মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগ নেতাদের জনপ্রতিনিধি হতে ভোট লাগে না-রিজভী

মানুষের বেঁচে থাকার কোনো অবলম্বনই শেখ হাসিনা সরকার রাখেনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, জীবনের ওপর নাম পানি, যারা এই পানি কেড়ে নেয়। তারা তো ইয়াজিদের মতো। ইয়াজিদ যেমন ইমাম বাহিনীর পানি কেড়ে নিয়েছিল ফোরাত নদী অবরোধ করে। সেজন্য আওয়ামী লীগকে ইয়াজিদের সঙ্গে তুলনা করা যায়। ইমাম বাহিনীর অনেক শিশু পানির তৃষ্ণায় কাতরাতে কাতরাতে মারা গেছে, শেখ হাসিনা তো সেটাই করছেন জনগণের সঙ্গে। 

শুক্রবার (৩১ মে) দুপুরে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বার বার পানি-বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য  বৃদ্ধি ও বগুড়ায় তারেক রহমানের উদ্বোধনকৃত ‘ম্যুরাল’ ভাঙার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার আন্দোলন।

ওয়াসার এমডির সমালোচনা করে রিজভী বলেন, তিনি তো খুব শক্তিশালী, বিদেশ থেকে অফিস পরিচালনা করেন। অনেক দুর্নীতি অভিযোগ থাকার পর তার চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি হয়, এতেই বোঝা যায় সরকার প্রধান কেনো এই ধরনের লোকদের নিয়োগ করে। এরা সরকারের পরপার্স সার্ভ করে। সরকারের যে অশুভ উদ্দেশ্য সেগুলো তারা পালন করে। এ কারণে তারা পানির দাম বৃদ্ধি করেছে।

তিনি বলেন, পানি, ডিজেল, গ্যাস, অকটেল পেট্রোলের দাম বৃদ্ধি করেছে। জনগণ যাতে কষ্ট পায় সেজন্য জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করলেন শেখ হাসিনা। জনগণ হচ্ছে সরকারের কাছে পাইলট প্রজেক্ট। তারা মনে করছে, জনগণের রক্ত শোষন করে করে এই প্রজেক্ট টা এমন করবো যাতে বিশ্বের সব স্বৈরাচারদের কাছে দৃষ্টান্ত হয় এই সরকার।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, আপনার তো কষ্ট হয় না। কারণ আপনি বাড়ি গেলে সামনে পুলিশের হুইসেল বাজে। আর সাধারণ যারা যাত্রী বছরের আনন্দ করতে ঈদ পালন করতে যায় কষ্ট করে সে খবর কি রাখেন আপনি। আপনার কথায় জনগণের সাথে ব্যঙ্গ করছেন।

বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর নিপীড়ন নির্যাতন চালিয়ে পুরস্কার হিসেবে বেনজীরকে এসপি থেকে পুলিশ কমিশনার, পুলিশ কমিশনার থেকে আইজিপি হয়েছেন এমন মন্তব্য করে রিজভী বলেন, সরকার দমন নিপীড়ন জন্য তাদেরকে পুরস্কৃত করেছে। তারা এদের অপকর্ম দেখেও না দেখার ভান করছে। কারণ সরকার প্রধান তো অবৈধ। তিনি অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকার জন্য তার হয়ে এই বেনজীর, আজিজরা নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করছে।

এই সরকারকে সিন্ডিকেট বান্ধব, মাফিয়া বান্ধব বলে অভিভূত করে রিজভী বলেন, প্রত্যেকটি অপকর্মের দায় দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। একদিন জনগণের আদালতে এদের প্রত্যেকের বিচার হবে। জনগণ বিচারক হয়ে এদের অপকর্মের বিচার করবে।

পানির ১০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, সভ্য মানুষ আওয়ামী লীগ করে না। আওয়ামী লীগের নেতাদের জনপ্রতিনিধি হতে ভোট লাগে না। শেখ হাসিনা যাকে চাইবেন তিনি নির্বাচিত হন। সোনা চোরাচালানকারীরা, মাদক সম্রাটরা এমপি হয় কি করে! এটাই সরকারের বহিঃপ্রকাশ।

এ সময় রিজভী বগুড়ায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্বোধন ম্যুরাল ভেঙে ফেলার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন।

এতে বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহ দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন, নিবার্হী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, শাহ মোহাম্মদ নেছারুল হক, আমিনুল ইসলাম, ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, যুব জাগপার সভাপতি মীর আমির হোসেন আমু প্রমুখ।

জনপ্রিয়

মামলাবাজির মাধ্যমে হয়রানি বন্ধ করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ নেতাদের জনপ্রতিনিধি হতে ভোট লাগে না-রিজভী

প্রকাশের সময় : ০৯:৫০:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪

মানুষের বেঁচে থাকার কোনো অবলম্বনই শেখ হাসিনা সরকার রাখেনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, জীবনের ওপর নাম পানি, যারা এই পানি কেড়ে নেয়। তারা তো ইয়াজিদের মতো। ইয়াজিদ যেমন ইমাম বাহিনীর পানি কেড়ে নিয়েছিল ফোরাত নদী অবরোধ করে। সেজন্য আওয়ামী লীগকে ইয়াজিদের সঙ্গে তুলনা করা যায়। ইমাম বাহিনীর অনেক শিশু পানির তৃষ্ণায় কাতরাতে কাতরাতে মারা গেছে, শেখ হাসিনা তো সেটাই করছেন জনগণের সঙ্গে। 

শুক্রবার (৩১ মে) দুপুরে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বার বার পানি-বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য  বৃদ্ধি ও বগুড়ায় তারেক রহমানের উদ্বোধনকৃত ‘ম্যুরাল’ ভাঙার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার আন্দোলন।

ওয়াসার এমডির সমালোচনা করে রিজভী বলেন, তিনি তো খুব শক্তিশালী, বিদেশ থেকে অফিস পরিচালনা করেন। অনেক দুর্নীতি অভিযোগ থাকার পর তার চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি হয়, এতেই বোঝা যায় সরকার প্রধান কেনো এই ধরনের লোকদের নিয়োগ করে। এরা সরকারের পরপার্স সার্ভ করে। সরকারের যে অশুভ উদ্দেশ্য সেগুলো তারা পালন করে। এ কারণে তারা পানির দাম বৃদ্ধি করেছে।

তিনি বলেন, পানি, ডিজেল, গ্যাস, অকটেল পেট্রোলের দাম বৃদ্ধি করেছে। জনগণ যাতে কষ্ট পায় সেজন্য জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করলেন শেখ হাসিনা। জনগণ হচ্ছে সরকারের কাছে পাইলট প্রজেক্ট। তারা মনে করছে, জনগণের রক্ত শোষন করে করে এই প্রজেক্ট টা এমন করবো যাতে বিশ্বের সব স্বৈরাচারদের কাছে দৃষ্টান্ত হয় এই সরকার।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, আপনার তো কষ্ট হয় না। কারণ আপনি বাড়ি গেলে সামনে পুলিশের হুইসেল বাজে। আর সাধারণ যারা যাত্রী বছরের আনন্দ করতে ঈদ পালন করতে যায় কষ্ট করে সে খবর কি রাখেন আপনি। আপনার কথায় জনগণের সাথে ব্যঙ্গ করছেন।

বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর নিপীড়ন নির্যাতন চালিয়ে পুরস্কার হিসেবে বেনজীরকে এসপি থেকে পুলিশ কমিশনার, পুলিশ কমিশনার থেকে আইজিপি হয়েছেন এমন মন্তব্য করে রিজভী বলেন, সরকার দমন নিপীড়ন জন্য তাদেরকে পুরস্কৃত করেছে। তারা এদের অপকর্ম দেখেও না দেখার ভান করছে। কারণ সরকার প্রধান তো অবৈধ। তিনি অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকার জন্য তার হয়ে এই বেনজীর, আজিজরা নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করছে।

এই সরকারকে সিন্ডিকেট বান্ধব, মাফিয়া বান্ধব বলে অভিভূত করে রিজভী বলেন, প্রত্যেকটি অপকর্মের দায় দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। একদিন জনগণের আদালতে এদের প্রত্যেকের বিচার হবে। জনগণ বিচারক হয়ে এদের অপকর্মের বিচার করবে।

পানির ১০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, সভ্য মানুষ আওয়ামী লীগ করে না। আওয়ামী লীগের নেতাদের জনপ্রতিনিধি হতে ভোট লাগে না। শেখ হাসিনা যাকে চাইবেন তিনি নির্বাচিত হন। সোনা চোরাচালানকারীরা, মাদক সম্রাটরা এমপি হয় কি করে! এটাই সরকারের বহিঃপ্রকাশ।

এ সময় রিজভী বগুড়ায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্বোধন ম্যুরাল ভেঙে ফেলার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন।

এতে বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহ দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন, নিবার্হী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, শাহ মোহাম্মদ নেছারুল হক, আমিনুল ইসলাম, ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, যুব জাগপার সভাপতি মীর আমির হোসেন আমু প্রমুখ।