রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হারিয়ে যাচ্ছে হাতে বুনা তাঁতশিল্প, আধুনিকতার ছোঁয়ায় বদলে গেছে কর্মপদ্ধতি

সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুর উপজেলা তাঁতশিল্প সমৃদ্ধ একটি উপজেলা। এ উপজেলার প্রায় ৭৫% মানুষ কোনো না কোনোভাবে তাঁতশিল্পের সাথে জড়িত। তবে আধুনিকতার ছোঁয়ায় বদলে গেছে কর্মপদ্ধতি, বদলে গেছে জীবনমান।
এ অঞ্চলের পুরুষ থেকে নারী, শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই তাঁতি পেশার সাথে সম্পৃক্ত এবং অধিকাংশ ব্যবসা তাঁতিদের তৈরি কাপড়ের ব্যবসার উপর নির্ভরশীল। তাঁতিদের কাপড় তৈরির সবচেয়ে বড় ঐতিহ্য ছিল কাঠের তৈরি তাঁতে হাতে বুনিয়ে কাপড় তৈরি করা। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় এগুলো এখন বিলুপ্তপ্রায়। বর্তমান সময়ে বিদ্যুৎ চালিত তাঁতশিল্প তাঁতিদের কাছে অধিক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এতে অনেক উন্নতমানের কাপড় লুঙ্গি-শাড়ি তৈরি হওয়ার দেশ ও বিদেশে প্রচুর জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। তবে বৈদ্যুতিক পদ্ধতিতে তৈরি মেশিনের কারনে অনেকে হারিয়েছে কর্মসংস্থান। আগেকার সময়ে একটি কাঠের তৈরি তাঁতে একজন শ্রমিক কাজ করতো আর বর্তমান সময়ে বৈদ্যুতিক পদ্ধতিতে তৈরি পাওয়ারলুম নামক মেশিনে একজন শ্রমিক দুইটি মেশিনে কাপড় তৈরি করে থাকে। এতে নিম্নবিত্ত মানুষেরা কর্মহীন হয়ে পড়লেও লাভবান হচ্ছে বৈদ্যুতিক পদ্ধতিতে তৈরি পাওয়ারলুম নামক মেশিন তৈরিকৃত কাপড় ব্যবসায়ীরা।
এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলার খুকনী গ্রামের তাঁত শ্রমিকরা বলেন, আগের তুলনায় এখন ইনকাম বেশি হচ্ছে। কারণ তারা দুইটি মেশিনে কাপড় তৈরি করছে একজন শ্রমিক। তবে বাজার সকল কিছুর মূল্যের তুলনায় তাদের মজুরি কম বলে জানান তাঁত শ্রমিকরা।
এ ব্যাপারে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ীরা জানান, আগের তুলনায় এখন কাপড় উৎপাদনে খরচ বেরেছে। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ফলে তারা লাভবান হতে পারছেন না বলে জানান। তারা বলেন আগেকার দিনের কাঠের তৈরি তাঁতে উন্নতমানের কাপড় তৈরি সম্ভব না। তাঁত মালিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, উৎপাদন খরচ বেশি আমাদের কিছুই থাকে না বাজারে গেলে কাপড় বিক্রি করতে পারি না সব কিছুর দাম বেশি। খরচ বেশি হলেও কিছু করার নেই আমাদের।
জনপ্রিয়

শহরকে সুন্দর রাখতে খালের পাড়ে ও যত্রতত্র ময়লা না ফেলার আহ্বান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের

হারিয়ে যাচ্ছে হাতে বুনা তাঁতশিল্প, আধুনিকতার ছোঁয়ায় বদলে গেছে কর্মপদ্ধতি

প্রকাশের সময় : ০২:১৫:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪
সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুর উপজেলা তাঁতশিল্প সমৃদ্ধ একটি উপজেলা। এ উপজেলার প্রায় ৭৫% মানুষ কোনো না কোনোভাবে তাঁতশিল্পের সাথে জড়িত। তবে আধুনিকতার ছোঁয়ায় বদলে গেছে কর্মপদ্ধতি, বদলে গেছে জীবনমান।
এ অঞ্চলের পুরুষ থেকে নারী, শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই তাঁতি পেশার সাথে সম্পৃক্ত এবং অধিকাংশ ব্যবসা তাঁতিদের তৈরি কাপড়ের ব্যবসার উপর নির্ভরশীল। তাঁতিদের কাপড় তৈরির সবচেয়ে বড় ঐতিহ্য ছিল কাঠের তৈরি তাঁতে হাতে বুনিয়ে কাপড় তৈরি করা। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় এগুলো এখন বিলুপ্তপ্রায়। বর্তমান সময়ে বিদ্যুৎ চালিত তাঁতশিল্প তাঁতিদের কাছে অধিক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এতে অনেক উন্নতমানের কাপড় লুঙ্গি-শাড়ি তৈরি হওয়ার দেশ ও বিদেশে প্রচুর জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। তবে বৈদ্যুতিক পদ্ধতিতে তৈরি মেশিনের কারনে অনেকে হারিয়েছে কর্মসংস্থান। আগেকার সময়ে একটি কাঠের তৈরি তাঁতে একজন শ্রমিক কাজ করতো আর বর্তমান সময়ে বৈদ্যুতিক পদ্ধতিতে তৈরি পাওয়ারলুম নামক মেশিনে একজন শ্রমিক দুইটি মেশিনে কাপড় তৈরি করে থাকে। এতে নিম্নবিত্ত মানুষেরা কর্মহীন হয়ে পড়লেও লাভবান হচ্ছে বৈদ্যুতিক পদ্ধতিতে তৈরি পাওয়ারলুম নামক মেশিন তৈরিকৃত কাপড় ব্যবসায়ীরা।
এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলার খুকনী গ্রামের তাঁত শ্রমিকরা বলেন, আগের তুলনায় এখন ইনকাম বেশি হচ্ছে। কারণ তারা দুইটি মেশিনে কাপড় তৈরি করছে একজন শ্রমিক। তবে বাজার সকল কিছুর মূল্যের তুলনায় তাদের মজুরি কম বলে জানান তাঁত শ্রমিকরা।
এ ব্যাপারে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ীরা জানান, আগের তুলনায় এখন কাপড় উৎপাদনে খরচ বেরেছে। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ফলে তারা লাভবান হতে পারছেন না বলে জানান। তারা বলেন আগেকার দিনের কাঠের তৈরি তাঁতে উন্নতমানের কাপড় তৈরি সম্ভব না। তাঁত মালিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, উৎপাদন খরচ বেশি আমাদের কিছুই থাকে না বাজারে গেলে কাপড় বিক্রি করতে পারি না সব কিছুর দাম বেশি। খরচ বেশি হলেও কিছু করার নেই আমাদের।