
ভারতের লোকসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। সাত দফায় নির্বাচন শুরু হবে ১৯ এপ্রিল, শেষ হবে ১ জুন আর ফল প্রকাশ হবে ৪ জুন। ভারতের নির্বাচনকে বিশে^র সবচেয়ে বৃহৎ গণতান্ত্রিক উৎসব হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। নানা দিক থেকে এ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে আগামী নির্বাচনে আবারও বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ভারতের সরকার গঠন করবে বলে জরিপে আভাস মিলেছে। এবিপি-সি-ভোটার জরিপে দেখা গেছে এনডিএ জোট ৩৬৬ আসনে জয়ী হবে।
জরিপের ফলে দেখা গেছে, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট প্রায় ৪৫.৯ শতাংশ ভোটারের সমর্থন পাবে। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলোর জোট ইন্ডিয়া জোটের পক্ষে থাকতে পারে ৩৯ শতাংশ ভোট। এর অর্থ বিরোধী জোট মাত্র ১৫৬টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জনবহুল উত্তর প্রদেশে লোকসভায় ৮০টি আসনের মধ্যে ৭৪টি আসনই পেতে পারে এনডিএ জোট, যা গত নির্বাচনের তুলনায় বেশি। অন্যদিকে তামিলনাড়ু রাজ্য কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোটের জন্য শক্তিশালী ঘাঁটি বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজ্যটিতে ৩৯টি আসনে তারা জয় পেতে পারে বলে জরিপে আভাস পাওয়া গেছে।
পাঞ্জাবে আম আদমি পার্টি (এএপি) আসন ভাগে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে বলে জরিপের ফলে দেখা গেছে। এখানে তারা ৬টি আসন পেতে পারে। মহারাষ্ট্র রাজ্য দলগুলোর জন্য হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ক্ষেত্র হতে পারে। জরিপ বলছেÑ সেখানে এনডিএ জোট পাবে ২৮ আসন এবং ইউপিএ জোট পেতে পারে ২০টি আসন।
এদিকে লোকসভা নির্বাচনে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ৪২ আসনে এ বছর তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তবে সামান্য ভোটে এগিয়ে থাকবে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের চেয়ে তৃণমূল ও বিজেপি এবার একটি করে আসনে এগিয়ে থাকতে পারে। গত নির্বাচনে তৃণমূল পেয়েছিল ২২টি আসন; এবার বেড়ে হবে ২৩টি। বিজেপি পেয়েছিল ১৮টি আসন; বেড়ে হবে ১৯টি। কংগ্রেস ২টি আসন পেলেও এবার থাকছে শূন্য। বাম দলও শূন্য। সমীক্ষায় এ কথাও বলা হয়েছেÑ তৃণমূল পেতে পারে ৪২ শতাংশ আর বিজেপি পেতে পারে ৪১ শতাংশ ভোট। তবে এই হিসাব ওলট-পালট হতে পারে আগামীর নির্বাচনের প্রচার ভিত্তি করে। তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেছেন, অনেক আগের সমীক্ষা এটি। এখন পরিস্থিতি পাল্টাচ্ছে। তৃণমূলের প্রচারে ঝড় উঠবে। তৃণমূল ত্রিশের বেশি আসন পাবে।
সমীক্ষায় এ কথাও বলা হয়েছে, ৩১ শতাংশ মানুষ মোদির কাজে খুব সন্তুষ্ট। ৪৪ শতাংশ মানুষ অত্যন্ত সন্তুষ্ট। মোটামুটি সন্তুষ্ট ৩৫ শতাংশ মানুষ। অসন্তুষ্ট বলেছে ২০ শতাংশ উত্তরদাতা। পাশাপাশি মমতা সরকারের কাজ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ২৭ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তারা অত্যন্ত সন্তুষ্ট। খুব সন্তুষ্ট বলেছেন ৩২ শতাংশ। আর মোটামুটি সন্তুষ্ট বলেছেন ৩১ শতাংশ উত্তরদাতা।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক।। 







































