মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনের পর সরকার আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে:- মির্জা ফখরুল

গত ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী এখন আরও বেশি মাত্রায় বেপরোয়া, কতৃর্ত্ববাদী ও জুলুমবাজ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আত্মসমার্পনের পর যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ বেশ কয়েকজন নেতাকে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারের পাঠানোর ঘটনায় আজ সোমবার সংবাদধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

অপর দিকে হাইকোর্টের জামিন শেষে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদসহ আরও নেতা এবং রাজশাহী জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাদ্দাম হোসেনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান আদালত। এসব ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় বিবৃতিতে।

বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় অন্যায়ভাবে সাজাপ্রাপ্ত যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এস এম ওবায়দুল হক নাসিরের জামিন নামঞ্জুর ও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘৭ জানুয়ারি ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী এখন আরও বেশি মাত্রায় বেপরোয়া, কতৃর্ত্ববাদী ও জুলুমবাজ হয়ে উঠেছে। অবৈধ রাষ্ট্রক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ গণতন্ত্রমনা বিরোধী দল এবং ভিন্নমত ও পথের মানুষদের ওপর দমন-পীড়নের খড়গ নামিয়ে এনেছে দখলদার সরকার।’

যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ কুড়িগ্রাম ও রাজশাহীর নেতাদের জামিন না মঞ্জুর করে আদালত কারাগারে পাঠানো প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জামিন মঞ্জুর না করে নেতাদের কারাগারে পাঠানোর ঘটনা চলমান আওয়ামী দমন-পীড়নেরই ধারাবাহিকতা। বিরোধী নেতাকর্মীদের কারাগারে পাঠানোর মাধ্যমে গোটা দেশটাকে বন্দিশালা বানানো হয়েছে। বর্তমানে দেশ থেকে আইনের শাসন ও সুশাসন উধাও হয়ে গেছে বলেই গণতান্ত্রিক সংগ্রামে অংশগ্রহণরত নেতাকর্মীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশে এক সর্বগ্রাসী অরাজকতার ডালপালা বিস্তারলাভ করেছে। আওয়ামী অবৈধ শাসকগোষ্ঠী তাদের দুঃশাসন প্রলম্বিত করতেই শহর থেকে গ্রাম সর্বত্র ভীতি ও আতঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছে।’

সারাদেশে প্রতিনিয়ত সরকারের মদদে বিরোধী নেতাকর্মীদেরকে মিথ্যা মামলায় ফরমায়েশি সাজা প্রদানসহ জামিন নামঞ্জুরের মাধ্যমে কারান্তরীণ করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিএনপি মহাসচিব। অবিলম্বে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এস এম ওবায়দুল হক নাসির নেতাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানান তিনি।

এদিকে, সংগঠনের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করে জাতীয়তাবাবাদী যুবদল। আজ নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই মিছিল বের হলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। পরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যের মধ্যদিয়ে সংক্ষিপ্ত পথসভা শেষ হয়।

পথসভায় রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘দেশের চলমান সীমাহীন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সাধারণ মানুষের হাহাকার, অসহনীয় তাপপ্রবাহের মাঝেও শেখ হাসিনা সরকারের গণতন্ত্রপন্থীদের ধ্বংস করার নীলনকশা থামছে না। এরই অংশ হিসেবে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে কারাবন্দী করা হয়েছে। আগে থেকেই কারাগারা আছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, আসলাম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা সাইফুল আলম নিরব, আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, হাবিবুর রশিদ হাবিব, আকরামুল হাসান মিন্টুসহ আরো অনেকে। অথচ, এই সরকার ব্যাংক লুটকারী, টাকা পাচারকারীদেরদের গ্রেপ্তার করে না।’

মিছিলে আরও অংশ নেন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোনায়েম মুন্না, কেন্দ্রীয় নেতা কামরুজ্জামান দুলাল, করিম সরকার, পার্থ দেব মন্ডলসহ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নেতাকর্মীরা।

জনপ্রিয়

যশোরে ইয়াবাসহ নারী আটক

নির্বাচনের পর সরকার আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে:- মির্জা ফখরুল

প্রকাশের সময় : ০৯:৫৭:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৪

গত ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী এখন আরও বেশি মাত্রায় বেপরোয়া, কতৃর্ত্ববাদী ও জুলুমবাজ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আত্মসমার্পনের পর যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ বেশ কয়েকজন নেতাকে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারের পাঠানোর ঘটনায় আজ সোমবার সংবাদধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

অপর দিকে হাইকোর্টের জামিন শেষে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদসহ আরও নেতা এবং রাজশাহী জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাদ্দাম হোসেনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান আদালত। এসব ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় বিবৃতিতে।

বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় অন্যায়ভাবে সাজাপ্রাপ্ত যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এস এম ওবায়দুল হক নাসিরের জামিন নামঞ্জুর ও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘৭ জানুয়ারি ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী এখন আরও বেশি মাত্রায় বেপরোয়া, কতৃর্ত্ববাদী ও জুলুমবাজ হয়ে উঠেছে। অবৈধ রাষ্ট্রক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ গণতন্ত্রমনা বিরোধী দল এবং ভিন্নমত ও পথের মানুষদের ওপর দমন-পীড়নের খড়গ নামিয়ে এনেছে দখলদার সরকার।’

যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ কুড়িগ্রাম ও রাজশাহীর নেতাদের জামিন না মঞ্জুর করে আদালত কারাগারে পাঠানো প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জামিন মঞ্জুর না করে নেতাদের কারাগারে পাঠানোর ঘটনা চলমান আওয়ামী দমন-পীড়নেরই ধারাবাহিকতা। বিরোধী নেতাকর্মীদের কারাগারে পাঠানোর মাধ্যমে গোটা দেশটাকে বন্দিশালা বানানো হয়েছে। বর্তমানে দেশ থেকে আইনের শাসন ও সুশাসন উধাও হয়ে গেছে বলেই গণতান্ত্রিক সংগ্রামে অংশগ্রহণরত নেতাকর্মীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশে এক সর্বগ্রাসী অরাজকতার ডালপালা বিস্তারলাভ করেছে। আওয়ামী অবৈধ শাসকগোষ্ঠী তাদের দুঃশাসন প্রলম্বিত করতেই শহর থেকে গ্রাম সর্বত্র ভীতি ও আতঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছে।’

সারাদেশে প্রতিনিয়ত সরকারের মদদে বিরোধী নেতাকর্মীদেরকে মিথ্যা মামলায় ফরমায়েশি সাজা প্রদানসহ জামিন নামঞ্জুরের মাধ্যমে কারান্তরীণ করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিএনপি মহাসচিব। অবিলম্বে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এস এম ওবায়দুল হক নাসির নেতাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানান তিনি।

এদিকে, সংগঠনের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করে জাতীয়তাবাবাদী যুবদল। আজ নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই মিছিল বের হলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। পরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যের মধ্যদিয়ে সংক্ষিপ্ত পথসভা শেষ হয়।

পথসভায় রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘দেশের চলমান সীমাহীন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সাধারণ মানুষের হাহাকার, অসহনীয় তাপপ্রবাহের মাঝেও শেখ হাসিনা সরকারের গণতন্ত্রপন্থীদের ধ্বংস করার নীলনকশা থামছে না। এরই অংশ হিসেবে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে কারাবন্দী করা হয়েছে। আগে থেকেই কারাগারা আছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, আসলাম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা সাইফুল আলম নিরব, আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, হাবিবুর রশিদ হাবিব, আকরামুল হাসান মিন্টুসহ আরো অনেকে। অথচ, এই সরকার ব্যাংক লুটকারী, টাকা পাচারকারীদেরদের গ্রেপ্তার করে না।’

মিছিলে আরও অংশ নেন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোনায়েম মুন্না, কেন্দ্রীয় নেতা কামরুজ্জামান দুলাল, করিম সরকার, পার্থ দেব মন্ডলসহ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নেতাকর্মীরা।