বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জবিতে আর কোন ব্যক্তিপূজা চাচ্ছেন না শিক্ষার্থীরা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে খালেদা জিয়ার ম্যুরাল ও ছবি সম্বলিত নাম ফলক স্থাপন নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা ম্যুরাল ও ছবি স্থাপনের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন ব্যক্তিপূজার সংস্কৃতি মেনে নিবে না বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ম্যুরাল নই, শুধু ছবি সম্বলিত নাম ফলক বসানোর কথা বলা হয়।
মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে খালেদা জিয়ার ম্যুরাল স্থাপন নিয়ে জবি শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে কিছু শিক্ষার্থী।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবারের মধ্যে এই ম্যুরাল ও ছবি স্থাপনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসলে বুধবার এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করা হবে বলে জানান। রোববার সেই গণস্বাক্ষরসহ শিক্ষা উপদেষ্টা বরাবর অভিযোগ জমা দেয়ার কথা জানান। এছাড়া দাবি আদায়ে সেই সাথে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার ঘোষণাও দেন শিক্ষার্থীরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের ১৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী এ কে এম রাকিব বলেন, সম্প্রতি আমরা লক্ষ করেছি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ২০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রায় ১১ ফুট দৈর্ঘ্যের ম্যুরাল স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা বলতে চাই, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি খালেদার জিয়ার অবদান আমরাও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। আমরা চাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অবশ্যই তার কোনো স্মৃতি থাকুক। ফ্যাসিবাদ আমলে তার নামের যে নামফলক ভেঙে ফেলা হয়েছে সেটা সুন্দরভাবে গড়ে তোলাই হতে পারে তার স্মৃতিরক্ষার জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেই পথে না হেটে বরং হাঁটছেন স্বৈরাচার হাসিনার দেখানো পথে। হাসিনা যেমন স্থানে স্থানে ম্যুরাল নির্মাণ করে ব্যক্তিপূজার রীতি চালু করেছিল, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও এখন সেই পথে হাটছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুনরায় ব্যক্তিপূজার রীতি শুরু করে তাদের রাজনৈতিক ফায়দা আদায়ের চেষ্টা করছে বলে আমরা মনে করছি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন নতুন ব্যক্তিপূজা শুরু হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ইংরেজি বিভাগের ১৩ ব্যাচের ফরহাদ হোসেন, লোক প্রশাসন বিভাগের ১৬ ব্যাচের স্বর্ণা আক্তার রিয়া, ইংরেজি বিভাগের ১৭ ব্যাচের সিফাত হাসান সাকিব প্রমুখ।
এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, প্রশাসনিক ভবনের সামনে ছোট নাম ফলক হবে, মূর্তির মত কিছু থাকবোমে না। যার স্মৃতি ফলক স্থাপন করা হচ্ছে, তিনি যদি জানেন, তার একটি স্মৃতি ফলক স্থাপন নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে, তাহলে অবশ্যই তিনি নিজে কষ্ট পাবেন।
ম্যুরাল স্থাপনের বিষয়ে জবির শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট বিষয় সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে ম্যুরাল সংস্কৃতির বিরুদ্ধে। এটা কোন ম্যুরাল নই। শুধু ছবি সম্বলিত নাম ফলক।
জনপ্রিয়

টাকা দিয়ে ভোট কেনা জামায়াতের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ও আচরণবিধির লঙ্ঘন: মাহদী আমিন

জবিতে আর কোন ব্যক্তিপূজা চাচ্ছেন না শিক্ষার্থীরা

প্রকাশের সময় : ১০:০২:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ অক্টোবর ২০২৪
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে খালেদা জিয়ার ম্যুরাল ও ছবি সম্বলিত নাম ফলক স্থাপন নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা ম্যুরাল ও ছবি স্থাপনের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন ব্যক্তিপূজার সংস্কৃতি মেনে নিবে না বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ম্যুরাল নই, শুধু ছবি সম্বলিত নাম ফলক বসানোর কথা বলা হয়।
মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে খালেদা জিয়ার ম্যুরাল স্থাপন নিয়ে জবি শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে কিছু শিক্ষার্থী।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবারের মধ্যে এই ম্যুরাল ও ছবি স্থাপনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসলে বুধবার এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করা হবে বলে জানান। রোববার সেই গণস্বাক্ষরসহ শিক্ষা উপদেষ্টা বরাবর অভিযোগ জমা দেয়ার কথা জানান। এছাড়া দাবি আদায়ে সেই সাথে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার ঘোষণাও দেন শিক্ষার্থীরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের ১৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী এ কে এম রাকিব বলেন, সম্প্রতি আমরা লক্ষ করেছি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ২০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রায় ১১ ফুট দৈর্ঘ্যের ম্যুরাল স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা বলতে চাই, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি খালেদার জিয়ার অবদান আমরাও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। আমরা চাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অবশ্যই তার কোনো স্মৃতি থাকুক। ফ্যাসিবাদ আমলে তার নামের যে নামফলক ভেঙে ফেলা হয়েছে সেটা সুন্দরভাবে গড়ে তোলাই হতে পারে তার স্মৃতিরক্ষার জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেই পথে না হেটে বরং হাঁটছেন স্বৈরাচার হাসিনার দেখানো পথে। হাসিনা যেমন স্থানে স্থানে ম্যুরাল নির্মাণ করে ব্যক্তিপূজার রীতি চালু করেছিল, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও এখন সেই পথে হাটছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুনরায় ব্যক্তিপূজার রীতি শুরু করে তাদের রাজনৈতিক ফায়দা আদায়ের চেষ্টা করছে বলে আমরা মনে করছি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন নতুন ব্যক্তিপূজা শুরু হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ইংরেজি বিভাগের ১৩ ব্যাচের ফরহাদ হোসেন, লোক প্রশাসন বিভাগের ১৬ ব্যাচের স্বর্ণা আক্তার রিয়া, ইংরেজি বিভাগের ১৭ ব্যাচের সিফাত হাসান সাকিব প্রমুখ।
এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, প্রশাসনিক ভবনের সামনে ছোট নাম ফলক হবে, মূর্তির মত কিছু থাকবোমে না। যার স্মৃতি ফলক স্থাপন করা হচ্ছে, তিনি যদি জানেন, তার একটি স্মৃতি ফলক স্থাপন নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে, তাহলে অবশ্যই তিনি নিজে কষ্ট পাবেন।
ম্যুরাল স্থাপনের বিষয়ে জবির শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট বিষয় সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে ম্যুরাল সংস্কৃতির বিরুদ্ধে। এটা কোন ম্যুরাল নই। শুধু ছবি সম্বলিত নাম ফলক।