
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর এলাকায় পৈত্রিক সম্পত্তির ন্যায্য পাওনা আদায়ের জন্য আদালতে বাটোয়ারা মামলা করেও কোন সুরাহা পাননি দরিদ্র রবীন্দ্রনাথ কুন্ডু। উপরন্ত মামলার ঘাঁনি টানতে টানতে তিনি এখন বয়সের ভারে ন্যুব্জ ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পথে বসেছেন। অপরদিকে তার স্ত্রী মমতা রানী কুন্ডু সম্পত্তির শোকে তিন সন্তান রেখে ধুঁকে ধুঁকে মারা গেছেন। এদিকে আদালতে মামলার নথিরও কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছে না! ফলে অসহায় রবীন্দ্রনাথ কুন্ডু ও তার পরিবার তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
অভিযোগে জানাযায়,শাহজাদপুর পৌর এলাকাধীন কালাচাঁদপাড়া দোলভিটা মৌজায় রবীন্দ্রনাথ কুন্ডু’র ২৫ শতক পৈত্রিক সম্পত্তি রয়েছে। কিন্তু একই মহল্লার প্রশান্ত ও সজীব ঘোষ নামের দুই ব্যক্তি সেই সম্পত্তি জোরপুর্বক বেদখল করে সেখানে বাড়ী নির্মাণ করেছেন। আর এককোনায় রবীন্দ্রনাথ কুন্ডু একটি ঘর তুলে জীর্ণ শীর্ণভাবে তিন সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন। এদিকে প্রশান্ত ও সজীব ঘোষের কবল থেকে ওই পৈত্রিক সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য রবীন্দ্রনাথ কুন্ডু’র ছেলে প্রদীপ কুমার কুন্ডু,মেয়ে বিউটি রানী কুন্ডু ও চম্পা রানী কুন্ডু তাকে বাদী করে প্রথমে ২০১৯ সালে শাহজাদপুর সিনিয়র সহকারি জজ আদালতে ১৯৩৮/১৯ বাটোয়ারা মামলা দায়ের করেন। পরে সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারকের নির্দেশে মামলার আরজি সংশোধন করে ২০২০ সালে সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বাটোয়া মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু মামলার বাদী রবীন্দ্রনাথ কুন্ডু বয়োবৃদ্ধ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক তার নাম পরিবর্তন করে তার মেয়ে বিউটি রানী কুন্ডুকে বাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে মামলাটি গ্রহণ করেন এবং মামলাটি তিনি ২০২১ সালে শাহজাদপুর সিনিয়র সহকারি জজ আদালতে স্থানান্তর করেন। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয় ২০২১ সালের ৩১মে পুনরায় বাটোয়ারা মামলা করার আদেশ দিয়ে মামলাটি খারিজ করে দেন শাহজাদপুর আদালতের সিনিয়র সহকারী জজ সোহেল রানা। ফলে পৈত্রিক সম্পত্তির ন্যায্য পাওনা আদায়ের জন্য আদালতে বাটোয়ারা মামলা করেও আদালতের কাছে কোন সুরাহা পাননা রবীন্দ্রনাথ কুন্ডু ও তার পরিবার। উপরন্ত বাটোয়ারা মামলাটির নথি সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন মামলার বাদী রবীন্দ্রনাথ কুন্ডুর মেয়ে বিউটি রানী কুন্ডু ও বিউটি রানী কুন্ডুর ভাই প্রদীপ কুমার কুন্ডু বোন ও চম্পা রানী কুন্ডু। এদিকে তারা অভিযোগ করে আরো বলেন,মামলার ঘাঁনি ঘাঁনি টানতে টানতে তাদের বাবা রবীন্দ্রনাথ কুন্ডু বয়সের ভারে ন্যুব্জ ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আজ পথে বসেছেন এবং তাদের মা মমতা রানী কুন্ডু সম্পত্তির শোকে ধুঁকে ধুঁকে মারা গেছেন। অপরদিকে তাদের মা মমতা রানী কুন্ডুর মৃত্যুর পর তাদের তিন ভাই বোনকে স্বপ্নের মাধ্যমে তাদের বাবার দাদা আদেশ করেছেন তোমরা বিবাদমান সম্পত্তি উদ্ধার পুর্বক আমাকে জাগাও এবং আমাকে সম্পুর্ণরুপে স্বর্ণ দিয়ে স্থাপিত করো,এভাবে আমি আর কতো দিন পড়ে থাকবো। কিন্তু প্রশান্ত ও সজিব ঘোষ তাদের পৈত্রিক ২৫শতক সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করে ঘর নির্মাণ করায় তারা সেই সম্পত্তি উদ্ধার করাসহ তাদের বাবার দাদাকে জাগাতে ও তাকে সম্পুর্ণরুপে স্বর্ণ দিয়ে স্থাপিত করতে পারছেন না। এদিকে প্রদীপ কুমার কুন্ডু,বিউটি রানী কুন্ডু ও চম্পা রানী কুন্ডু’র দাবী আমরা বাবু বংশ হিসেবে বড়ই অসহায় হয়ে আছি,আমাদের বাবু বংশ দেবে আছে,দেবে থাকা এ বংশকে আমাদের জাগাতে হবে। কিন্তু মামলা চালাতে গিয়ে আজ আমরা নিঃস্ব হয়েছি। এতে আমাদের অসহায়ত্ত্বের বিষয়টি বিবেচনা করে আমার বাবার দাদাকে জাগাতে গোবিন্দ স্বপ্নের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আজ্ঞা দিয়েছেন। আর সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই এই বংশের একমাত্র বংশধর হিসেবে আমরা তিনজন বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে লিখিতভাবে অবহিত করেছি এবং এসংক্রান্ত বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেছি। কারণ এ সম্পত্তি আমাদের নয়,এ সম্পত্তি গোবিন্দর। কাজেই গোবিন্দর সেই সম্পত্তিতে আমার বাবার দাদাকে ভক্তি করতে ও শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে তাকে সম্পুর্ণরুপে স্বর্ন দিয়ে স্থাপিত করতে হবে ও স্বর্ন দিয়ে সেখানে প্রতিকী ঘাট তৈরি করতে হবে এবং স্বর্নের পানি দিয়ে হাত পা ধোঁয়াতে হবে। কেননা গোসল, পূজা অর্চনা ও পানি পান করাসহ সকল কাজে আমাদের বাবু বংশে স্বর্নের পানি ব্যবহার করতে হয়। কারণ স্বর্ন ছাড়া আমাদের বংশে কোন কাজ হয় না। কিন্তু আর্থিক অস্বচ্ছলতাসহ আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি দেখলে থাকার কারণে আমরা এ কাজগুলো বাস্তবায়ন করাসহ সেখানে বাবার দাদাকে স্বর্ণ দিয়ে সম্পুর্ণরুপে স্থাপিত করতে পারছি না। এমতাবস্থায় প্রশান্ত ও সজিব ঘোষের কবল থেকে আমাদের ২৫শতক পৈত্রিক সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করছি।’
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি 







































