
ষষ্ঠ উপজেলা নির্বাচনের চতুর্থ ও শেষ ধাপে যশোর সদর উপজেলা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৫ জুন) সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে ভোট গ্রহন চলে বিরতিহীন ভাবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। ভোট গ্রহন শেষে বেসরকারি ফলাফলে যশোর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ৫৭ হাজার ৯১৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী তৌহিদ চাকলাদার ফন্টু। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঘোড়া প্রতীকের ফতেমা আনোয়ার পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬১০ ভোট।
সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন টিউবওয়েল প্রতীকের সুলতান মাহমুদ বিপুল। তিনি পেয়েছেন ৮৩ হাজার ২১৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বৈদ্যুতিক বাল্ব প্রতীকের শেখ জাহিদুর রহমান পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৬৭৫ ভোট।
উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫৯২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন ফুটবল প্রতীকের বাশিনুর রহমান ঝুমুর। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কলস প্রতীকের জ্যোৎস্না আরা বেগম পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৯৩৭ ভোট। ভোটগ্রহণ শেষে বুধবার রাতে এ বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন যশোর জেলা অতিরিক্ত নির্বাচন কর্মকর্তা ও এ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ।
যশোর সদর উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোট ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। উপজেলার মোট ২১৯টি ভোট কেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে এ ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। সদর উপজেলায় একটি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ৬ লাখ ৭ হাজার ৭৪২ জন। এরমধ্যে পুরুষ ৩ লাখ ৪ হাজার ৭৩০, মহিলা ৩ লাখ ৩ হাজার ৫২ ও হিজড়া ভোটার ৭ জন।অর্থের বিনিময়ে প্রার্থীর পক্ষ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছিল ২ ভুয়া সাংবাদিক
যশোরে সদর উপজেলা নির্বাচনে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে দুইজন ভুয়া সাংবাদিককে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (৫ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে সদর উপজেলার হৈবতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র থেকে তাদেরকে আটক করা হয়।
আটকরা হলেন- ঝিনাইদহ হামদহ এলাকার মৃত মকবুল হোসেনের মেয়ে শারমিন আরা এবং যশোর সদর উপজেলার কিসমত নওয়াপাড়া এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে শামসুর রহমান নিরব।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, নির্বাচন কমিশনের সুষ্ঠু নির্বাচনে পুলিশ ভুমিকা প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং সাধারণ ভোটারদের মাঝে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের উদ্দেশ্যে সদর উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়া চেয়ারম্যান প্রার্থী আনোয়ার হোসেন বিপুলের পক্ষে এই দুই জন অর্থের বিনিময়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ করে প্রচার শুরু করে। এদের কাছে যশোরে সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাচন কমিশনের কোন অনুমতি পত্র ছিল না। তারা একটি গাড়িযোগে সদর উপজেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে ঘুরে ফেসবুকে লাইভ করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছিল।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, স্থানীয় সাংবাদিকেরাও ঝিনাইদহে এই সাংবাদিক পরিচয়দানকারী শারমিন আরার সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছে, সে অর্থের বিনিময়ে এ ধরণের কর্মকান্ড করে থাকে। এবং তার সহোযোগি নিরব এর আগে প্রতারণাসহ একাধিক অপরাধে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল। এই দুজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
শহীদ জয়, যশোর অফিস।। 







































