
ইসরাইলি কারাগারে এক ফিলিস্তিনি বন্দিকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে নয় সেনাসদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার (২৯ জুলাই) ইসরাইলের নাকাব (নেগেভ) মরুভূমির কুখ্যাত সদে তেইমান বন্দিশিবির থেকে তাদের গ্রেফতার করে ইসরাইলি পুলিশ।
সদে তেইমান বন্দিশিবির গাজার ফিলিস্তিনিদের আটকে রাখার জন্য ব্যবহার করা হয় এবং প্রায়ই বিনা বিচারে আটকে রাখা হয়। এজন্য এ বন্দিশিবিরকে যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত গুয়ানতানামো বন্দিশিবিরের সাথে তুলনা করা হয়।
ইসরাইলি কারাগারগুলোতে যে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন ও নিপীড়ন করা হয, তার প্রমাণ হিসেবে অনেকেই এখন এই সদে তেইমান বন্দিশিবিরের দিকে ইঙ্গিত করছেন।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বহু রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, গত ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরাইলি কারাগারগুলোতে কমপক্ষে ১৩ জন বন্দি নির্যাতনের কারণে মারা গেছে। ইসরাইলি সংবাদপত্র হারেৎজের রিপোর্ট মতে, এই সংখ্যা ২৭-এ মতো।
তবে উগ্র ডানপন্থি ইসরাইলিরা, যাদের মধ্যে রাজনীতিক, আইনপ্রণেতা ও মন্ত্রীও রয়েছেন, ৯ সেনাসদস্যের গ্রেফতারে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদন মতে, সোমবার ইসরাইলের একদল মিলিটারি পুলিশ যখন অভিযুক্ত সেনাদের গ্রেফতার করতে সদে তেইমান বন্দিশিবিরে অভিযান চালায়, সে সময় সেখানে থাকা সেনাসদস্যরা তাদের বাধা দেয়।
গ্রেফতার ঠেকাতে বন্দিশিবিরের মধ্যে ব্যারিকেড দেয়। পুলিশকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় মরিচের স্প্রে। তবে সব বাধা উপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত ৯ সেনাকে হেফাজতে নিতে সক্ষম হয় পুলিশ।
গ্রেফতারের পরই সদে তেইমান বন্দিশিবিরের বাইরে জড়ো হয় উগ্র ডানপন্থি ইসরাইলিরা। এর মধ্যে ছিলেন ইসরাইলের হেরিটেজ বা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিষয়ক মন্ত্রী আমিচাই এলিয়াহুসহ পার্লামেন্টের অনেক আইনপ্রণেতা।
তারা সেখানে হামলা চালান। পরে বেইত লিদ ঘাঁটিতে জড়ো হন প্রায় ১ হাজার ২০০ জন। সেনাসদস্যদের গ্রেফতারের পর এই ঘাঁটিতে নেয়া হয়েছিল। এখানেই শেষ নয়, নয় সেনাকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে ইসরায়েলজুড়ে বিক্ষোভে ডাক দিয়েছেন উগ্র ডানপন্থিরা।
অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ অভিযুক্ত সেনাদের ‘বীর যোদ্ধা’ আখ্যা দিয়েছেন। আর ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য নির্ধারিত শিবিরগুলো দেখভালের দায়িত্বে থাকা ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন গভির এই গ্রেফতারের ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন।
তবে ফিলিস্তিনি বন্দিদের যৌন নির্যাতন শুধু সদে তেইমান বন্দিশিবিরেই নয়, আরও অনেক কারাগার ও বন্দিশিবিরেই ঘটছে যার রিপোর্ট প্রায়ই গণমাধ্যমে আসছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন মতে, ইসরাইল ও অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইসরাইলি কারাগারগুলো থেকে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জুলাইয়ের শুরুতে পশ্চিম তীরের ওফার কারাগার থেকে কয়েকজন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেয়া হয়। ওই ঘটনার পর গাজা থেকে আল জাজিরার হিন্দ খুদরি জানান, মুক্তি পাওয়া অন্তত আটজন বন্দি যৌন নির্যাতনের কথা বলেছেন এবং তাদের ওষুধ ও কাপড় থেকে বঞ্চিত হয়েছিল। কয়েকজন বন্দির শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
আরেকজন মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দি গাজার আল-শিফা হাসপাতালের পরিচালক মুহাম্মাদ আবু সালমিয়া। তিনি বলেছেন, কারাগারের জিজ্ঞাসাবাদকালে বেশ কয়েকজন বন্দি মারা গেছে। তাদের প্রচণ্ড মারধর করা হয়েছিল।
ঢাকা ব্যুরো।। 







































