সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ক্ষেতলালে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীর ২ সমর্থককে কুপিয়ে জখম

দুইজনকে কুপিয়ে জখম

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে এশার নামাজ আদায়ের সময় মসজিদের সামনে পটকা ফোটানোর প্রতিবাদ করার জেরে দুই জনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। গত শনিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের  বারইল নলপুকুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
ধারালো অস্ত্র দিয়ে  দুই জনকে  কুপিয়ে জখমের এ ঘটনাটি নির্বাচনী সহিংসতায় রুপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আহত দুই জনকে ক্ষেতলাল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী এক চেয়ারম্যান প্রার্থী তাঁর কর্মী-সমর্থক দাবি করেছেন। তবে পুলিশ বলছে,  মসজিদে নামাজ আদায়ের সময় পটকা ফোটানো নিয়ে মারধরের জেরে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।  ঘটনাটি নির্বাচনী সংহিসতার রুপ দিয়ে  প্রচার করা হচ্ছে।
আহতরা ব্যক্তিরা  হলেন, পলাশ সাখিতার (৩৫) ও নাসির হোসেন (৩০)। তাঁরা বারইল নলপুকুর গ্রামের বাসিন্দা।  পলাশ সাখিদার একজন সিএনজিচালক। তাঁকে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। পলাশ সাখিদার ও নাসির হোসেন ক্ষেতলাল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী দুলাল মিয়া সরদারের  আর মারধর কাজে জড়িতরা  অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী তাইফুল ইসলাম তালুকদারের সমর্থক বলে পুলিশ জানিয়েছে।
থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে  জানা গেছে, বারইল নলপুকুর গ্রামর মসজিদে শনিবার রাতে এশার নামাজ আদায় করছিলেন মুসল্লীরা। এসময় ওই গ্রামের বাসিন্দা নীরব হোসেনসহ কয়েক জন তরুণ ভ্যানযোগে যাওয়ার সময় পটকা ফোটান। এতে গ্রামের পলাশ সাখিদার তাঁদের ওপন ক্ষিপ্ত হন। একপর্যায়ে  পলাশ সাখিদার নীরব হোসেনকে মারপিট করেন। এরপর রাত সাড়ে নয়টার দিকে নীববসহ ১০-১২ জনকে নিয়ে পলাশ সাখিদারের বাড়িতে যান। সেখানে পলাশ সাখিদার ও নাসিরকে কুপিয়ে জখম করা হয়। এঘটনায় উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। সেখান থেকে আহত দুই জনকে   উদ্ধার করে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। পরে তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ক্ষেতলার  উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি দুলাল মিয়া সরদার বলেন,  আহত দুই জন আমার সমর্থক।  তাঁদের চিকিৎসার খোঁজ খবর নিচ্ছি। এঘটনায়  আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এব্যাপারে জানতে আজ রোববার সকালে   উপজেলা  চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সাবেক চেয়ারম্যান তাইফুল ইসলাম তালুকদারের মুঠোফোনে কল করা হলে অন্য একজন রিসিভ করেন। তিনি বলেন,  তাইফুল ইসলাম ব্যস্ত আছেন। আপনার সঙ্গে পরে কথা বলবেন মুঠোফোনে সংযোগ কেটে দেন। পরে যোগাযোগ করা  মুঠোফোন রিসিভ করা হয়নি।
তাইফুল ইসলাম তালুকদারের কর্মী মামদপুর ইউপির সাবেক আব্দুর রশিদ বকুল বলেন, পটকা ফোটানো জেরে আগে আমাদের ছেলেদের মারধর করা হয়েছে। যাঁরা আমাদের ছেলেদের আগে  মারধর করেছেন তাঁরা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী দুলাল মিয়া সরদারের কর্মী-সমর্থক।
ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা  খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। আহত দুই জনকে  হাসপাতালে আনা হয়েছিল। হাসপাতালে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছি। নামাজের সময় পটকা ফোটানো নিয়ে ঘটনাটি ঘটেছে। এই ঘটনাটি দুই পক্ষই নির্বাচনী সহিংসতা বলে চালানোর চেষ্টা করছে। আহত দুই জন বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এঘটনায় থানায় কোন পক্ষই মামলা করেননি।
জনপ্রিয়

গণভোটে অংশ নিয়ে ‘হ্যাঁ’-তে সিল দিন: প্রধান উপদেষ্টা

ক্ষেতলালে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীর ২ সমর্থককে কুপিয়ে জখম

প্রকাশের সময় : ০৮:২৪:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪
জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে এশার নামাজ আদায়ের সময় মসজিদের সামনে পটকা ফোটানোর প্রতিবাদ করার জেরে দুই জনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। গত শনিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের  বারইল নলপুকুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
ধারালো অস্ত্র দিয়ে  দুই জনকে  কুপিয়ে জখমের এ ঘটনাটি নির্বাচনী সহিংসতায় রুপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আহত দুই জনকে ক্ষেতলাল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী এক চেয়ারম্যান প্রার্থী তাঁর কর্মী-সমর্থক দাবি করেছেন। তবে পুলিশ বলছে,  মসজিদে নামাজ আদায়ের সময় পটকা ফোটানো নিয়ে মারধরের জেরে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।  ঘটনাটি নির্বাচনী সংহিসতার রুপ দিয়ে  প্রচার করা হচ্ছে।
আহতরা ব্যক্তিরা  হলেন, পলাশ সাখিতার (৩৫) ও নাসির হোসেন (৩০)। তাঁরা বারইল নলপুকুর গ্রামের বাসিন্দা।  পলাশ সাখিদার একজন সিএনজিচালক। তাঁকে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। পলাশ সাখিদার ও নাসির হোসেন ক্ষেতলাল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী দুলাল মিয়া সরদারের  আর মারধর কাজে জড়িতরা  অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী তাইফুল ইসলাম তালুকদারের সমর্থক বলে পুলিশ জানিয়েছে।
থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে  জানা গেছে, বারইল নলপুকুর গ্রামর মসজিদে শনিবার রাতে এশার নামাজ আদায় করছিলেন মুসল্লীরা। এসময় ওই গ্রামের বাসিন্দা নীরব হোসেনসহ কয়েক জন তরুণ ভ্যানযোগে যাওয়ার সময় পটকা ফোটান। এতে গ্রামের পলাশ সাখিদার তাঁদের ওপন ক্ষিপ্ত হন। একপর্যায়ে  পলাশ সাখিদার নীরব হোসেনকে মারপিট করেন। এরপর রাত সাড়ে নয়টার দিকে নীববসহ ১০-১২ জনকে নিয়ে পলাশ সাখিদারের বাড়িতে যান। সেখানে পলাশ সাখিদার ও নাসিরকে কুপিয়ে জখম করা হয়। এঘটনায় উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। সেখান থেকে আহত দুই জনকে   উদ্ধার করে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। পরে তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ক্ষেতলার  উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি দুলাল মিয়া সরদার বলেন,  আহত দুই জন আমার সমর্থক।  তাঁদের চিকিৎসার খোঁজ খবর নিচ্ছি। এঘটনায়  আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এব্যাপারে জানতে আজ রোববার সকালে   উপজেলা  চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সাবেক চেয়ারম্যান তাইফুল ইসলাম তালুকদারের মুঠোফোনে কল করা হলে অন্য একজন রিসিভ করেন। তিনি বলেন,  তাইফুল ইসলাম ব্যস্ত আছেন। আপনার সঙ্গে পরে কথা বলবেন মুঠোফোনে সংযোগ কেটে দেন। পরে যোগাযোগ করা  মুঠোফোন রিসিভ করা হয়নি।
তাইফুল ইসলাম তালুকদারের কর্মী মামদপুর ইউপির সাবেক আব্দুর রশিদ বকুল বলেন, পটকা ফোটানো জেরে আগে আমাদের ছেলেদের মারধর করা হয়েছে। যাঁরা আমাদের ছেলেদের আগে  মারধর করেছেন তাঁরা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী দুলাল মিয়া সরদারের কর্মী-সমর্থক।
ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা  খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। আহত দুই জনকে  হাসপাতালে আনা হয়েছিল। হাসপাতালে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছি। নামাজের সময় পটকা ফোটানো নিয়ে ঘটনাটি ঘটেছে। এই ঘটনাটি দুই পক্ষই নির্বাচনী সহিংসতা বলে চালানোর চেষ্টা করছে। আহত দুই জন বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এঘটনায় থানায় কোন পক্ষই মামলা করেননি।