বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

১২ দলীয় জোটের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

  • ঢাকা ব্যুরো।।
  • প্রকাশের সময় : ০৩:৫৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০২৪
  • ৩৬

গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

আজ সোমবার ১২ দলীয় জোটের উদ্যোগে দেশবরেণ্য রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট নাগরিকদের সম্মানে রাজধানীর মালিবাগ স্কাই সিটি হোটেলে এই ‘ইফতার ও দোয়া মাহফিল’ পূর্ব সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় নেতারা এ ঘোষণা দেন।

সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

১২ দলীয় জোটের প্রধান সমন্বয়ক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা বক্তব্য দেন।

মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন বিজয়ের পথে। ৭ জানুয়ারি জনগণের বিজয় হয়েছে।’

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘কারাগার থেকে রমজানের একদিন আগে বের হয়েছি। নেতাকর্মীরা আন্দোলনে ছিল। একটি সশস্ত্র সিন্ডিকেট আর সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে নিরীহ জনগণের প্রতিবাদ এর চেয়ে বেশি আর কী হবে? দেশের জনগণ সঠিকভাবে এর প্রতিবাদ করেছে। সরকার বিভিন্ন কায়দায় এ নির্বাচনকে নির্বাচন হিসেবে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে, কিন্তু তাদের সকল চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। নিজ দল থেকে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী দিয়েছে। আবার বিরোধী দলের সঙ্গে বসে পিঠা ভাগাভাগি করেছে। বিশ্বে এমন উদার গণতন্ত্র দেখেছে বলে আমার মনে হয় না। সে গণতন্ত্রকে আমরা ধিক্কার জানাই।’

আন্দোলনে পরাজয় হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দূরে থেকেও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জাতিকে বুদ্ধিভিত্তিক এবং সফলভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এ আন্দোলনে আমাদের পরাজয় হয়নি। যারা জনগণের ভোট ছিনতাই করেছে পরাজয় তাদের হয়েছে। ইতিহাসে এ দায় তারা কখনো মুছতে পারবে না। জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে আমার কিছুই হারাইনি। যারা সংসদ ছিনতাই করেছে তাদের কাছ থেকে জনগণের অধিকার ছিনিয়ে আনতে আমাদের এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘৭ জানুয়ারি আমরা হারিনি। এ লড়াইটা চালিয়ে যেতে হবে। আমাদের অধৈর্য্য হওয়ার কিছু নেই। এ রকম সময় যা হয়-হতাশা তৈরি হয়, একজন আরেকজনের প্রতি রাগ দেখায়-এটা করা যাবে না। যতো এক সাথে থাকতে পারব, আমি কী করতে যাচ্ছি, কিভাবে কতদিনে করতে পারব, বিজয়ের পর কী করব এটা স্পষ্ট হলেই আমরা বিজয়ী হব।’

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, ‘আমরা যখন ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি, তখন তারা (সরকার) সাম্প্রদায়িকতার ট্রাম কার্ড খেলছে। দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দিরের জায়গা দখল করে মসজিদ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে- এটা ভারতের পারপাসে। আওয়ামী লীগ সাম্প্রাদিয়কতা খেলছে, খেলবে-এ ব্যাপারে আমাদের জাতীয় নেতাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হুদার পরিচালনায় আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এবং স্বাগত বক্তব্য দেন ১২ দলীয় জোটের মুখপাত্র শাহদাত হোসেন সেলিম।

১২ দলীয় জোটের ইফতারে রাজনীতিবিদের মধ্যে আরও অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চৌধুরী, জাগপার একাংশের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার লুৎফর রহমান, জাতীয় পার্টির মহাসচিব আহসান হাবিব লিংকন, গণঅধিকার পরিষদ একাংশের আহ্বায়ক কর্ণেল (অব.) ড. মশিউজ্জামান, জাগপার সিনিয়র সহ সভাপতি রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব মুহাম্মদ আবু হানিফ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আব্দুল করিম, ইসলামিক পার্টির মহাসচিব আবুল কাশেম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মনসুরুল হাসান রায়পুরী প্রমুখ।

জনপ্রিয়

যশোরে এক হাজার ইয়াবাসহ নারী আটক

১২ দলীয় জোটের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

প্রকাশের সময় : ০৩:৫৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০২৪

গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

আজ সোমবার ১২ দলীয় জোটের উদ্যোগে দেশবরেণ্য রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট নাগরিকদের সম্মানে রাজধানীর মালিবাগ স্কাই সিটি হোটেলে এই ‘ইফতার ও দোয়া মাহফিল’ পূর্ব সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় নেতারা এ ঘোষণা দেন।

সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

১২ দলীয় জোটের প্রধান সমন্বয়ক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা বক্তব্য দেন।

মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন বিজয়ের পথে। ৭ জানুয়ারি জনগণের বিজয় হয়েছে।’

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘কারাগার থেকে রমজানের একদিন আগে বের হয়েছি। নেতাকর্মীরা আন্দোলনে ছিল। একটি সশস্ত্র সিন্ডিকেট আর সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে নিরীহ জনগণের প্রতিবাদ এর চেয়ে বেশি আর কী হবে? দেশের জনগণ সঠিকভাবে এর প্রতিবাদ করেছে। সরকার বিভিন্ন কায়দায় এ নির্বাচনকে নির্বাচন হিসেবে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে, কিন্তু তাদের সকল চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। নিজ দল থেকে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী দিয়েছে। আবার বিরোধী দলের সঙ্গে বসে পিঠা ভাগাভাগি করেছে। বিশ্বে এমন উদার গণতন্ত্র দেখেছে বলে আমার মনে হয় না। সে গণতন্ত্রকে আমরা ধিক্কার জানাই।’

আন্দোলনে পরাজয় হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দূরে থেকেও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জাতিকে বুদ্ধিভিত্তিক এবং সফলভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এ আন্দোলনে আমাদের পরাজয় হয়নি। যারা জনগণের ভোট ছিনতাই করেছে পরাজয় তাদের হয়েছে। ইতিহাসে এ দায় তারা কখনো মুছতে পারবে না। জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে আমার কিছুই হারাইনি। যারা সংসদ ছিনতাই করেছে তাদের কাছ থেকে জনগণের অধিকার ছিনিয়ে আনতে আমাদের এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘৭ জানুয়ারি আমরা হারিনি। এ লড়াইটা চালিয়ে যেতে হবে। আমাদের অধৈর্য্য হওয়ার কিছু নেই। এ রকম সময় যা হয়-হতাশা তৈরি হয়, একজন আরেকজনের প্রতি রাগ দেখায়-এটা করা যাবে না। যতো এক সাথে থাকতে পারব, আমি কী করতে যাচ্ছি, কিভাবে কতদিনে করতে পারব, বিজয়ের পর কী করব এটা স্পষ্ট হলেই আমরা বিজয়ী হব।’

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, ‘আমরা যখন ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি, তখন তারা (সরকার) সাম্প্রদায়িকতার ট্রাম কার্ড খেলছে। দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দিরের জায়গা দখল করে মসজিদ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে- এটা ভারতের পারপাসে। আওয়ামী লীগ সাম্প্রাদিয়কতা খেলছে, খেলবে-এ ব্যাপারে আমাদের জাতীয় নেতাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হুদার পরিচালনায় আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এবং স্বাগত বক্তব্য দেন ১২ দলীয় জোটের মুখপাত্র শাহদাত হোসেন সেলিম।

১২ দলীয় জোটের ইফতারে রাজনীতিবিদের মধ্যে আরও অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চৌধুরী, জাগপার একাংশের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার লুৎফর রহমান, জাতীয় পার্টির মহাসচিব আহসান হাবিব লিংকন, গণঅধিকার পরিষদ একাংশের আহ্বায়ক কর্ণেল (অব.) ড. মশিউজ্জামান, জাগপার সিনিয়র সহ সভাপতি রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব মুহাম্মদ আবু হানিফ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আব্দুল করিম, ইসলামিক পার্টির মহাসচিব আবুল কাশেম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মনসুরুল হাসান রায়পুরী প্রমুখ।