সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যশোরে পুলিশ হেফাজতে নারীর মৃত্যু

মৃত আফরোজা বেগম

যশোরের অভয়নগর থানা পুলিশ হেফাজতে আফরোজা বেগম (৪০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। আজ রবিবার (০২ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অভয়নগর থেকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে আনার পথে তার মৃত্যু হয়।

স্বজনদের দাবি, মিথ্যা অভিযোগে আটকের পর নির্যাতন করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশের দাবি মাদকসহ আটক নারী হৃদরোগে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। পুলিশ তাকে চিকিৎসা সেবা দিয়েছিল এবং তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোরে পাঠানো হয়েছিল বলে জানান অভয়নগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম।

মৃত আফরোজা বেগম যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া মহাশ্মশান নর্থ বেঙ্গল রোডের জলিল মোল্লার স্ত্রী।

মৃত আফরোজার ছেলে মুন্না মোল্লা বলেন, স্থানীয় একটি কুচক্রী মহলের ইন্ধনে অভয়নগর থানার এএসআই সিলন আলি,এএস আই শামসুল হক,শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে তাদের বাড়িতে যায়। এরপর নিজেদের কাছে থাকা ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে তার মাকে আটক দেখায়। এসময় ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ আরো কয়েকজন পুলিশ সদস্য তার মাকে ফ্যানের সঙ্গে চুল বেঁধে ঝুলিয়ে মারপিট করে। পরে রাত ১ টার দিকে তার মাকে থানায় নিয়ে যায়। সকালে থানায় গিয়ে দেখতে পায় তার মা খুব অসুস্থ। পুলিশকে অনুরোধ করে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা কয়েকটি টেস্ট দিলেও পুলিশ সদস্যরা সেগুলো করতে না দিয়ে ফের থানায় নিয়ে যায়।এরপর আবারও অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসার সময় যশোর আসার পথেই তার মায়ের মৃত্যু হয়।

মুন্না মোল্লার অভিযোগ করে আরো বলেন,পুলিশ তাদের ঘরে থাকা ইজিবাইক বিক্রির ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে এসেছে। আরো দুই লাখ টাকা ঘুষের দাবিতে নির্যাতন করে তার মাকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার আব্দুস সামাদ জানান, ওই নারীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। ময়নাতদন্ত ছাড়া তার মৃত্যুর কারণ বলা সম্ভব নয়।

জানা গেছে , ওই নারীকে আটক এবং অন্যান্য স্থানে অভিযানের সময় ডিউটিতে এসআই সাইফুল ইসলাম,এএসআই সিলন আলী,এএসআই শামসুল হক,নারী কনস্টেবল রাবেয়া খানম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া রাতে আটক নারী আফরোজা থানা হেফাজতে থাকাকালে ডিউটিতে নিয়োজিত ছিলেন নারী কনস্টেবল ময়না খাতুন এবং আজ রবিবার সকালে সেন্ট্রি ডিউটিতে ছিলেন নারী কনস্টেবল সীমা আক্তার,ও যশোর হাসপাতালে চিকিৎসার দেওয়ার পথে ডিউটিতে ছিলাম নারী কনস্টেবল ফারজানা আক্তার ও রওশন আরা।

আফরোজা বেগমকে পুলিশ ৩০ পিস ইয়াবাসহ আটক করেন। পরে তার বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ২০১৮ সালের ৩৬(১) ১০ (ক) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। যার মামলা নং৫। আফরোজা বেগম ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা করার অভিযোগ রয়েছে বলে এলাকার কয়েকটি সূত্র থেকে জানা যায়।

জনপ্রিয়

গোগার গোপালপুরে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া

যশোরে পুলিশ হেফাজতে নারীর মৃত্যু

প্রকাশের সময় : ০৪:২৩:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ জুন ২০২৪

যশোরের অভয়নগর থানা পুলিশ হেফাজতে আফরোজা বেগম (৪০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। আজ রবিবার (০২ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অভয়নগর থেকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে আনার পথে তার মৃত্যু হয়।

স্বজনদের দাবি, মিথ্যা অভিযোগে আটকের পর নির্যাতন করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশের দাবি মাদকসহ আটক নারী হৃদরোগে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। পুলিশ তাকে চিকিৎসা সেবা দিয়েছিল এবং তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোরে পাঠানো হয়েছিল বলে জানান অভয়নগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম।

মৃত আফরোজা বেগম যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া মহাশ্মশান নর্থ বেঙ্গল রোডের জলিল মোল্লার স্ত্রী।

মৃত আফরোজার ছেলে মুন্না মোল্লা বলেন, স্থানীয় একটি কুচক্রী মহলের ইন্ধনে অভয়নগর থানার এএসআই সিলন আলি,এএস আই শামসুল হক,শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে তাদের বাড়িতে যায়। এরপর নিজেদের কাছে থাকা ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে তার মাকে আটক দেখায়। এসময় ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ আরো কয়েকজন পুলিশ সদস্য তার মাকে ফ্যানের সঙ্গে চুল বেঁধে ঝুলিয়ে মারপিট করে। পরে রাত ১ টার দিকে তার মাকে থানায় নিয়ে যায়। সকালে থানায় গিয়ে দেখতে পায় তার মা খুব অসুস্থ। পুলিশকে অনুরোধ করে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা কয়েকটি টেস্ট দিলেও পুলিশ সদস্যরা সেগুলো করতে না দিয়ে ফের থানায় নিয়ে যায়।এরপর আবারও অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসার সময় যশোর আসার পথেই তার মায়ের মৃত্যু হয়।

মুন্না মোল্লার অভিযোগ করে আরো বলেন,পুলিশ তাদের ঘরে থাকা ইজিবাইক বিক্রির ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে এসেছে। আরো দুই লাখ টাকা ঘুষের দাবিতে নির্যাতন করে তার মাকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার আব্দুস সামাদ জানান, ওই নারীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। ময়নাতদন্ত ছাড়া তার মৃত্যুর কারণ বলা সম্ভব নয়।

জানা গেছে , ওই নারীকে আটক এবং অন্যান্য স্থানে অভিযানের সময় ডিউটিতে এসআই সাইফুল ইসলাম,এএসআই সিলন আলী,এএসআই শামসুল হক,নারী কনস্টেবল রাবেয়া খানম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া রাতে আটক নারী আফরোজা থানা হেফাজতে থাকাকালে ডিউটিতে নিয়োজিত ছিলেন নারী কনস্টেবল ময়না খাতুন এবং আজ রবিবার সকালে সেন্ট্রি ডিউটিতে ছিলেন নারী কনস্টেবল সীমা আক্তার,ও যশোর হাসপাতালে চিকিৎসার দেওয়ার পথে ডিউটিতে ছিলাম নারী কনস্টেবল ফারজানা আক্তার ও রওশন আরা।

আফরোজা বেগমকে পুলিশ ৩০ পিস ইয়াবাসহ আটক করেন। পরে তার বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ২০১৮ সালের ৩৬(১) ১০ (ক) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। যার মামলা নং৫। আফরোজা বেগম ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা করার অভিযোগ রয়েছে বলে এলাকার কয়েকটি সূত্র থেকে জানা যায়।