সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দেশ ছেড়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতারা -রিজভী

বিএনপি নয়, আওয়ামী লীগের নেতা ও তাদের স্বজনরা দেশ ছেড়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেছেন, বিএনপি নেতারা হতাশ বা ক্লান্ত নয়। বিএনপি নেতারা কেউ দেশ ছেড়ে যাচ্ছে না। দেশ ছেড়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতারা ও তাদের স্বজনরা।

বৃহস্পতিবার (২ মে) সারা দেশে চলমান তীব্র তাপদাহে বিপর্যস্ত নগরীর পথচারীদের মাঝে ঢাকা মহানগর উত্তরের বাড্ডা বিএনপির পক্ষ থেকে খাবার পানি, স্যালাইন বিতরণ কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের জবাবে রিজভী বলেন, ওবায়দুল কাদের সাহেবরা হতাশা থেকে শ্রাবণের বৃষ্টির ধারার মতো অনর্গল অসত্য তথ্য দিয়ে যাচ্ছেন। শত নিপীড়নেও বিএনপি নেতারা রাজপথে আছে এবং সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকবে। মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

বিএনপির সিনিয়র নেতা আরও বলেন, বেসিক ব্যাংকসহ নানা ব্যাংক লুট করে, হলমার্ক কেলেঙ্কারী করে, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, ফ্লাইওভার নির্মাণের নামে টাকা লুটপাট করে সে টাকা তারা বিদেশে পাচার করেছে। মালয়েশিয়া, কানাডা, অস্ট্রেলিয়ায় সেকেন্ড হোম তৈরি করে তাদের স্ত্রী-সন্তানদের, আত্মীয়-স্বজনদের সেখানে পাঠিয়ে দিচ্ছে।

বিএনপির এ নেতা বলেন, আমরা তো আছি জেলে আসা যাওয়ার মধ্যে। শত নিপীড়নেও রাজপথে কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছি। আমরা কোনো জুলুম নির্যাতনের কাছে মাথানত করব না।

রিজভী আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগ শ্রমিকদের কল্যাণে কিছুই করেনি। বরং শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য দাবিতে, বেতনের দাবিতে, বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করতে গেলে চারজন শ্রমিককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। শ্রমিক নেতা আমিনুল হককে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে। রানা প্লাজায় প্রায় হাজারো শ্রমিক হতাহত হলো। তাজরিন গার্মেন্টে ১০০ শ্রমিক প্রাণ হারাল, সেগুলো মানুষ ভুলে যায়নি।

দেশে ভয়াবহ দুর্বিষহ অবস্থা চলছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, আজ এক একমাসের মতো দেশে খরা চলছে, অগ্নি প্রবাহ চলছে। নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। কিন্তু শ্রমজীবী মানুষকে বাঁচানোর জন্য সরকার কিছুই করেনি।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন,  শহীদ জিয়া খাল খনন, নদী খনন, বৃক্ষরোপণ, সেচ ব্যবস্থাসহ যেসব কল্যাণমূলক কাজ করেছিল সেগুলো সরকার বন্ধ করে দিয়েছে। দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁওয়ে মানুষ সেচের জন্য পানি পাচ্ছে না। সব কিছুর জন্য ডামি সরকারই দায়ী।

কর্মসূচিতে বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক বলেন, শহীদ জিয়ার খাল খনন, বৃক্ষরোপণসহ কল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলো যদি বাস্তবায়ন হতো তাহলে আজকের পরিস্থিতি হতো না। আজকে বাংলাদেশের মানুষ যে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে সেদিকে আওয়ামী সরকারের কোনো খেয়াল নেই। কারণ তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। তারা বিদেশি প্রভুদের দয়ায় ক্ষমতায় রয়েছে।

বিএনপি নেতা বরকত আলীর সভাপতিত্বে এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক, দলের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, সহসম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, মহানগর বিএনপির নেতা ভিপি শামসুল হক, আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, আতাউর রহমান চেয়ারম্যান, মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।

জনপ্রিয়

আরও একটি তেজস যুদ্ধবিমান হারাল ভারত

দেশ ছেড়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতারা -রিজভী

প্রকাশের সময় : ১০:০৯:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ মে ২০২৪

বিএনপি নয়, আওয়ামী লীগের নেতা ও তাদের স্বজনরা দেশ ছেড়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেছেন, বিএনপি নেতারা হতাশ বা ক্লান্ত নয়। বিএনপি নেতারা কেউ দেশ ছেড়ে যাচ্ছে না। দেশ ছেড়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতারা ও তাদের স্বজনরা।

বৃহস্পতিবার (২ মে) সারা দেশে চলমান তীব্র তাপদাহে বিপর্যস্ত নগরীর পথচারীদের মাঝে ঢাকা মহানগর উত্তরের বাড্ডা বিএনপির পক্ষ থেকে খাবার পানি, স্যালাইন বিতরণ কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের জবাবে রিজভী বলেন, ওবায়দুল কাদের সাহেবরা হতাশা থেকে শ্রাবণের বৃষ্টির ধারার মতো অনর্গল অসত্য তথ্য দিয়ে যাচ্ছেন। শত নিপীড়নেও বিএনপি নেতারা রাজপথে আছে এবং সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকবে। মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

বিএনপির সিনিয়র নেতা আরও বলেন, বেসিক ব্যাংকসহ নানা ব্যাংক লুট করে, হলমার্ক কেলেঙ্কারী করে, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, ফ্লাইওভার নির্মাণের নামে টাকা লুটপাট করে সে টাকা তারা বিদেশে পাচার করেছে। মালয়েশিয়া, কানাডা, অস্ট্রেলিয়ায় সেকেন্ড হোম তৈরি করে তাদের স্ত্রী-সন্তানদের, আত্মীয়-স্বজনদের সেখানে পাঠিয়ে দিচ্ছে।

বিএনপির এ নেতা বলেন, আমরা তো আছি জেলে আসা যাওয়ার মধ্যে। শত নিপীড়নেও রাজপথে কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছি। আমরা কোনো জুলুম নির্যাতনের কাছে মাথানত করব না।

রিজভী আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগ শ্রমিকদের কল্যাণে কিছুই করেনি। বরং শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য দাবিতে, বেতনের দাবিতে, বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করতে গেলে চারজন শ্রমিককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। শ্রমিক নেতা আমিনুল হককে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে। রানা প্লাজায় প্রায় হাজারো শ্রমিক হতাহত হলো। তাজরিন গার্মেন্টে ১০০ শ্রমিক প্রাণ হারাল, সেগুলো মানুষ ভুলে যায়নি।

দেশে ভয়াবহ দুর্বিষহ অবস্থা চলছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, আজ এক একমাসের মতো দেশে খরা চলছে, অগ্নি প্রবাহ চলছে। নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। কিন্তু শ্রমজীবী মানুষকে বাঁচানোর জন্য সরকার কিছুই করেনি।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন,  শহীদ জিয়া খাল খনন, নদী খনন, বৃক্ষরোপণ, সেচ ব্যবস্থাসহ যেসব কল্যাণমূলক কাজ করেছিল সেগুলো সরকার বন্ধ করে দিয়েছে। দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁওয়ে মানুষ সেচের জন্য পানি পাচ্ছে না। সব কিছুর জন্য ডামি সরকারই দায়ী।

কর্মসূচিতে বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক বলেন, শহীদ জিয়ার খাল খনন, বৃক্ষরোপণসহ কল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলো যদি বাস্তবায়ন হতো তাহলে আজকের পরিস্থিতি হতো না। আজকে বাংলাদেশের মানুষ যে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে সেদিকে আওয়ামী সরকারের কোনো খেয়াল নেই। কারণ তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। তারা বিদেশি প্রভুদের দয়ায় ক্ষমতায় রয়েছে।

বিএনপি নেতা বরকত আলীর সভাপতিত্বে এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক, দলের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, সহসম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, মহানগর বিএনপির নেতা ভিপি শামসুল হক, আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, আতাউর রহমান চেয়ারম্যান, মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।