীকার করলেও নিউজ প্রকাশের পর কর্তৃপক্ষের চাপে আদায়কৃত অর্থ শিক্ষার্থীদের ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছে।