বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঈদযাত্রায় মানুষের কাছে রেল এখন সর্বোচ্চতম অবলম্বন: রেলমন্ত্রী

যেখানে রেল বন্ধ করে দেওয়ার মত অবস্থা হয়েছিল। সেখানে এখন ঈদযাত্রায় মানুষের কাছে সর্বোচ্চতম অবলম্বন হল রেল। গত দুই ঈদে যার রেলে যেতে চেয়েছে তারা সহজে বাড়ি পৌঁছাতে পেরেছে। রাজবাড়ীতে রবিবার (২৩জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় দিকে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে  আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন রেলপথ মন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম।
রেলপথমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম বলেন, রাজবাড়ী রেলের শহর ছিল। সেই রেলের শহরের বিলপ্তি ঘটেছিল। রেলের শহর হিসেবে আর রাজবাড়ীর নাম ছিল না। এটা বিএনপির আমলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। বিভিন্ন জায়গা থেকে রেল লাইন উপড়ে ফেলা হয়েছিল। রেল লাইন খুলে বিক্রি করে ফেলা হয়েছিল।  রেলের শহর হিসেবে  রাজবাড়ী বাসীর জন্য একটা আলাদা ট্রেন দেওয়া হয়েছে। এটি ফরিদপুর-ভাঙ্গা হয়ে ঢাকা যাতায়াত করছে। রাজবাড়ীতে দেশের সর্ববৃহত কারখানা হচ্ছে। কারখানা হলে এখানে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এছাড়া রাজবাড়ীকে রেলের একটি ডিভিশন করার চেষ্টা চলছে। আমরা যখন কলেজে পরতাম তখন রাজবাড়ীতে একটা সুন্দর স্টেশন ছিল। এখন দেখলে খারাপ লাগে। এখানে একটা সুন্দর স্টেশন তৈরি করা হবে। ইতমধ্যে টেন্ডার হয়ে গেছে। ঢাকা থেকে এখন রাজবাড়ীতে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টায় আসা যায়। রাজবাড়ী আবার ট্রেনের প্রাণ ফিরে পাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর আমাদের সবচেয়ে বড় সফলতা এদেশের মানুষকে স্বাধীনতা এনে দেওয়া। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সারা দিয়ে এদেশটাকে স্বাধীন করা হয়েছিল। এটা হলো আওয়ামী লীগের সবচাইতে বড় অর্জন। মো. জিল্লুল হাকিম বলেন, দেশটা স্বাধীন করার পর দেশি ও বিদেশিরা চক্রান্ত করে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলো। আমদেরকে পিছিয়ে দেওয়া হলো। আর স্বাধীনতার ঘোষনা নিয়ে চক্রান্ত করা হল। কিন্তু চক্রান্ত বেশিদিন থাকে না। বেশিদিন টিকতে পারে না। মিথ্যাচার বেশিদিন টিকতে পারেনা। যখনই জাতিসংঘ থেকে আমাদের বঙ্গবন্ধুর ভাষনকে একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষন হিসেবে ঘোষনা দেওয়া হলো। তারপর সমরকম ষড়যন্ত্র থেমে গেল। স্বাধীনতার ঘোষনা নিয়ে আর কারও কোন কথা নেই। বঙ্গবন্ধু একমাত্র নেতা যার পক্ষে সম্ভব ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষনা দেওয়া । বাংলাদেশের মানুষকে স্বাধীনতার স্বপক্ষে যুদ্ধে নামানো। এবং যুদ্ধে জয়লাভ করার মতো। আজ বঙ্গবন্ধু আমাদের মধ্যে নেই। কিন্তু আমাদের  মধ্যে আছে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কণ্যা শেখ হাসিনা। যার নেতৃত্বে আজ আমাদের দেশটা এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা পদ্মাসেতুর মত একটা সেতু বানাতে পারছি। মেট্রোরেলের মত জনগণের উপকারি একটা বাহন তৈরি করতে পারছি।
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলেই আজ এত উন্নতি হচ্ছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটা দূর্বার শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তুলতে হবে। এজন্য আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমাদের এমন একটা আওয়ামী লীগ সংগঠন গড়ে তুলতে হবে । যেখানে কোন বিভেদ থাকবে না। কোন ভেদাভেদ থাকবে না। এমন একটা আওয়ামী লীগ দল গঠন করবো যেখানে বিএনপি কেন কোনদলই আওয়ামী লীগের বিপক্ষে কোন প্রকার ষড়যন্ত্র করার দুঃসাহস না পায়। সকলকে সব বিভেদ ভুলে সংগঠনকে শক্তিশালী করার লক্ষে কাজ করার আহবান জানান তিনি।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি  রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ইরাদত আলী। এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফকীর আব্দুল জব্বার, বর্তমান চেয়ারম্যান শফিকুল মোরশেদ আরুজ, সাবেক পৌর মেয়র মোহাম্মদ আলী চৌধুরীসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা যুবলীগ, ছাত্র লীগসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি আওয়ামী লীগের কার্যালয় হতে বের হয়ে শহরের পান্না চত্ত¡র ঘুরে এসে একই স্থানে এসে শেষ হয়।
জনপ্রিয়

টাকা দিয়ে ভোট কেনা জামায়াতের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ও আচরণবিধির লঙ্ঘন: মাহদী আমিন

ঈদযাত্রায় মানুষের কাছে রেল এখন সর্বোচ্চতম অবলম্বন: রেলমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৪:২৯:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪
যেখানে রেল বন্ধ করে দেওয়ার মত অবস্থা হয়েছিল। সেখানে এখন ঈদযাত্রায় মানুষের কাছে সর্বোচ্চতম অবলম্বন হল রেল। গত দুই ঈদে যার রেলে যেতে চেয়েছে তারা সহজে বাড়ি পৌঁছাতে পেরেছে। রাজবাড়ীতে রবিবার (২৩জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় দিকে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে  আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন রেলপথ মন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম।
রেলপথমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম বলেন, রাজবাড়ী রেলের শহর ছিল। সেই রেলের শহরের বিলপ্তি ঘটেছিল। রেলের শহর হিসেবে আর রাজবাড়ীর নাম ছিল না। এটা বিএনপির আমলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। বিভিন্ন জায়গা থেকে রেল লাইন উপড়ে ফেলা হয়েছিল। রেল লাইন খুলে বিক্রি করে ফেলা হয়েছিল।  রেলের শহর হিসেবে  রাজবাড়ী বাসীর জন্য একটা আলাদা ট্রেন দেওয়া হয়েছে। এটি ফরিদপুর-ভাঙ্গা হয়ে ঢাকা যাতায়াত করছে। রাজবাড়ীতে দেশের সর্ববৃহত কারখানা হচ্ছে। কারখানা হলে এখানে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এছাড়া রাজবাড়ীকে রেলের একটি ডিভিশন করার চেষ্টা চলছে। আমরা যখন কলেজে পরতাম তখন রাজবাড়ীতে একটা সুন্দর স্টেশন ছিল। এখন দেখলে খারাপ লাগে। এখানে একটা সুন্দর স্টেশন তৈরি করা হবে। ইতমধ্যে টেন্ডার হয়ে গেছে। ঢাকা থেকে এখন রাজবাড়ীতে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টায় আসা যায়। রাজবাড়ী আবার ট্রেনের প্রাণ ফিরে পাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর আমাদের সবচেয়ে বড় সফলতা এদেশের মানুষকে স্বাধীনতা এনে দেওয়া। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সারা দিয়ে এদেশটাকে স্বাধীন করা হয়েছিল। এটা হলো আওয়ামী লীগের সবচাইতে বড় অর্জন। মো. জিল্লুল হাকিম বলেন, দেশটা স্বাধীন করার পর দেশি ও বিদেশিরা চক্রান্ত করে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলো। আমদেরকে পিছিয়ে দেওয়া হলো। আর স্বাধীনতার ঘোষনা নিয়ে চক্রান্ত করা হল। কিন্তু চক্রান্ত বেশিদিন থাকে না। বেশিদিন টিকতে পারে না। মিথ্যাচার বেশিদিন টিকতে পারেনা। যখনই জাতিসংঘ থেকে আমাদের বঙ্গবন্ধুর ভাষনকে একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষন হিসেবে ঘোষনা দেওয়া হলো। তারপর সমরকম ষড়যন্ত্র থেমে গেল। স্বাধীনতার ঘোষনা নিয়ে আর কারও কোন কথা নেই। বঙ্গবন্ধু একমাত্র নেতা যার পক্ষে সম্ভব ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষনা দেওয়া । বাংলাদেশের মানুষকে স্বাধীনতার স্বপক্ষে যুদ্ধে নামানো। এবং যুদ্ধে জয়লাভ করার মতো। আজ বঙ্গবন্ধু আমাদের মধ্যে নেই। কিন্তু আমাদের  মধ্যে আছে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কণ্যা শেখ হাসিনা। যার নেতৃত্বে আজ আমাদের দেশটা এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা পদ্মাসেতুর মত একটা সেতু বানাতে পারছি। মেট্রোরেলের মত জনগণের উপকারি একটা বাহন তৈরি করতে পারছি।
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলেই আজ এত উন্নতি হচ্ছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটা দূর্বার শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তুলতে হবে। এজন্য আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমাদের এমন একটা আওয়ামী লীগ সংগঠন গড়ে তুলতে হবে । যেখানে কোন বিভেদ থাকবে না। কোন ভেদাভেদ থাকবে না। এমন একটা আওয়ামী লীগ দল গঠন করবো যেখানে বিএনপি কেন কোনদলই আওয়ামী লীগের বিপক্ষে কোন প্রকার ষড়যন্ত্র করার দুঃসাহস না পায়। সকলকে সব বিভেদ ভুলে সংগঠনকে শক্তিশালী করার লক্ষে কাজ করার আহবান জানান তিনি।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি  রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ইরাদত আলী। এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফকীর আব্দুল জব্বার, বর্তমান চেয়ারম্যান শফিকুল মোরশেদ আরুজ, সাবেক পৌর মেয়র মোহাম্মদ আলী চৌধুরীসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা যুবলীগ, ছাত্র লীগসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি আওয়ামী লীগের কার্যালয় হতে বের হয়ে শহরের পান্না চত্ত¡র ঘুরে এসে একই স্থানে এসে শেষ হয়।