বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে সেই টিকটকার তরুণীর ধর্ষণ মামলা

ছবি সংগৃহীত

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ইকবাল হাসান বিজয়সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ভ্রুণ হত্যা মামলা দায়ের করেছে এক টিকটকার তরুণী (২৩)।

ভুক্তভোগী তরুণী বাদী হয়ে মঙ্গলবার (৭ মে) ফেনীর আদালতে এ মামলাটি দায়ের করেছেন।

মামলার আসামিরা হলেন— সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মনোহর আলী, মিয়াবাড়ীর আবদুল্লাহ আল মামুন ওরফে বাবুলের ছেলে ইকবাল হাসান বিজয় (২৭), একই ইউনিয়নের হোসেন আহম্মদের ছেলে সুমন মিয়া (৪৫), রুহুল আমিনের ছেলে আনোয়ার হোসেন রনি (২২), আহম্মদ করিমের ছেলে মাহমুদুল করিম তুহিন (২১) ও মো. লিটনের ছেলে মাহাদি (২২)।

মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ফেনী মডেল থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে চরচান্দিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ইকবাল হাসান বিজয় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রাজধানীতে বসবাসকারী এক টিকটকার তরুণীকে ধর্ষণ করে। পরে বিয়ে না করায় ওই তরুণী অপর এক তরুণীকে সঙ্গে নিয়ে ২৮ এপ্রিল ছাত্রলীগ নেতা বিজয়ের গ্রামের বাড়ি সোনাগাজী উপজেলায় চলে আসেন। ওই দিন তিনি চরচান্দিয়া ইউপিতে এসে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে ছাত্রলীগ নেতা বিজয় কর্তৃক ধর্ষণের পর গর্ভবতী হয়েছেন জানিয়ে সহযোগিতা চান। চেয়ারম্যান গ্রাম পুলিশের সহযোগিতায় ওই তরুণীকে ছাত্রলীগ নেতার বাড়িতে পাঠান। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ছাত্রলীগ নেতা ওই তরুণী ও তার সঙ্গী নিয়ে বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যান।

ওই দিন মধ্যরাতে ছাত্রলীগ নেতা বিজয় তরুণী ও তার বোনকে ফেনী শহরের মহিপাল এলাকায় জিম্মি করে মারধর করে। এসময় ওই তরুণীর মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে সিম ভেঙে ফেলে। পরে ওই তরুণীকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয় বিজয়।

ঘটনাটি গণমাধ্যমে জানাজানি হওয়ার পর ছাত্রলীগ নেতা বিজয়কে শোকজ করে সোনাগাজী উপজেলা ছাত্রলীগ।

বাদী পক্ষের আইনজীবী সালাউদ্দিন পলাশ মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মাননীয় আদালত মামলটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে ফেনী মডেল থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত মামলার কোনো কপি আদালত থেকে থানায় আসেনি।

তবে সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুদ্বীপ রায় পলাশ জানান, মঙ্গলবার রাতে ফেনী শহরের পুলিশ কোয়ার্টার এলাকা থেকে ইকবাল হাসান বিজয়কে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার তাকে আদালতের নিকট সোপর্দ করা হবে।

জনপ্রিয়

প্রশাসনে কোন দলের লোক থাকবে না উপদেষ্টা রিজওয়ান হাসান

ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে সেই টিকটকার তরুণীর ধর্ষণ মামলা

প্রকাশের সময় : ১১:৫০:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ মে ২০২৪

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ইকবাল হাসান বিজয়সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ভ্রুণ হত্যা মামলা দায়ের করেছে এক টিকটকার তরুণী (২৩)।

ভুক্তভোগী তরুণী বাদী হয়ে মঙ্গলবার (৭ মে) ফেনীর আদালতে এ মামলাটি দায়ের করেছেন।

মামলার আসামিরা হলেন— সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মনোহর আলী, মিয়াবাড়ীর আবদুল্লাহ আল মামুন ওরফে বাবুলের ছেলে ইকবাল হাসান বিজয় (২৭), একই ইউনিয়নের হোসেন আহম্মদের ছেলে সুমন মিয়া (৪৫), রুহুল আমিনের ছেলে আনোয়ার হোসেন রনি (২২), আহম্মদ করিমের ছেলে মাহমুদুল করিম তুহিন (২১) ও মো. লিটনের ছেলে মাহাদি (২২)।

মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ফেনী মডেল থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে চরচান্দিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ইকবাল হাসান বিজয় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রাজধানীতে বসবাসকারী এক টিকটকার তরুণীকে ধর্ষণ করে। পরে বিয়ে না করায় ওই তরুণী অপর এক তরুণীকে সঙ্গে নিয়ে ২৮ এপ্রিল ছাত্রলীগ নেতা বিজয়ের গ্রামের বাড়ি সোনাগাজী উপজেলায় চলে আসেন। ওই দিন তিনি চরচান্দিয়া ইউপিতে এসে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে ছাত্রলীগ নেতা বিজয় কর্তৃক ধর্ষণের পর গর্ভবতী হয়েছেন জানিয়ে সহযোগিতা চান। চেয়ারম্যান গ্রাম পুলিশের সহযোগিতায় ওই তরুণীকে ছাত্রলীগ নেতার বাড়িতে পাঠান। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ছাত্রলীগ নেতা ওই তরুণী ও তার সঙ্গী নিয়ে বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যান।

ওই দিন মধ্যরাতে ছাত্রলীগ নেতা বিজয় তরুণী ও তার বোনকে ফেনী শহরের মহিপাল এলাকায় জিম্মি করে মারধর করে। এসময় ওই তরুণীর মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে সিম ভেঙে ফেলে। পরে ওই তরুণীকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয় বিজয়।

ঘটনাটি গণমাধ্যমে জানাজানি হওয়ার পর ছাত্রলীগ নেতা বিজয়কে শোকজ করে সোনাগাজী উপজেলা ছাত্রলীগ।

বাদী পক্ষের আইনজীবী সালাউদ্দিন পলাশ মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মাননীয় আদালত মামলটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে ফেনী মডেল থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত মামলার কোনো কপি আদালত থেকে থানায় আসেনি।

তবে সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুদ্বীপ রায় পলাশ জানান, মঙ্গলবার রাতে ফেনী শহরের পুলিশ কোয়ার্টার এলাকা থেকে ইকবাল হাসান বিজয়কে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার তাকে আদালতের নিকট সোপর্দ করা হবে।