রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিএনপির বিরোধিতায় গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি–সেতুমন্ত্রী

  • ঢাকা ব্যুরো।।
  • প্রকাশের সময় : ০৪:৪৮:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০২৪
  • ২১৮

বিএনপির বিরোধিতার কারণে একাত্তরে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘এরা দালাল। এদের কারণে গণহত্যার স্বীকৃতি আজও আমরা পাইনি। আমরা পাকিস্তানের কাছ থেকে আমাদের ন্যায্য পাওনা পাইনি। পাকিস্তানি নাগরিকরা বছরের পর বছর বোঝা হয়ে আছে। কথা দিয়ে তাদের নাগরিকদের ফেরত নেয়নি।’ বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে ২৫ মার্চের গণহত্যা নিয়ে একটি কথাও উচ্চারিত হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ।

গতকাল সোমবার বিকালে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণ যৌথভাবে এ আলোচনাসভার আয়োজন করে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে সমাবেশে দলের সভাপতিম-লীর সদস্য কামরুল ইসলাম ও ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, মাহবুব-উল আলম হানিফ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, কার্যনির্বাহী সদস্য

সানজিদা খানম, যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, কৃষক লীগ সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, পাকিস্তান একাত্তরে গণহত্যার জন্য একবারও দুঃখ প্রকাশ করেনি। বাংলাদেশের কাছে এ যাবত ক্ষমা প্রার্থনাও করেনি। সেই পাকিস্তানের যারা দালালি করে, তারা স্বাধীনতার শত্রু। বিএনপি পাকিস্তানের দালালি করে। এই শত্রুরা বঙ্গবন্ধু ও চার জাতীয় নেতাকে হত্যা করেছিল। জয় বাংলা, ৭ মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ করেছিল। ২৬ মার্চে স্বাধীনতার স্থপতিকে নিষিদ্ধ করেছিল।

বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ ভুয়া উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি জানতে চাইÑ আজ (২৫ মার্চ সোমবার) দুপুর বেলায় পল্টন ময়দানে মির্জা ফখরুল মুক্তিযোদ্ধার সমাবেশ করেছেন, একাত্তরে আপনি কোথায় ছিলেন? আপনি কোথা থেকে ট্রেনিং নিয়েছেন? কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন? বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ ভুয়া, এটি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশ। এরা পাকিস্তানের দালাল।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপির সমাবেশে ২৫ মার্চ গণহত্যা নিয়ে একটি শব্দ উচ্চারণ করেনি, এরা কারা? এরা পাকিস্তানের দালাল। হাতে গুনলে কয়জনকে পাবেন? যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না, তারা কোনো দিন মুক্তিযোদ্ধা হতে পারে না।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিদেশে আমাদের বন্ধু আছে, প্রভু নেই। বিএনপির প্রভু আছে যারা, তাদের স্বার্থের পক্ষে ওকালতি করে। আমাদের বন্ধুরা একাত্তরের পরীক্ষিত বন্ধু। বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনো বিদেশি বন্ধু হস্তক্ষেপ করেনি। বিএনপির বন্ধুরা যখন নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করেছিল, তখন আমাদের বন্ধুরা নির্বাচনের পক্ষে স্ট্রংলি দাঁড়িয়েছিল।’

বিএনপি নেতাদের প্রতি প্রশ্ন রেখে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘রান্নাঘরে যা যা ব্যবহার করে তার মধ্যে ভারতীয় পণ্য কোনটা কোনটা। রান্নাঘরে যান, শোয়ার ঘরে যান, ভারতীয় পণ্য। এখন রিজভী সাহেব রাজনীতি করার জন্য গা থেকে কাশ্মীরি শাল ফেলে দিয়ে আগুনে পুড়েছেন। আরও কয়টা শাল তার ঘরে আছে কে জানে। ভারতীয় পণ্য ছাড়া খাবার জোটে না। ভারতীয় মশলা, ভারতীয় পেঁয়াজ কার ঘরে নেই? খুঁজে দেখব?’

জনপ্রিয়

যবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় অমর একুশে পালন

বিএনপির বিরোধিতায় গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি–সেতুমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৪:৪৮:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০২৪

বিএনপির বিরোধিতার কারণে একাত্তরে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘এরা দালাল। এদের কারণে গণহত্যার স্বীকৃতি আজও আমরা পাইনি। আমরা পাকিস্তানের কাছ থেকে আমাদের ন্যায্য পাওনা পাইনি। পাকিস্তানি নাগরিকরা বছরের পর বছর বোঝা হয়ে আছে। কথা দিয়ে তাদের নাগরিকদের ফেরত নেয়নি।’ বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে ২৫ মার্চের গণহত্যা নিয়ে একটি কথাও উচ্চারিত হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ।

গতকাল সোমবার বিকালে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণ যৌথভাবে এ আলোচনাসভার আয়োজন করে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে সমাবেশে দলের সভাপতিম-লীর সদস্য কামরুল ইসলাম ও ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, মাহবুব-উল আলম হানিফ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, কার্যনির্বাহী সদস্য

সানজিদা খানম, যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, কৃষক লীগ সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, পাকিস্তান একাত্তরে গণহত্যার জন্য একবারও দুঃখ প্রকাশ করেনি। বাংলাদেশের কাছে এ যাবত ক্ষমা প্রার্থনাও করেনি। সেই পাকিস্তানের যারা দালালি করে, তারা স্বাধীনতার শত্রু। বিএনপি পাকিস্তানের দালালি করে। এই শত্রুরা বঙ্গবন্ধু ও চার জাতীয় নেতাকে হত্যা করেছিল। জয় বাংলা, ৭ মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ করেছিল। ২৬ মার্চে স্বাধীনতার স্থপতিকে নিষিদ্ধ করেছিল।

বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ ভুয়া উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি জানতে চাইÑ আজ (২৫ মার্চ সোমবার) দুপুর বেলায় পল্টন ময়দানে মির্জা ফখরুল মুক্তিযোদ্ধার সমাবেশ করেছেন, একাত্তরে আপনি কোথায় ছিলেন? আপনি কোথা থেকে ট্রেনিং নিয়েছেন? কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন? বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ ভুয়া, এটি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশ। এরা পাকিস্তানের দালাল।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপির সমাবেশে ২৫ মার্চ গণহত্যা নিয়ে একটি শব্দ উচ্চারণ করেনি, এরা কারা? এরা পাকিস্তানের দালাল। হাতে গুনলে কয়জনকে পাবেন? যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না, তারা কোনো দিন মুক্তিযোদ্ধা হতে পারে না।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিদেশে আমাদের বন্ধু আছে, প্রভু নেই। বিএনপির প্রভু আছে যারা, তাদের স্বার্থের পক্ষে ওকালতি করে। আমাদের বন্ধুরা একাত্তরের পরীক্ষিত বন্ধু। বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনো বিদেশি বন্ধু হস্তক্ষেপ করেনি। বিএনপির বন্ধুরা যখন নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করেছিল, তখন আমাদের বন্ধুরা নির্বাচনের পক্ষে স্ট্রংলি দাঁড়িয়েছিল।’

বিএনপি নেতাদের প্রতি প্রশ্ন রেখে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘রান্নাঘরে যা যা ব্যবহার করে তার মধ্যে ভারতীয় পণ্য কোনটা কোনটা। রান্নাঘরে যান, শোয়ার ঘরে যান, ভারতীয় পণ্য। এখন রিজভী সাহেব রাজনীতি করার জন্য গা থেকে কাশ্মীরি শাল ফেলে দিয়ে আগুনে পুড়েছেন। আরও কয়টা শাল তার ঘরে আছে কে জানে। ভারতীয় পণ্য ছাড়া খাবার জোটে না। ভারতীয় মশলা, ভারতীয় পেঁয়াজ কার ঘরে নেই? খুঁজে দেখব?’