
মুন্সীগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ গুলিবিদ্ধ হয়ে মো. পারভেজ নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১২ এপ্রিল) রাত ৩টা থেকে শনিবার সকাল ৭টা পর্যন্ত থেমে থেমে চলে এই সংঘর্ষ। এ ঘটনায় একজন নিহতসহ কয়েকজন আহতের পাশাপাশি শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রাব্বি ও পারভেজকে প্রথমে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিলে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান পারভেজ।
স্থানীয়দের বরাতে তিনি জানান, চরকেওয়ার ইউনিয়নের খাসকান্দি ও ছোট মোল্লা কান্দি গ্রামের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মামুন হালদার-নজির হালদার গ্রুপের সঙ্গে আহমদ গ্রুপের মধ্যে দির্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে এর আগেও কয়েক দফা সংঘর্ষে জড়ায় গ্রুপ দুটি। তারই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার গভীর রাত থেকে আবারও দুই গ্রুপের সর্মথকদের মধ্যে বাধে সংঘর্ষ। মুহুমুহু ককটেল বিস্ফোরণে রণক্ষেত্র পরিণত হয় গ্রাম দুটি। এতে গুলিবিদ্ধ দুইজনসহ কমপক্ষে তিন থেকে চারজন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে পারভেজকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায়। এছাড়াও শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটনায় দুই গ্রুপের সন্ত্রাসীরা। ফলে আতঙ্কিত হয়ে পরে গ্রাম দুটির সাধারণ মানুষ। ভাঙচুর হয়েছে কয়েকটি বসতবাড়ি। বর্তমানে গ্রাম দুটিতে আতঙ্ক বিরাজ করছে। মোতায়েন রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।
ওসি বলেন, এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। ঘটনাস্থল ও আশেপাশে পুলিশ মোতায়েন আছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে গ্রাম দুটিতে পুলিশি অভিযান চলছে। যারাই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকুক না কেন কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এ বিষয়ে গুলিবিদ্ধ গ্রুপের আহমদ বলেন, ‘আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রাতে মামুন হালদারের ভাই সেলিম হালদার গ্রুপের লোকজন আমার কর্মী-সর্মথকদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে পারভেজ ও রাব্বিকে গুলি করে। সেই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে পারভেজ মারা যায়। এছাড়াও ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এসময় আমার কর্মীরা প্রতিরোধের চেষ্টা করলে তাদের ওপর গুলি ছোড়ে এতে আমার এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা নেওয়ার পথে মারা যায় এবং অপর এককর্মীর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এতে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে বাড়িঘরে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা অভিযোগ করেন মামুন হালদার। তিনি বলেন, শুক্রবার বিকাল থেকে আমাদের লোকজনকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল আহমদ গ্রুপের সন্ত্রাসীরা। পরে রাতে আমার লোকজনের বাড়িঘরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে আমার ৮ থেকে ১০ জন কর্মী আহত হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি।। 







































