রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জবি উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম, প্রক্টরিয়াল বডি ও হল প্রভোস্টকে আগামীকাল তিনটার মধ্যে পদত্যাগ করতে আল্টিমেটাম দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
রোববার (১১ আগস্ট) বেলা ২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে সমন্বয়কদের মতবিনিময় সভা শেষে এ দাবি উত্থাপন করেন। পরে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে বেলা আড়াইটায় বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান করেন।
এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সহ প্রশাসনে যত আওয়ামী দোসর রয়েছে তাদের পদত্যাগ করতে হবে। যদি তারা পদত্যাগ করতে না চাই, তাহলে কিভাবে পদত্যাগ করাতে হবে তা ছাত্রসমাজ জানে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রক্টরিয়াল বডি ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছে কিন্তু আমাদের ভিসি কেন এখনো পদত্যাগ করছে না তার পিছনে যদি কারো হাত থাকে ছাত্রসমাজ তাদের মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।
এ সময় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক স্বর্ণ আক্তার রিয়া বলেন, আমরা আগামীকাল বিকেল তিনটা পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিচ্ছি এর মধ্যে উপাচার্য ড. সাদেকা হালিম, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড আইনুল ইসলাম, হল প্রভোস্ট অধ্যাপক দীপিকা রানী, প্রক্টর অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন সহ পুরো প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ করতে হবে। যদি তারা আগামীকাল তিনটার মধ্যে পদত্যাগ না করে তাহলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাবো।
শিক্ষার্থীদের ১৩ দফা দাবিগুলো হলো:
১. বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রক্টর সহ সম্পূর্ণ প্রক্টরিয়াল বডি, হল প্রভোস্ট ও ছাত্রকল্যান দপ্তরের প্রধানক এবং রেজিস্ট্রারকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে।
২. ক্যম্পাসের ভিতরে লেজুড় ভিত্তিক ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। (ক্যাম্পাসের বাহিরে তার রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে। এটা যে কারো ব্যক্তি গত ব্যাপার। কিন্ত, ক্যাম্পাসের ভিতরে সবাই সাধারণ ছাত্র।)
৩. শহীদ ও আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার সার্বিক খরচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করতে হবে।
৪. আগে ছাত্রলীগের পদধারী ছিল এবং এর উপর ভিত্তি করে ক্যাম্পাসে চাকরি পেয়েছে তারা ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সহ যারা এখনো বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত, শহীদ ও আহত সহযোদ্ধাদের নিয়ে ঠাট্টা টিটকারি করেছে, তাদের আগামী ২ দিনের মধ্যে চাকরি থেকে অব্যহতি নিতে হবে৷
৫. আগামী সেপ্টেম্বর মাসের ২০ তারিখের মধ্যে জকসুর নীতিমালা প্রনয়ন করে একটি নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।
৬. দখল হলগুলো অবিলম্বে দখলমুক্ত করতে হবে। এবং মেধার ভিত্তিতে সিট বরাদ্দ দিতে হবে।
৭. দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণ কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। (সেক্ষেত্রে সেনাবাহিনীকে ক্যম্পাসের বাস্তবায়নের দায়িত্ব প্রদান করতে হবে।)
৮. শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষক রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। শিক্ষক নিয়োগে ক্যম্পাসের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। গবেষণায় বরাদ্দ বাড়াতে হবে ।
৯. ক্যাফেটেরিয়ার জন্য বাজেট বরাদ্দ রেখে খাবারের মান উন্নত করতে হবে। এবং অতি শীঘ্রই নতন ক্যাফেটেরিয়া নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
১০. নারী শিক্ষার্থীদের কমন রুমের মান উন্নত করতে হবে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে শক্ত আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।
১১. ক্যাম্পাসের আশেপাশে চাঁদাবাজি, রাজনীতির নামে টেন্ডারবাজি বন্ধের জন্য কার্যকর ব্যাবস্থা করতে হবে।
১২. পোষ্য কোটা বাতিল এবং রাজনৈতিক নিয়োগ-বাণিজ্য আজীবনের জন্য বন্ধ করতে হবে।
১৩. গুচ্ছ পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে সাতন্ত্র ভর্তি পরীক্ষা নিতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠানের রূপ দিতে হবে।
জনপ্রিয়

আমি পদত্যাগ করিনি

জবি উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম 

প্রকাশের সময় : ০৩:৩৭:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অগাস্ট ২০২৪
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম, প্রক্টরিয়াল বডি ও হল প্রভোস্টকে আগামীকাল তিনটার মধ্যে পদত্যাগ করতে আল্টিমেটাম দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
রোববার (১১ আগস্ট) বেলা ২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে সমন্বয়কদের মতবিনিময় সভা শেষে এ দাবি উত্থাপন করেন। পরে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে বেলা আড়াইটায় বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান করেন।
এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সহ প্রশাসনে যত আওয়ামী দোসর রয়েছে তাদের পদত্যাগ করতে হবে। যদি তারা পদত্যাগ করতে না চাই, তাহলে কিভাবে পদত্যাগ করাতে হবে তা ছাত্রসমাজ জানে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রক্টরিয়াল বডি ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছে কিন্তু আমাদের ভিসি কেন এখনো পদত্যাগ করছে না তার পিছনে যদি কারো হাত থাকে ছাত্রসমাজ তাদের মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।
এ সময় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক স্বর্ণ আক্তার রিয়া বলেন, আমরা আগামীকাল বিকেল তিনটা পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিচ্ছি এর মধ্যে উপাচার্য ড. সাদেকা হালিম, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড আইনুল ইসলাম, হল প্রভোস্ট অধ্যাপক দীপিকা রানী, প্রক্টর অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন সহ পুরো প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ করতে হবে। যদি তারা আগামীকাল তিনটার মধ্যে পদত্যাগ না করে তাহলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাবো।
শিক্ষার্থীদের ১৩ দফা দাবিগুলো হলো:
১. বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রক্টর সহ সম্পূর্ণ প্রক্টরিয়াল বডি, হল প্রভোস্ট ও ছাত্রকল্যান দপ্তরের প্রধানক এবং রেজিস্ট্রারকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে।
২. ক্যম্পাসের ভিতরে লেজুড় ভিত্তিক ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। (ক্যাম্পাসের বাহিরে তার রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে। এটা যে কারো ব্যক্তি গত ব্যাপার। কিন্ত, ক্যাম্পাসের ভিতরে সবাই সাধারণ ছাত্র।)
৩. শহীদ ও আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার সার্বিক খরচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করতে হবে।
৪. আগে ছাত্রলীগের পদধারী ছিল এবং এর উপর ভিত্তি করে ক্যাম্পাসে চাকরি পেয়েছে তারা ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সহ যারা এখনো বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত, শহীদ ও আহত সহযোদ্ধাদের নিয়ে ঠাট্টা টিটকারি করেছে, তাদের আগামী ২ দিনের মধ্যে চাকরি থেকে অব্যহতি নিতে হবে৷
৫. আগামী সেপ্টেম্বর মাসের ২০ তারিখের মধ্যে জকসুর নীতিমালা প্রনয়ন করে একটি নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।
৬. দখল হলগুলো অবিলম্বে দখলমুক্ত করতে হবে। এবং মেধার ভিত্তিতে সিট বরাদ্দ দিতে হবে।
৭. দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণ কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। (সেক্ষেত্রে সেনাবাহিনীকে ক্যম্পাসের বাস্তবায়নের দায়িত্ব প্রদান করতে হবে।)
৮. শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষক রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। শিক্ষক নিয়োগে ক্যম্পাসের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। গবেষণায় বরাদ্দ বাড়াতে হবে ।
৯. ক্যাফেটেরিয়ার জন্য বাজেট বরাদ্দ রেখে খাবারের মান উন্নত করতে হবে। এবং অতি শীঘ্রই নতন ক্যাফেটেরিয়া নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
১০. নারী শিক্ষার্থীদের কমন রুমের মান উন্নত করতে হবে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে শক্ত আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।
১১. ক্যাম্পাসের আশেপাশে চাঁদাবাজি, রাজনীতির নামে টেন্ডারবাজি বন্ধের জন্য কার্যকর ব্যাবস্থা করতে হবে।
১২. পোষ্য কোটা বাতিল এবং রাজনৈতিক নিয়োগ-বাণিজ্য আজীবনের জন্য বন্ধ করতে হবে।
১৩. গুচ্ছ পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে সাতন্ত্র ভর্তি পরীক্ষা নিতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠানের রূপ দিতে হবে।