শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বুড়িগঙ্গা নদীর ঘাট দখল করে টোল আদায় করছে একটি মহল

কেরানীগঞ্জের ব্রাহ্মণগাও এলাকা থেকে বসিলা সেতু এলাকা পর্যন্ত কেরানীগঞ্জ প্রান্তের সকল খেয়া নৌকা ঘাট গুলোতে গত পাঁচ তারিখের পর থেকে টোল মুক্ত ছিল। এলাকার সাধারণ মানুষ খেয়া নৌকা দিয়ে এই ঘাট গুলো দিয়ে পার হয়ে আসছিল। হঠাৎ করেই বুড়িগঙ্গা নদীর কেরানীগঞ্জ অংশের কয়েকটি ঘাট দখল করে টোল আদাই শুরু করেছে একটি মহল । এলাকাবাসী এই প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন সরকারি নিয়ম তো ওয়াক্কা না করে ইচ্ছা মাফিক যাওয়া আসা দুইবারই টাকা তুলছেন এই খেয়া নৌকার ঘাট গুলো থেকে। যা অবৈধ বলে জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

এলাকার ব্যবসায়ীরা বলেন, গত পাঁচ আগস্ট তারিখ দেশের পট পরিবর্তনের সময় এই এলাকার সকল সকল খেয়া নৌকার ঘাট গুলো যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত ছিল । দীর্ঘদিন যাবত এলাকার মানুষ খেয়া ঘাট গুলোর টোল আদায় ঘরে বিভিন্ন সময় নির্যাতিত ও অপমানিত হয়েছে টোল দেয়া নেয়া নিয়ে । কেরানীগঞ্জের আগানগর এলাকায় হঠাৎ করেই টিনের ছাউনি দিয়ে বসে পড়েছে কিছু লোক টোল আদায়ের জন্য। কয়েকদিন আগেও এই ঘাট দিয়ে মানুষ টোল ফ্রি অবস্থায় বুড়িগঙ্গা নদী পার হতে পেরেছেন। বুড়িগঙ্গা নদীর তেলঘাট থেকে বসিল সেতু এলাকার অধিকাংশ ঘাট দিয়ে এলাকাবাসী টোল ফ্রি অবস্থায় যাতায়াত করতে পারলেও কতিপয় লোক কয়েকটি ঘাট নিজেদের ইজারা বলে চালিয়ে দিয়ে আসছে । ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তন এবং নতুনভাবে স্বাধীন হয় এ দেশ। ওই সময় ঘাটে সরকার দলীয় লোকজনের দখলে ছিল ঘাট গুলো । ৫ আগস্টের পর ঘাট গুলো মুক্তি পায় স্বৈরাচারের দোসরদের হাত থেকে । টো মুক্ত হয়ে যায় জনগণের যাতায়াতের জন্য । এদিকে আজ বিকেলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বড় মার্কেট বলে পরিচিত কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী এলাকায় সাধারণ ব্যবসায়ীরা এই অন্যায় ভাবে টোল আদায়ের প্রতিবাদে মার্কেটে মার্কেটে লিখিতভাবে লিফলেট ও প্রতিবাদ লিপি প্রচার করছেন । ব্যবসায়ীরা লিখিত প্রতিবাদ লিপিতে বলেছেন, গার্মেন্টস এলাকার আশেপাশের ওয়াইজঘাট খাজা মার্কেট ,জেলা পরিষদ মার্কেট ,আলম মার্কেট, আলম মল, আলম টাওয়ার, আগানগর এলাকার সকল খেয়া নৌকা পারাপারের টোল আদায় বন্ধ ছিল । হঠাৎ করেই একশ্রেণীর লোক এই খেয়া ঘাট গুলোতে নিজেদের ইচ্ছামাফিক লোক বসিয়ে যাতায়াতকারী এলাকাবাসীর কাছ থেকে ট্রোল আদায় করছে।

এ ব্যাপারে আগানগর এলাকায় টোল আদায়কারীর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমাদের আগে থেকেই ইজারা রয়েছে। কিন্তু এলাকার সাধারণ মানুষ বলছেন সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে সকল ইযারা বাতিল হয়েছে, নতুন করে কোন ইজারা দেওয়া হয়নি বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে বলে তারা জানতে পেরেছেন । তাদের এই টোল নেয়া আইন সংগত নয় এবং অবৈধ। নতুন এই সরকারের সময় কোন ঘাট নিয়ে টেন্ডার হয়নি । তারা কিসের বলে এই ধরনের টোল আদায় করছে তা খতিয়ে দেখার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও বিআইডবউটিএ এর দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন স্থানীয় গ্রামবাসী ও ব্যবসায়ীরা। কেরানীগঞ্জ ব্যবসায়ী ইউনিট নামে প্রচারিত লিফলেটে ব্যবসায়ীরা বলেছেন, দীর্ঘদিন যাবত এলাকার বিভিন্ন খেয়াঘাট দিয়ে পারাপারের সময় খাজনা নামক টাকা উত্তোলনের সময় সারা দেশ থেকে আগত ক্রেতা ও জনসাধারণের সাথে ঘাটের টোটাল আদায়কারীরা অমানবিক আচরণ করে সাধারণ মানুষের সাথে ।তাদের সাথে দূর ব্যবহার এর কারণে অনেক সময় হার্ট এলাকায় মারামারি ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে প্রায় । কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস এলাকা থেকে যারা মাল ক্রয় করতে আগ্রহ পোষণ করেন তাদেরকে ঢাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর পার হয়ে আসার সময় বিভিন্ন হেনস্থার শিকার হতে হয় । এই কারণেই কেরানীগঞ্জ রেডিমেড গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের ব্যবসা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই এলাকায় সারা দেশের লোকাল গার্মেন্টস নামে পরিচিত গুদারাঘাট এলাকাটি ক্রেতা শূন্য হয়ে পড়ছে দিন দিন । একেতো ব্যবসা নেই তার উপরে টোল বা খাজনা আদায়ের মতো যন্ত্রণা নতুন করে ব্যবসায়ীদেরকে ভাবিয়ে তুলেছে।

এ প্রেক্ষিতে কেরানীগঞ্জের ঘাট সংলগ্ন মার্কেটগুলো ব্যবসায়ীরা পরেছে চরম বিপাকে। তাই তারা বুড়িগঙ্গার এই খেয়া ঘাট গুলোকে জনগণের যাতায়াতের সুবিধার্থে টোল ফ্রির দাবি করেছেন প্রশাসনের কাছে ।

জনপ্রিয়

যশোরে দ্রুত বিচার মামলার আসামি রুবেল ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার

বুড়িগঙ্গা নদীর ঘাট দখল করে টোল আদায় করছে একটি মহল

প্রকাশের সময় : ০৭:৫০:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪

কেরানীগঞ্জের ব্রাহ্মণগাও এলাকা থেকে বসিলা সেতু এলাকা পর্যন্ত কেরানীগঞ্জ প্রান্তের সকল খেয়া নৌকা ঘাট গুলোতে গত পাঁচ তারিখের পর থেকে টোল মুক্ত ছিল। এলাকার সাধারণ মানুষ খেয়া নৌকা দিয়ে এই ঘাট গুলো দিয়ে পার হয়ে আসছিল। হঠাৎ করেই বুড়িগঙ্গা নদীর কেরানীগঞ্জ অংশের কয়েকটি ঘাট দখল করে টোল আদাই শুরু করেছে একটি মহল । এলাকাবাসী এই প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন সরকারি নিয়ম তো ওয়াক্কা না করে ইচ্ছা মাফিক যাওয়া আসা দুইবারই টাকা তুলছেন এই খেয়া নৌকার ঘাট গুলো থেকে। যা অবৈধ বলে জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

এলাকার ব্যবসায়ীরা বলেন, গত পাঁচ আগস্ট তারিখ দেশের পট পরিবর্তনের সময় এই এলাকার সকল সকল খেয়া নৌকার ঘাট গুলো যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত ছিল । দীর্ঘদিন যাবত এলাকার মানুষ খেয়া ঘাট গুলোর টোল আদায় ঘরে বিভিন্ন সময় নির্যাতিত ও অপমানিত হয়েছে টোল দেয়া নেয়া নিয়ে । কেরানীগঞ্জের আগানগর এলাকায় হঠাৎ করেই টিনের ছাউনি দিয়ে বসে পড়েছে কিছু লোক টোল আদায়ের জন্য। কয়েকদিন আগেও এই ঘাট দিয়ে মানুষ টোল ফ্রি অবস্থায় বুড়িগঙ্গা নদী পার হতে পেরেছেন। বুড়িগঙ্গা নদীর তেলঘাট থেকে বসিল সেতু এলাকার অধিকাংশ ঘাট দিয়ে এলাকাবাসী টোল ফ্রি অবস্থায় যাতায়াত করতে পারলেও কতিপয় লোক কয়েকটি ঘাট নিজেদের ইজারা বলে চালিয়ে দিয়ে আসছে । ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তন এবং নতুনভাবে স্বাধীন হয় এ দেশ। ওই সময় ঘাটে সরকার দলীয় লোকজনের দখলে ছিল ঘাট গুলো । ৫ আগস্টের পর ঘাট গুলো মুক্তি পায় স্বৈরাচারের দোসরদের হাত থেকে । টো মুক্ত হয়ে যায় জনগণের যাতায়াতের জন্য । এদিকে আজ বিকেলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বড় মার্কেট বলে পরিচিত কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী এলাকায় সাধারণ ব্যবসায়ীরা এই অন্যায় ভাবে টোল আদায়ের প্রতিবাদে মার্কেটে মার্কেটে লিখিতভাবে লিফলেট ও প্রতিবাদ লিপি প্রচার করছেন । ব্যবসায়ীরা লিখিত প্রতিবাদ লিপিতে বলেছেন, গার্মেন্টস এলাকার আশেপাশের ওয়াইজঘাট খাজা মার্কেট ,জেলা পরিষদ মার্কেট ,আলম মার্কেট, আলম মল, আলম টাওয়ার, আগানগর এলাকার সকল খেয়া নৌকা পারাপারের টোল আদায় বন্ধ ছিল । হঠাৎ করেই একশ্রেণীর লোক এই খেয়া ঘাট গুলোতে নিজেদের ইচ্ছামাফিক লোক বসিয়ে যাতায়াতকারী এলাকাবাসীর কাছ থেকে ট্রোল আদায় করছে।

এ ব্যাপারে আগানগর এলাকায় টোল আদায়কারীর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমাদের আগে থেকেই ইজারা রয়েছে। কিন্তু এলাকার সাধারণ মানুষ বলছেন সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে সকল ইযারা বাতিল হয়েছে, নতুন করে কোন ইজারা দেওয়া হয়নি বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে বলে তারা জানতে পেরেছেন । তাদের এই টোল নেয়া আইন সংগত নয় এবং অবৈধ। নতুন এই সরকারের সময় কোন ঘাট নিয়ে টেন্ডার হয়নি । তারা কিসের বলে এই ধরনের টোল আদায় করছে তা খতিয়ে দেখার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও বিআইডবউটিএ এর দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন স্থানীয় গ্রামবাসী ও ব্যবসায়ীরা। কেরানীগঞ্জ ব্যবসায়ী ইউনিট নামে প্রচারিত লিফলেটে ব্যবসায়ীরা বলেছেন, দীর্ঘদিন যাবত এলাকার বিভিন্ন খেয়াঘাট দিয়ে পারাপারের সময় খাজনা নামক টাকা উত্তোলনের সময় সারা দেশ থেকে আগত ক্রেতা ও জনসাধারণের সাথে ঘাটের টোটাল আদায়কারীরা অমানবিক আচরণ করে সাধারণ মানুষের সাথে ।তাদের সাথে দূর ব্যবহার এর কারণে অনেক সময় হার্ট এলাকায় মারামারি ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে প্রায় । কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস এলাকা থেকে যারা মাল ক্রয় করতে আগ্রহ পোষণ করেন তাদেরকে ঢাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর পার হয়ে আসার সময় বিভিন্ন হেনস্থার শিকার হতে হয় । এই কারণেই কেরানীগঞ্জ রেডিমেড গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের ব্যবসা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই এলাকায় সারা দেশের লোকাল গার্মেন্টস নামে পরিচিত গুদারাঘাট এলাকাটি ক্রেতা শূন্য হয়ে পড়ছে দিন দিন । একেতো ব্যবসা নেই তার উপরে টোল বা খাজনা আদায়ের মতো যন্ত্রণা নতুন করে ব্যবসায়ীদেরকে ভাবিয়ে তুলেছে।

এ প্রেক্ষিতে কেরানীগঞ্জের ঘাট সংলগ্ন মার্কেটগুলো ব্যবসায়ীরা পরেছে চরম বিপাকে। তাই তারা বুড়িগঙ্গার এই খেয়া ঘাট গুলোকে জনগণের যাতায়াতের সুবিধার্থে টোল ফ্রির দাবি করেছেন প্রশাসনের কাছে ।