
ভারত থেকে লাগেজে করে আনা বিপুল পরিমাণ পণ্য রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় আটক করায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া কাস্টমসের একজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাসহ দুই সিপাহীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার বিকাল ৫টায় এ ঘটনার খবর পেয়ে আখাউড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
এ ঘটনায় রাতেই আখাউড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
আখাউড়া কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ভারত থেকে একদল লাগেজ চোরাকারবারি আখাউড়া স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট সীমান্ত পথে দেশে আসে। এ সময় বন্দর এলাকার বাসিন্দা চিহ্নিত লাগেজ পার্টির গডফাদার কবীরের নেতৃত্বে রিপন, আওলাদসহ কয়েকজন মিলে কাস্টমস স্ক্যানিং মেশিনে ব্যাগ না নিয়ে সিএনজি অটোরিকশা এবং মোটরসাইকেলযোগে বিপুল পরিমাণ পণ্যবোঝাই ব্যাগ রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে নিয়ে হচ্ছিল।
খবর পেয়ে আখাউড়া কাস্টমস সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা কামরুল পারভেজ তার দুই সিপাহী নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে তাদের পিছু ধাওয়া করে বন্দর এলাকার বঙ্গেরচর নামকস্থানে আটক করতে সক্ষম হয়। এ সময় কাস্টমস স্ক্যানিং না করে ব্যাগগুলো নিয়ে আসায় কাস্টমস কর্মকর্তা চ্যালেঞ্জ করলে কবীর ও তার সঙ্গীয় লোকজন কাস্টমসের ওই কর্মকর্তা এবং সিপাহীদের ওপর হামলা চালালে তারা আহত হন। এ সময় ভারতীয় পণ্যবোঝাই লাগেজ ছিনিয়ে নিয়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যায়।
আখাউড়া কাস্টমস রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়্যুম যুগান্তরকে জানান, বন্দর এলাকার বাসিন্দা কবীর, রিপন ও আওলাদ ওরা লাগেজ পার্টির চিহ্নিত সদস্য। ভারতীয় একাধিক পাসপোর্টধারী লাগেজ চোরাকারবারি প্রতিদিন ওদের সহযোগিতায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য এনে সরকারের লাখ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আসছে। সরকারি রাজস্ব ফাঁকি রোধে বর্তমানে কাস্টমস চেকপোস্টে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
আখাউড়া কাস্টমস সহকারী কমিশনার মো. ইমরান হোসেন জানান, চোরাচালান প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। আখাউড়া স্থলবন্দর পথে লাগেজ পার্টির দৌরাত্ম্য বন্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
আখাউড়া থানার ওসি নূরে আলম যুগান্তরকে জানান, কাস্টমস কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলাকারীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ।। 







































